কিশোরগঞ্জে জায়গা দখলকে কেন্দ্র করে দোকানপাট ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় প্রতিপক্ষের কাছ থেকে ৩০ হাজার টাকা ঘুষ গ্রহণের অভিযোগ উঠেছে ভৈরব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুবুর রহমানের বিরুদ্ধে।
গত ৩ অক্টোবর বিকেল ৪টা ১২ মিনিটে প্রতিপক্ষ মুর্শেদ মিয়ার নাম্বার থেকে ওসি মাহবুবুর রহমানের ব্যক্তিগত মোবাইল ব্যাংকিং নম্বরে ৩০ হাজার টাকা সেন্ডমানি করা হয়। লেনদেনের ট্রানজেকশন আইডিসহ ওই লেনদেনের একটি স্ক্রিনশট দেখা গেছে।
খোঁজ নিয়ে জানাযায়, ৩ অক্টোবর বেলা ১১টার দিকে দুপক্ষের জায়গা নিয়ে দ্বন্দ্বের জেরে প্রতিপক্ষ মুর্শেদ মিয়ার লোকজন পৌর শহরের কমলপুর মনির কন্টাক্টরে বাড়ি ও দোকানের জায়গা দখল নিতে ভাঙচুর ও লুটপাট চালায়। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল লতিফ ও হাবিবুর রহমানের পক্ষ থেকে থানায় ফোন করে অবগত করলেও পুলিশ ঘটনাস্থলে আসতে প্রায় এক ঘণ্টা সময়ক্ষেপণ করে।
পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে এলেও রাস্তার পশ্চিমপাশে দাঁড়িয়ে থাকেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
ভুক্তভোগীদের দাবি, এ ঘটনায় থানা পুলিশ যেন ঘটনাস্থলে না আসে প্রতিপক্ষ মুর্শেদ মিয়া ও তার লোকজন ওসির সঙ্গে যোগাযোগ করেন। ওইদিন বিকেল ৪টা ১২ মিনিটে মুর্শেদ মিয়ার নাম্বার থেকে ওসি মাহবুবুর রহমানের ব্যক্তিগত নম্বরে ৩০ হাজার টাকা সেন্ডমানি করা হয়।
ভুক্তভোগী মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল লতিফ মিয়া জানান, তাদের দখলীয় বাড়ি ও দোকানপাট ভাঙচুর-লুটপাটের ঘটনায় প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ জমা দিতে গেলে ওসি তা গ্রহণ করেননি। প্রায় একসপ্তাহ ওসির কাছে ঘুরেও মামলা করতে না পেরে পরে কিশোরগঞ্জ আদালতে মামলা করা হয়।
ওসি মো. মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘আমার নম্বরে বিকাশ অ্যাকাউন্ট খোলা রয়েছে, তবে কোনো লেনদেন করা হয়নি। গত ৩ অক্টোবর আমার নম্বরে কে বা কারা টাকা পাঠিয়েছে; তা আমি এখনো দেখিনি। আমার বিরুদ্ধে ঘুষের অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন।’
ভৈরব সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার আবু মুছা শেখ বলেন, ঘটনাটি শুনেছি; বিকাশে টাকা লেনদেন হয়েছে। যদি অভিযোগ আসে, সেটা যে কেউ করতে পারে; আপনিও সাংবাদিক হিসেবে অভিযোগ করতে পারবেন। তখন সেটা যাচাই-বাছাই করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবগত করব।
