গণ-অভ্যুত্থানকালিন জুলাই-আগস্টে বিভিন্ন সরকারি স্থাপনা থেকে লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধারে খুলনার দায়িত্ব পেয়েছে এসআরবি। অস্ত্র উদ্ধারে সেপ্টেম্বর থেকে অভিযান শুরু হয়েছে। নভেম্বর পর্যন্ত অভিযান চলবে। অভিযানের শুরু থেকে গতকাল ১৮ অক্টোবর পর্যন্ত ফলাফল শূন্য। কত অস্ত্র খোয়া গেছে এ বিষয়ে এসআরবি ও পুলিশের কাছে কোনো রেকর্ড নেই।
২০২৪ সালের মধ্য জুলাই থেকে আন্দোলনরত ছাত্ররা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মুখোমুখি হয়। রাজধানীসহ বিভিন্ন স্থানে সংঘর্ষের সময় ছাত্র-জনতা পুলিশের অস্ত্র ছিনিয়ে নেয়। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার অস্ত্র উদ্ধারে জোরাল পদক্ষেপ নেয়। পুলিশ ও বিভিন্ন বাহিনী অস্ত্র উদ্ধারে হিমশিম খায়। অবৈধ অস্ত্র মাঠে থাকা সত্ত্বেও ২০২৬ সালের ১২ জানুয়ারি জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। সন্ত্রাসীদের হাতে অস্ত্র থাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী উদ্বিঘ্ন হয়ে পড়েছে।
প্রেক্ষাপট নিয়ে কথা বলেছেন, এসআরবি-৬ এর স্পেশাল কোম্পানি কমান্ডার মেজর মোঃ নাজমুল ইসলাম। তিনি বলেন, গণ-অভ্যুত্থানে খোয়া যাওয়া অস্ত্র উদ্ধারে এসআরবিকে প্রধান করে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। খুলনায় অস্ত্র উদ্ধারের দায়িত্ব বিশেষভাবে এসআরব’র ওপর পড়েছে। এ অঞ্চলে খোয়া যাওয়া কত অস্ত্র আছে এমন রেকর্ড সংশ্লিষ্ট দপ্তরে নেই। কী কী অস্ত্র সন্ত্রাসীদের হাতে রয়েছে এমন তথ্যও তাদের জানা নেই। কোন অঞ্চলে খোয়া যাওয়া অস্ত্র আছে এখনো পর্যন্ত তা আবিষ্কার হয়নি। সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হওয়া এ অভিযানের ফলাফল শূন্য।
কেএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (দক্ষিণ) অমিত কুমার বর্মন জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় বলেন, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকে ৭৩টি অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। খুনি ও ২০-২৫ জনের সন্ত্রাসী দলের বিভিন্ন খুনের ঘটনায় ব্যবহৃত অস্ত্র উদ্ধার অভিযান চালানো হয়েছে। মাদকসেবীদের হাতেও অস্ত্র রয়েছে।
জেলা পুলিশ সুপার ড. ওমর ফারুক উল্লেখ করেন অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার ও মাদক নির্মূলে দিঘলিয়া, তেরখাদা, বটিয়াঘাটা ও রূপসা উপজেলা ৫ অক্টোবর থেকে বিশেষ অভিযান শুরু হয়েছে।
জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, অপরাধ দমন, অবৈধ অস্ত্র ও মাদকদ্রব্য উদ্ধার এবং অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে খুলনা জেলা পুলিশের চলমান বিশেষ অভিযানে গত ৫ অক্টোবর থেকে ১৪ অক্টোবর পর্যন্ত মোট ২৮৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অভিযানে ১টি পিস্তল, ১টি ম্যাগাজিন, ১টি দেশীয় একনলা বন্দুক ও ৪ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়েছে।
জেলা পুলিশ এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, জনসাধারণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, মাদক ও অবৈধ অস্ত্রের বিস্তার রোধ এবং অপরাধ নিয়ন্ত্রণে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় জেলা পুলিশ সর্বদা তৎপর রয়েছে। জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জেলা পুলিশ সর্বস্তরের জনগণের সহযোগিতা কামনা করছে।
বাংলাদেশ বেতার, খুলনা কেন্দ্র ২০২৪ সালে ৫ আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানের সময় ২০ জন শস্বস্ত্র পুলিশ দেওয়াল টপকে পালিয়ে যায়। বেতার কেন্দ্র অরক্ষিত রেখে জীবন নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার বিষয়ে তাদের কোনো ধরনের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়নি। এ দিনে একশ’ কোটি টাকার সরকারি সম্পদ লুট হয় বলে বাংলাদেশ বেতার খুলনার প্রশাসনিক কর্মকর্তা সোনাডাঙ্গা থানায় করা জিডিতে উল্লেখ্য করেন।
খুলনা গেজেট/এনএম
