The Sangbad · সাধারণ
এলপিজির সরবরাহে ঘাটতি কোথায়
১৫/১০/২০২৬

রান্নার গ্যাসের সংকটে সাধারণ মানুষ দীর্ঘদিন ধরে দুর্ভোগ পোহাচ্ছে। এর মধ্যে সারা দেশে এলপিজি বিক্রি বন্ধের ঘোষণা মানুষের দুর্ভোগ আরও বাড়িয়েছে। এলপি গ্যাস ব্যবসায়ীরা ১৫ ও ১৬ অক্টোবর দোকান বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। পরিবেশকদের কমিশন বাড়ানো, সরবরাহসংক্রান্ত অনিয়ম বন্ধ এবং অযৌক্তিক জরিমানা প্রত্যাহারসহ কয়েকটি দাবিতে তারা এই কর্মসূচি দিয়েছে।এলপি গ্যাস ব্যবসায়ীদের দাবিগুলো কতটুকু যৌক্তিক সেটা সরকার হয়তো বিবেচনা করবে। তবে উদ্ভূত পরিস্থিতির মাশুল যেন ভোক্তাদের দিতে না হয় সেটা নিশ্চিত করতে হবে। দেশে প্রায় এক কোটি গ্রাহক রান্নাসহ বিভিন্ন কাজে এলপিজি ব্যবহার করেন। দুই সপ্তাহের বেশি সময় ধরে বাজারে সিলিন্ডারের সংকট চলছে। গত ৪ অক্টোবর ১২ কেজির সিলিন্ডারের দাম ২৫২ টাকা বাড়িয়ে ১ হাজার ৮৩৭ টাকা নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন। বাস্তবতা হচ্ছে কোথাও কোথাও এধরণের সিলিন্ডার ২ হাজার ২০০ টাকা থেকে ২ হাজার ৫০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। কোথাও কোথাও আবার সিলিন্ডারই পাওয়া যাচ্ছে না।এলপিজি ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, আমদানিকারক কোম্পানিগুলো সরবরাহ কমিয়ে দিয়েছে। অন্যদিকে আমদানিকারকদের সংগঠন বলছে, দেশে গ্যাসের সরবরাহ পর্যাপ্ত রয়েছে। আমদানি স্বাভাবিক থাকলে বাজারে সংকট কেন, তা খতিয়ে দেখা জরুরি। কোথাও মজুত করে কৃত্রিম সংকট তৈরি করা হচ্ছে কি না, সেটিও তদন্ত করতে হবে। আমদানিকারক, পরিবেশক ও খুচরা বিক্রেতার প্রতিটি পর্যায়ে গ্যাসের সরবরাহ যাচাই করা প্রয়োজন।পরিবেশকদের কমিশন বাড়ানোর দাবি থাকলে তা আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করতে হবে। কমিশন বাড়ানো হলেই যে বাজারে সরবরাহ স্বাভাবিক হবে, তার নিশ্চয়তা নেই। তাই সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে খরচ, পরিবহন ভাড়া ও ব্যবসায়িক বাস্তবতা যাচাই করা দরকার। কোম্পানিগুলো নির্ধারিত দামের বেশি নিয়ে থাকলে তাদেরও জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে।এলপিজি বাজারে সরবরাহ সংকটের অন্যতম কারণ আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা কমে যাওয়া কি না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। বর্তমানে মাত্র ছয়টি প্রতিষ্ঠান এলপিজি আমদানি করছে বলে খাতসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানিয়েছেন। আমদানিকারকের সংখ্যা কম হলে বাজারে প্রতিযোগিতা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। তাই নতুন প্রতিষ্ঠানকে আমদানিতে উৎসাহিত করা এবং বাজারে সুস্থ প্রতিযোগিতা নিশ্চিত করা জরুরি। তবে আমদানিকারকের সংখ্যা বাড়ালেই সংকট দূর হবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। আমদানি, মজুত ও সরবরাহব্যবস্থায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি নির্ধারিত দামে গ্যাস বিক্রি হচ্ছে কি না, তাও কঠোরভাবে মনিটর করতে হবে।
মূল প্রতিবেদনে যান ↗