চৌগাছা পৌর প্রতিনিধিঃ সার ডিলার নিয়োগে ২০ লাখ টাকা লেনদেনের অভিযোগকে মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও মানহানিকর দাবি করে সংবাদ সম্মেলন করেছেন চৌগাছা উপজেলা বিএনপির সভাপতি এম এ সালাম ও উপজেলা পূজা উদযাপন ফ্রন্টের আহ্বায়ক গোবিন্দ কুমার রাহা।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) উপজেলার কাচাবাজারে গোবিন্দ কুমার রাহার কার্যালয়ে এ সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য দেন গোবিন্দ কুমার রাহা। বক্তব্যে বলা হয়, সরকার সম্প্রতি চৌগাছার ১১টি ইউনিয়ন ও পৌরসভায় বিসিআইসির সার ডিলার নিয়োগ দিয়েছে। উপজেলার ১২টি নতুন ডিলারশিপের কয়েকটি নিয়ে ফেসবুক ও কিছু অনলাইন পত্রিকায় মনগড়া সংবাদ প্রকাশ করা হচ্ছে, যা তাঁদের মানহানি করছে বলে তাঁরা দাবি করেন।
লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, ১১ নম্বর সুখপুকুরিয়া ইউনিয়নে ডিলারশিপের জন্য আবেদনকারীদের একজন বিশ্বাস ট্রেডার্সের মালিক শ্যামল কুমার বিশ্বাস। তাঁকে ডিলারশিপের লাইসেন্স পাইয়ে দিতে এম এ সালাম ও গোবিন্দ কুমার রাহা ২০ লাখ টাকা লেনদেন করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগকে ‘কুচক্রী মহলের’ মনগড়া ও ভিত্তিহীন প্রচারণা বলে দাবি করা হয়।
বক্তব্যে এম এ সালামের রাজনৈতিক ও জনপ্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তাঁর বিরুদ্ধে দুর্নীতি বা অনিয়মের অভিযোগ নেই বলে দাবি করা হয়। গোবিন্দ কুমার রাহাও জানান, তিনি ৩৩ বছর ধরে চৌগাছা ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচিত সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তাঁর বিরুদ্ধেও দুর্নীতি বা অনিয়মের অভিযোগ নেই বলে দাবি করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে মিথ্যা তথ্য প্রচারের প্রতিবাদ জানিয়ে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন ও জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়।
এক প্রশ্নের জবাবে এম এ সালাম বলেন, “যাঁরা অভিযোগ করেছেন, তাঁরা ৫ আগস্টের পরের বিএনপি। সুবিধা না পেয়ে তাঁরা দলের বিরুদ্ধে অপতথ্য ছড়াচ্ছেন।”
নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত ডিলার শ্যামল কুমার বিশ্বাস বলেন, “আমি কোনো নির্দিষ্ট দলের কর্মী ছিলাম না, মূলত একজন ব্যবসায়ী। ব্যবসার খাতিরে অনেকের সঙ্গে ওঠাবসা করতে হয়েছে। ডিলার নিয়োগের জন্য কোনো অনৈতিক লেনদেন করিনি, সরকারের নিয়মতান্ত্রিক প্রক্রিয়াতেই নিয়োগ পেয়েছি। একটি পক্ষ ঈর্ষান্বিত হয়ে আমার বিরুদ্ধে অপতথ্য ছড়াচ্ছে।”
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি ও পাতিবিলা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আতাউর রহমান লাল, নারায়নপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভপতি তরিকুল ইসলাম ডবলু, উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি সাবেক অধ্যক্ষ বলায় চন্দ্র পালসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ। পরে উপজেলা পূজা উদ্যাপন পরিষদ ও ফ্রন্টের উদ্যোগে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

