Published on
:
2 min read
স্বামীর বিরুদ্ধে শারীরিক নির্যাতন, প্রতারণা এবং খুনের ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তুললেন উত্তরাখণ্ডের মন্ত্রী রেখা আর্য। স্বামী গিরধারী লাল সাহু ওরফে পাপ্পু গিরধারীর বিরুদ্ধে দেরাদুনের গরহি ক্যান্ট থানায় FIR দায়ের করেছেন তিনি। তাঁর অভিযোগ, তাঁকে খুন করার পরিকল্পনা করছেন স্বামী। এমনকী, তাঁর নাবালক সন্তানদের নিরাপত্তা নিয়েও আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন মন্ত্রী। এই ঘটনায় রাজ্য রাজনীতিতে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
প্রথম বিয়ে গোপন করে বিয়ের অভিযোগ
পুলিশে দায়ের করা অভিযোগে রেখা জানিয়েছেন, ২০০৪ সালের ৬ জুলাই উত্তরপ্রদেশের বরেলিতে হিন্দু রীতি মেনে গিরধারীর সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়। তাঁর দাবি, বিয়ের সময়ে স্বামী নিজেকে অবিবাহিত বলে পরিচয় দিয়েছিলেন। পরে তিনি জানতে পারেন, গিরধারীর আগের পক্ষের স্ত্রী ও সন্তান রয়েছে। সন্তানদের ভবিষ্যতের কথা ভেবে এত দিন বিষয়টি নিয়ে তিনি নীরব ছিলেন বলে জানিয়েছেন মন্ত্রী।
রেখার আরও অভিযোগ, পরবর্তী সময়ে একাধিক মহিলার সঙ্গে স্বামীর সম্পর্কের কথা জানতে পারেন তিনি। এ নিয়ে প্রতিবাদ করায় তাঁকে মারধর করা হয়, গালিগালাজ করা হয় এবং প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দেওয়া হয়। তাঁর সরকারি বাসভবনে কর্মীদের সামনেও জাত তুলে অপমানজনক মন্তব্য করা হয়েছিল বলে অভিযোগ করেছেন তিনি।
খুনের ষড়যন্ত্রের অডিয়ো ক্লিপ নিয়ে অভিযোগ
সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগ, স্বামী অন্য এক মহিলার সঙ্গে মিলে তাঁকে খুনের ষড়যন্ত্র করছেন বলে দাবি করেছেন রেখা। সেই কথোপকথনের একটি অডিয়ো রেকর্ডিং হাতে পান তিনি। মন্ত্রীর দাবি, ওই অডিয়ো শোনার পরে তিনি ভয়ানক আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। সেই কথা উল্লেখ করতে গিয়ে রেখার কথায়, ‘এখনও আমার হাত-পা কাঁপছে’। নিজের পাশাপাশি নাবালক সন্তানদের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করে পুলিশের কাছে সুরক্ষা চেয়েছেন তিনি। যদিও অডিয়ো রেকর্ডিংয়ের সত্যতা স্বাধীন ভাবে যাচাই করা যায়নি।
এ ছাড়া, শুধু খুন নয়, আর্থিক প্রতারণার অভিযোগও তুলেছেন মন্ত্রী। বিভিন্ন সংস্থায় ডিরেক্টর পদ থেকে তাঁকে সরানোর জন্য স্বামী তাঁর সই জাল করে নথি তৈরি করেছেন বলেও অভিযোগ করেছেন রেখা।
১৩টি ধারায় মামলা
১৫ অক্টোবর সন্ধ্যায় দায়ের হওয়া FIR-এ ভারতীয় দণ্ডবিধির ১৩টি ধারা এবং তফসিলি জাতি ও উপজাতির উপর অত্যাচার প্রতিরোধ আইনের তিনটি ধারা যুক্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে সর্বভারতীয় সংবাদ মাধ্যমের রিপোর্টে উল্লেখ। এর মধ্যে অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র, ইচ্ছাকৃত আঘাত করা এবং প্রতারণার মতো অভিযোগ রয়েছে।
ঘটনার পরে অসুস্থ বোধ করায় রেখাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত চলছে। অভিযুক্ত গিরধারী লাল সাহুর তরফে এই অভিযোগ নিয়ে কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
