সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের জগন্নাথপুর গ্রামে পাশাপাশি দাঁড়িয়ে আছে আল মদিনা জামে মসজিদ ও জগন্নাথ জিউর কেন্দ্রীয় মন্দির। দুই উপাসনালয়ের দূরত্ব মাত্র ২০ ফুট। এক পাশে মসজিদে নামাজ আদায় করেন মুসল্লিরা। অন্য পাশে মন্দিরে পূজা-অর্চনা করেন সনাতন ধর্মাবলম্বীরা।
ধর্মীয় আচার আলাদা হলেও দীর্ঘদিন ধরে দুই সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে বিরাজ করছে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সম্প্রীতি।
দুর্গাপূজার সময় মন্দির থেকে ভেসে আসে ঢাকঢোল, শঙ্খধ্বনি ও উলুধ্বনির শব্দ। সন্ধ্যায় হয় আরতি। তবে মসজিদে আজান শুরু হলে ঢাকঢোলের শব্দ বন্ধ রাখেন পূজারিরা। আজান ও নামাজ শেষ হলে আবার শুরু হয় পূজার আনুষ্ঠানিকতা।
এভাবেই নিজ নিজ ধর্মীয় রীতি পালনের পাশাপাশি প্রতিবেশী হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে মিলেমিশে বসবাস করছেন দুই সম্প্রদায়ের মানুষ। ধর্মীয় উৎসব ছাড়াও বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠানে একে অপরের পাশে দাঁড়ান তারা।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, মসজিদ ও মন্দির পাশাপাশি হলেও ধর্মীয় অনুষ্ঠান পালন নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ নেই। দুর্গাপূজায় মুসলিম প্রতিবেশীরা হিন্দুদের পাশে দাঁড়ান। আবার ঈদসহ বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠানেও একে অপরের সঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগি করেন।স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, মসজিদ ও মন্দিরের অবস্থান পাশাপাশি হলেও ধর্মীয় অনুষ্ঠান পালন নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ নেই। দুর্গাপূজায় হিন্দু প্রতিবেশীদের পাশে দাঁড়ান মুসলিম বাসিন্দারা। আবার ঈদসহ বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠানেও একে অপরের সঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগি করেন তারা।
স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল জলিল বলেন, ‘এখানে সবাই মিলেমিশে নিজ নিজ ধর্মীয় আচার পালন করেন। আমাদের পূর্বপুরুষেরাও এমনটি করেছেন। ছোটবেলা থেকেই মুসলিমরা পূজা দেখতে মণ্ডপে যান। আবার ঈদ কিংবা বিয়ের অনুষ্ঠানেও হিন্দু প্রতিবেশীরা আসেন। কেউ কারও ক্ষতির কারণ হননি।’
জগন্নাথ জিউর মন্দির কমিটির সভাপতি বিভাস দেব বলেন, ‘জগন্নাথপুর সার্বজনীন জগন্নাথ জিউর মন্দির প্রতিষ্ঠার পর একই এলাকায় আল মদিনা জামে মসজিদ নির্মাণ করা হয়। মন্দিরের মাত্র ২০ ফুট দূরে মসজিদ। মুসলমানেরা মসজিদে তাদের ধর্ম পালন করেন, আর আমরা মন্দিরে আমাদের ধর্ম পালন করি। পাশাপাশি অবস্থান করলেও আমাদের মধ্যে কোনো সমস্যা নেই।’
আল মদিনা জামে মসজিদে নামাজ আদায় করেন সফিক আলী। তিনি বলেন, ‘এখানে ধর্ম নিয়ে কোনো বাড়াবাড়ি নেই। মসজিদে আজান হলেই হিন্দু ভাইয়েরা ঢাকঢোলের আওয়াজ বন্ধ রাখেন। আজান ও নামাজ শেষ হলে আবার তাদের কার্যক্রম শুরু করেন। বছরের পর বছর ধরে এখানে সবাই শান্তিপূর্ণভাবে নিজ নিজ ধর্ম পালন করছেন। কেউ কখনো কারও বিরক্তির কারণ হননি।’
উপজেলা পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি বিজন কুমার দেব বলেন, ‘জগন্নাথপুর জগন্নাথ জিউর কেন্দ্রীয় মন্দিরের পাশেই আল মদিনা জামে মসজিদ। এখানে দুই ধর্মের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে পারস্পরিক সম্মান বজায় রেখে ধর্মীয় উৎসব পালন করছেন। তাদের এই সম্প্রীতি উপজেলাজুড়ে প্রশংসিত।’
জগন্নাথপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইসলাম উদ্দিন বলেন, ‘জগন্নাথপুর পৌরসভার জগন্নাথপুর গ্রামে একই স্থানে মসজিদ ও মন্দির রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে এই এলাকার মানুষ সম্প্রীতির সঙ্গে বসবাস করছেন। এটি সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির একটি অনন্য উদাহরণ।’
গুগলে আমাদের খবর পেতে
