বয়স তাঁর ২৩ বছর। অ্যাকাউন্টিংয়ের ছাত্রী। সামনেই পড়ে ছিল উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ। কিন্তু সেই জীবনে আচমকাই নেমে আসতে চলেছে যতিচিহ্ন। নাজমে আমিনি নাম্নী সেই তরুণীকে মৃত্যুদণ্ডের সাজা শুনিয়েছে আদালত। তাঁর অপরাধ তিনি ধর্মীয় অবমাননা করেছে। ফৌজদারি আদালতে পৃথক দু’টি মামলায় তাঁকে ১২ বছরের বেশি কারাদণ্ড ও মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। ইরানি আইন বলছে, ধর্মের অবমাননা করলেই পেতে হবে মৃত্যুদণ্ড। আর সেই আইন অনুযায়ীই, মৃত্যুর মুখে আমিনি।
মানবাধিকার সংগঠন সূত্রে জানা যাচ্ছে, তিনি ইরানের মাশহাদের বাসিন্দা। জেল থেকে একটি অডিও বার্তায় তিনি জানিয়েছেন, গত ১৬ সেপ্টেম্বর তাঁকে মৃত্যুদণ্ডের সাজা শোনানো হয়েছে। তবে এই রায় এখনও চূড়ান্ত নয়। সম্ভবত ইরানের সুপ্রিম কোর্টের কাছে শাস্তি মকুবের আবেদন করবেন আমিনি। সেখানেও যদি সাড়া না মেলে তাহলে চূড়ান্ত হবে মৃত্যুদণ্ডের তারিখ।
গত ৩১ জানুয়ারি আমিনিকে গ্রেপ্তার করেছিল ইরানের নিরাপত্তা বাহিনী। সেই সময় দেশজুড়ে কট্টরপন্থীদের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ প্রদর্শন শুরু হয়েছিল। সোশাল মিডিয়ায় ধর্মীয় অবমাননামূলক পোস্ট করার অভিযোগ রয়েছে আমিনির বিরুদ্ধে। গ্রেপ্তারের পর থেকেই মাশহাদের কুখ্যাত জেল ভাকিলাবাদে বন্দি করা হয় তাঁকে। দাবি, সেই লাগাতার নির্মম শারীরিক নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে আমিনিকে। জানা যাচ্ছে, প্রায় তিন মাস তিনি একটি নির্জন কক্ষে বন্দি ছিলেন। বন্দির মৌলিক অধিকারও রক্ষিত হয়নি বলে দাবি। বলে রাখা দরকার, ইরানে কট্টরপন্থীদের বিরুদ্ধে আন্দোলনে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল ৫০ হাজারেরও বেশি দেশবাসীকে। অন্তত ৭ হাজার জনকে মেরে ফেলা হয়েছে। তেমনই দাবি মানবাধিকার সংস্থাগুলির। যাকে ঘিরে ইরানে বন্দিদের উপরে হওয়া নির্যাতনের দীর্ঘকালীন অভিযোগে নতুন করে আলো পড়েছে।
আমিনির বিরুদ্ধে আনা হয়েছিল একাধিক অভিযোগ। যার মধ্যে ঈশ্বরের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ, সুপ্রিম লিডারকে অস্বীকার, শত্রু দেশ ইজরায়েলের সঙ্গে যোগাযোগের মতো একাধিক ধারা রয়েছে। যদিও আমিনির দাবি, বন্ধুদের সঙ্গে ‘সাইকোডেলিক মাশরুম’ খাওয়ার পরে নেশাগ্রস্ত হয়েই তিনি এই কাজ করেছেন। কিন্তু আদালত তাঁকে শেষপর্যন্ত মৃত্যুদণ্ডের সাজা শুনিয়েছে।
সাজাদানের খবর দেওয়ার সময় অডিও মেসেজে আমিনি বলেছেন, ””আমি আজ নিজেকে কোনও বীরাঙ্গনা হিসেবে তুলে ধরতে চাই না। আমি কেবল একটি জিনিসই চাই, তোমরা আমার কণ্ঠস্বর হয়ে ওঠো। আমি এক নিষ্পাপ তরুণী, যার মনে রয়েছে অনেক আশা আর স্বপ্ন। আমার বাবা-মা আমার অপেক্ষায় আছেন। এমন একটি পরিবার, যারা প্রতি রাতে আমাকে হারানোর ভয়ে নির্ঘুম রাত কাটিয়ে ভোর পর্যন্ত জেগে থাকে।”
