প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (বাঁ দিকে) এবং স্বামী চিন্ময়ানন্দের হলোবট (ডান দিকে)ছবি: X
Published on
:
1 min read
৩৩ বছর আগে প্রয়াত হয়েছেন আধ্যাত্মিক গুরু স্বামী চিন্ময়ানন্দ। কিন্তু প্রযুক্তি ফিরিয়ে আনল তাঁকে। শুক্রবার নয়াদিল্লির ভারত মণ্ডপমে ‘চিন্ময় অমৃত মহোৎসব গ্লোবাল সম্মেলনে’ তাঁর সঙ্গে কথাও বললেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। নেপথ্য হলোবট। সেটা কী?
স্বামী চিন্ময়ানন্দের হলোগ্রাফিক অবতার বা ‘হলোবট’ তৈরি করেছে চিন্ময় মিশন। সেই প্রযুক্তির সঙ্গেই কথা হয় মোদীর। তিনি বলেন, ‘আপনার সঙ্গে দেখা হয়েছিল, এ আমার সৌভাগ্য। এখন যে কাজগুলো করতে চাই, তার জন্য আপনার আশীর্বাদ চাইছি।’ জবাবে প্রধানমন্ত্রীকে আশীর্বাদ করে স্বামী চিন্ময়ানন্দের হলোবট। ১৯৯৩-এ মোদীর সঙ্গে সেই সাক্ষাতের ঘটনার কথাও সবিস্তারে ব্যাখ্যা করে প্রযুক্তি।
সেই বছর শিকাগোয় বিশ্ব ধর্ম সংসদের শতবর্ষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল। সেখানে যোগ দেওয়ার জন্য স্বামী চিন্ময়ানন্দকে আমন্ত্রণ জানাতে গুজরাটের ভদোদরার গিয়েছিলেন মোদী। সেই প্রসঙ্গ টেনে চিন্ময়ানন্দের হলোবটকে বলতে শোনা যায়, ‘সেই সময়ে আমি জানিয়েছিলাম, বয়সের কারণে এত বড় দায়িত্ব নেওয়া সম্ভব নয়। এর জন্য অন্য হিন্দু যুবকদের এগিয়ে আসা উচিত।’
এর পরেই মোদীর উদ্দেশে ওই হলোবট বলে ওঠে, ‘১৯৯৩-এ যে ব্যক্তির সঙ্গে সাক্ষাৎ হয়েছিল, আজ তিনিই ভারতের প্রধানমন্ত্রী।’ সঙ্গে পরামর্শ সতর্কও করে হলোবট, ‘প্রধানমন্ত্রীজি, মনে রাখবেন, শিখরে থাকা মানুষ একা হন।’ শ্রীখণ্ড খাওয়ার পরামর্শও দিতে দেখা যায় চিন্ময়ানন্দের হলোগ্রাফিক অবতারকে। শেষে বলে ওঠে, ‘গোটা ভারত আপনার সঙ্গে রয়েছে নরেন্দ্র।’
এই অভিজ্ঞতার জন্য চিন্ময় মিশনকে ধন্যবাদ জানান মোদী। তাঁর কথায়, ‘হলোবটের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে এক মুহূর্তের জন্য মনে হয়েছিল, যেন অতীতে ফিরে গিয়েছি।’ উল্লেখ্য, হলোবট হলো হলোগ্রাম প্রযুক্তির সাহায্যে তৈরি কোনও ব্যক্তির ত্রিমাত্রিক অবয়ব। গোটা ব্যাপারটা এমন ভাবে তৈরি, দেখলে মনে হয় তিনি যেন সামনেই বসে রয়েছেন। আগে থেকেই ভয়েস রেকর্ড করা থাকে। ভিডিয়ো ও অঙ্গভঙ্গির সমন্বয়ে অবয়বটিকে কথা বলতে বা নড়াচড়া করতেও দেখা যায়। আর প্রশ্নের উত্তর দেয় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাহায্যে।
