আজকাল ওয়েবডেস্ক: দুর্গাপুজো মানেই মায়ের বাড়ি ফেরা। এই সময়ে বাঙালিমাত্রই বাড়ির ফেরার টান অনুভব করেন। সেই টানেই ছুটিতে বাড়ি ফিরতে চেয়েছিলেন এক প্রবাসী তরুণ। কিন্তু দাদুর মিথ্যে অসুস্থতার অজুহাতে চিকিৎসার জরুরি অবস্থার গল্প ফেঁদে বিপাকে পড়ে যান তিনি। আবেদন করেছিলেন 'পেইড লিভ'-এর জন্য। কিন্তু জল এতটাই গড়ায় যে শেষ পর্যন্ত তা নিয়ে নেটপাড়ায় শুরু হয় তুমুল চর্চা।
সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, দাদুর অসুস্থতার জন্য চিকিৎসা করাতেই কলকাতা ফিরতে চান তরুণ। কিন্তু ম্যানেজার হাসপাতালের প্রয়োজনীয় মেডিকেল প্রমাণপত্র চেয়ে বসেন। আর তাতেই ঘোর বিপদে পড়েন ওই কর্মী। তখনই স্মরণাপন্ন হন 'রেডিট' প্ল্যাটফর্মের। সকলের উদ্দেশে তাঁর প্রশ্ন ছিল 'অফিসের ম্যানেজার প্রমাণপত্র চেয়েছে, কিন্তু আমার কাছে তা নেই। এখন আমার কী করণীয়?" রেডডিটের কমেন্ট বক্সে এই পরিস্থিতিতে একাধিক অদ্ভুত ও বিতর্কিত পরামর্শ দিতে দেখা যায় অন্য ব্যবহারকারীদের।
পোস্ট সূত্রে জানা গিয়েছে, কলকাতার বাসিন্দা ওই কর্মী শহরের বাইরে কর্মরত। দুর্গাপুজোয় বাড়ি ফেরার ইচ্ছে থাকলেও তাঁর সমস্ত 'পেইড লিভ' (সবেতন ছুটি) শেষ হয়ে গিয়েছিল। অগত্যা বেতনহীন ছুটি (অনঅফিসিয়াল লিভ) নেওয়া ছাড়া উপায় ছিল না। কিন্তু ছুটি না পাওয়ার আশঙ্কায় তিনি ম্যানেজারকে জানান যে তাঁর দাদু গুরুতর অসুস্থ, তাই তাঁকে জরুরি ভিত্তিতে বাড়ি ফিরতে হবে। একই সঙ্গে সাময়িকভাবে 'ওয়ার্ক ফ্রম হোম'-এর আবেদনও জানান তিনি। তবে এর পরেই গোল বাঁধে। ম্যানেজার ইমেলের মাধ্যমে অসুস্থতার যাবতীয় মেডিকেল নথি ও ডাক্তারের প্রমাণপত্র জমা দিতে বলেন। কর্মীটি স্বীকার করেছেন, বিষয়টি পুরোটাই কাল্পনিক ছিল। তাই তাঁর কাছে দেওয়ার মতো কোনও নথি নেই।
নিজের ভুল স্বীকার করে ওই কর্মী জানান, তিনি বেতনহীন ছুটি নিতেও রাজি আছেন। কিন্তু কোম্পানিতে নতুন হওয়ায়, সত্যি কথা বললে যদি তাঁর ভবিষ্যৎ বা ভাবমূর্তির ওপর প্রভাব পড়ে—সেই আশঙ্কায় ভুগছেন তিনি। কীভাবে পরিস্থিতি সামাল দেবেন, তা নিয়ে রেডডিট ব্যবহারকারীদের পরামর্শ চান তিনি।
পোস্টটি প্রকাশ হতেই নেটিজেনদের মধ্যে নানা প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। এক ব্যবহারকারী লিখেছেন, "কোম্পানিগুলির পরিবারের লোকজনের মেডিকেল নথি চাওয়ার এই মানসিকতা বন্ধ হওয়া দরকার।"
অন্য এক নেটিজেন ভারতের সামগ্রিক কর্মসংস্কৃতিকে দায়ী করে মন্তব্য করেন, "ভারতে এটাই সবচেয়ে বড় সমস্যা। ছুটির জন্য মানুষকে মিথ্যে বলতে বাধ্য করা হয়। একটি সুস্থ ও স্বাভাবিক কর্মপরিবেশে ছুটির নেওয়ার জন্য কোনও কৈফিয়ত বা কাল্পনিক অজুহাত দেওয়ার প্রয়োজন হওয়া উচিত নয়।"
