পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার ২ নং শ্রীরামপুর ইউনিয়নে রাসায়নিক সারের (বিসিআইসি/বিএডিসি) ডিলারশিপ বরাদ্দ দেওয়া নিয়ে তীব্র বিতর্ক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। নীতিমালার তোয়াক্কা না করে রাজনৈতিক প্রভাবে দুমকি উপজেলা ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও 'দুমকি বীজ ভান্ডার'-এর প্রোপাইটার মোহাম্মদ সাঈদ হাসানকে এই ডিলারশিপ দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয় ব্যবসায়ী ও কৃষকদের সূত্র জানায়, সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী সারের ডিলারশিপ পাওয়ার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কৃষি ব্যবসায় অভিজ্ঞতা, আর্থিক স্বচ্ছতা এবং অরাজনৈতিক ও স্বচ্ছ ভাবমূর্তির প্রকৃত ব্যবসায়ীদের অগ্রাধিকার দেওয়ার নিয়ম রয়েছে। কিন্তু অভিযোগ উঠেছে, সব নিয়ম-নীতি উপেক্ষা করে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে ক্ষমতাসীন দলীয় পদধারী এক নেতার মাধ্যমে এই ডিলারশিপ পাইয়ে দেওয়া হয়েছে।
রাজনৈতিক পরিচয়ে সারের ডিলারশিপ দেওয়ায় ভবিষ্যতে সার বিতরণ ও ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে নানা অনিয়মের আশঙ্কা করছেন স্থানীয় কৃষকদের।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক স্হানীয় বাসিন্দা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সারের মতো অত্যন্ত স্পর্শকাতর ও গুরুত্বপূর্ণ কৃষি পণ্যের ডিলারশিপ রাজনৈতিক পরিচয়ে দেওয়া হলে মাঠপর্যায়ে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে সরকারকে বিতর্কে ফেলার সম্ভাবনা রয়েছে। সাধারণ কৃষকদের ভোগান্তি ও দুর্ভোগ কেবলই বাড়বে।
তবে ডিলার সাঈদ হাসান নিজের বিরুদ্ধে ওঠা সব অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি বলেন, কেন্দ্রীয় যুবলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মতিউর রহমান বাদশা আমার ক্লোজ বড় ভাই, তার সাথে আমার চলাফেরা ছিল সত্য। তবে আমি সরাসরি কোনো রাজনীতির সাথে জড়িত নই। সরকারি নিয়ম ও নীতিমালার সকল শর্ত পূরণ করে যথাযথ আবেদন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তিনি এই ডিলারশিপ পেয়েছেন উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, এতে কোনো দলীয় প্রভাব বা অনিয়মের আশ্রয় নেওয়া হয়নি।
এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. ইমরান হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, ডিলারশিপের বিষয়টি তদন্ত করতে গিয়ে ওই ব্যক্তির আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনের রাজনীতির সাথে সরাসরি জড়িত থাকার তথ্য পেয়েছি। কিন্তু মন্ত্রণালয়ের নির্ধারিত তদন্ত ফরমে আবেদন কারির রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা উল্লেখ করার মতো কোনো নির্দিষ্ট অপশন বা ঘর না থাকায় বিষয়টি সেখানে লেখার সুযোগ ছিল না।
