এক সপ্তাহ জেলে থাকার পর অবশেষে ছাড়া পেয়েছেন ককরোচ জনতা পার্টির দুই নেতা আশুতোষ রাঙ্কা এবং সৌরভ দাস। বুধবার বিকেলে তাঁদের জামিন মঞ্জুর হয়েছে। জানা গিয়েছে, একগুচ্ছ শর্ত বেঁধে দেওয়া হয়েছে দুই ককরোচ নেতাকে। তার মধ্যে অন্যতম, যন্তর মন্তরে কোনওরকম প্রতিবাদ করবেন না তাঁরা। এছাড়াও আগামী দিনে শান্তিভঙ্গকারী কার্যকলাপ থেকেও দূরে থাকার প্রতিজ্ঞা করেছেন আশুতোষ এবং সৌরভ।
যন্তর মন্তরকে প্রতিবাদস্থলের তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার পরেও সেখানে ঢুকে জাতীয় পতাকা উড়িয়েছিলেন সিজেপি কর্মীরা। সেই কারণেই দুই নেতাকে সাতদিন রাখা হয় তিহাড় জেলে। তারপর বুধবার স্পেশাল এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটের এজলাসে জামিন চেয়ে একই বয়ান দিয়েছেন সৌরভ এবং আশুতোষ। বলেছেন, ‘শান্তি বজায় রাখা এবং আইনশৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে আমরা বদ্ধপরিকর। তাই যন্তর মন্তরে বিনা অনুমতিতে কোনও প্রতিবাদ কর্মসূচির ডাক দেব না।’ সংবিধান মেনেই যাবতীয় প্রতিবাদ করবেন বলেও জানিয়েছেন দুই ককরোচ নেতা। মাথাপিছু ৫০ হাজার টাকার ব্যক্তিগত বন্ডেও সই করেছেন তাঁরা। জামিন পেলেও দু’জনের বিরুদ্ধে চলবে তদন্ত।
#WATCH | Delhi: CJP leaders Saurav Das and Ashutosh Ranka come out of Tihar Jail after the SEM Court ordered their release. https://t.co/8EXwD6t7Al
— ANI (@ANI) October 21, 2026
বুধবার বিকেলে জামিন মঞ্জুর হওয়ার পর রাতের বেলা তিহাড় জেল থেকে দুই নেতাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গিতে আশুতোষ জানান, তিহাড় জেলের খাবার বেশ ভালো। তবে জেলযাত্রা সত্ত্বেও মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের ইস্তফার দাবি থেকে একচুল নড়েননি দুই নেতা। ককরোচ জনতা পার্টি সোশাল মিডিয়ায় পোস্ট করা ভিডিওতে তাঁরা বলছেন, ‘ভারতমাতা কি জয়। ইনকিলাব জিন্দাবাদ। জ্ঞানু (জ্ঞানেশ কুমার) মাস্ট গো।’ জানা গিয়েছে, দুই নেতাকে আরও তিনদিন জেল হেফাজতে রাখার আবেদন জানিয়েছিল দিল্লি পুলিশ। তবে সেই আবেদন ধোপে টেকেনি।
উল্লেখ্য, যন্তর মন্তরকে নির্ধারিত বিক্ষোভস্থলের তালিকা থেকে সরিয়ে দিয়েছে দিল্লি পুলিশ। কিন্তু তারপর গত ১৩ অক্টোবর ব্যারিকেড টপকে সেখানে প্রবেশ করে প্রতিবাদ কর্মসূচি করেন সৌরভ-আশুতোষরা। ছিলেন অন্যান্য সিজেপি নেতারাও। জাতীয় পতাকা উড়িয়ে স্লোগান দেন তাঁরা। এরপরই পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হন সিজেপি নেতারা। তবে অন্যান্যদের ছেড়ে দিলেও সৌরভ এবং আশুতোষকে মুক্তি দেওয়া হয়নি। স্পেশাল এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট তাঁদের পাঁচ দিনের বিচারবিভাগীয় হেফাজতে পাঠান। পরে সেই মেয়াদ আরও ২ দিন বৃদ্ধি করা হয়। অবশেষে জামিন পেলেন তাঁরা।
