পূর্বতন সরকারের আমলে কলকাতা ও সংলগ্ন এলাকা জুড়ে পাঁচ হাজার পুকুর বোজানো হয়েছে বলে অভিযোগ করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সোমবার টালিগঞ্জ বিধানসভা এলাকায় আয়োজিত পুরসভার এক অনুষ্ঠানে এই অভিযোগ করেন তিনি। নভেম্বরের শেষ সপ্তাহে অনুষ্ঠিতব্য কলকাতা পুরসভার নির্বাচনের আগে তাঁর সরকারের কাজের খতিয়ান তুলে ধরে পুকুর বোজানোর জন্য তৃণমূলের কাউন্সিলরদের দায়ী করেন শুভেন্দু।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‘জোকা, হরিদেবপুর থেকে বারাসত, মধ্যমগ্রাম পর্যন্ত কেএমডিএ-র এলাকায় বিগত দিনে যে সরকার এবং স্কোয়ার ফিট কাউন্সিলরেরা ছিলেন, তাঁরা পাঁচ হাজার পুকুর বুজিয়েছেন। কলকাতার পরিবেশকে ধ্বংস করার জন্য যা যা করা দরকার, সব কাজই ওঁরা করেছেন। তাই এখানে ছোট্ট কাজ হলেও তা খুব গুরুত্বপূর্ণ।’’ তিনি আরও বলেন, ‘‘এই অনুষ্ঠানটি হচ্ছে বরো-১১-এর ১১৪ নম্বর ওয়ার্ডের অধীনে। ইটখোলা-১ এবং ইটখোলা-২ সবুজবলয় ও জলাশয় উদ্ধার করা হল। এই কাজে ভারত সরকার ও রাজ্য সরকার যৌথ ভাবে দু’টি প্রকল্পে অর্থ বরাদ্দ করেছে। একটি প্রকল্পে খরচ হয়েছে ৫ কোটি ৭৯ লক্ষ ২৮ হাজার ৩২৯ টাকা। অন্য একটি প্রকল্পে খরচ হয়েছে ৩ কোটি ৫৮ লক্ষ ৮৭ হাজার ৯৮৮ টাকা।’’ নতুন করে সংস্কার করা দুটি জলাশয়ের নাম মুখ্যমন্ত্রী দিয়েছেন ‘শিব জলাশয়’ ও ‘শক্তি জলাশয়’।
পুরসভার নিকাশি বিভাগ কেন্দ্রীয় সরকারের এনডিএমএফ প্রকল্পে প্রায় ৫০০ কোটি টাকা বিশেষ অনুদান পেয়েছে। পরিকাঠামোগত উন্নয়নের পাশাপাশি পরিবেশবান্ধব উন্নয়নের কাজেও ওই অর্থ ব্যয় করার কথা। সেই লক্ষ্যেই পুরনো পুকুর সংস্কারের কাজে হাত দিয়েছে নিকাশি বিভাগ। কুঁদঘাট মেট্রো স্টেশনের নীচে আদি গঙ্গার ওপারে রয়েছে পূর্ব পুঁটিয়ারি বাজার। সেখান থেকে সোজা এগিয়ে বাঁ দিকে পরপর দুটি বড় জলাশয়কে নতুন করে সাজিয়ে তোলা হয়েছে। বাইরে থেকে নোংরা যাতে জলাশয়ের জল দূষিত করতে না পারে, সেই জন্য পুকুর দুটির চারপাশ পাঁচিল দিয়ে ঘিরে দেওয়া হয়েছে। একটি জলাশয় প্রায় চার একর এবং অন্যটি প্রায় তিন একর এলাকা জুড়ে রয়েছে। নতুন করে মাটি কেটে প্রায় মজে যাওয়া পুকুরগুলিকে দখলদারির হাত থেকে রক্ষা করা হয়েছে বলে দাবি মুখ্যমন্ত্রীর। বর্তমানে পুকুর বাঁধানোর কাজ চলছে। সেই প্রকল্পের কাজের একটি পর্যায়ের উদ্বোধন করেন তিনি।
পুর ও নগরোন্নয়নমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পালের পাশে দাঁড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‘আমাদের পুরমন্ত্রী খুব কাজের মানুষ। কিন্তু কিছু লোক আছেন, যাঁরা কিছুই করেননি। মন্ত্রী অত্যন্ত সক্রিয় ভাবে কাজ করেন। অফিসেও বসেন, রাস্তায় নেমেও কাজ করেন। ওঁদের খুব যন্ত্রণা, খুব জ্বালা। হাতে একটি মোবাইল ফোন রয়েছে, সঙ্গে রয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ার প্ল্যাটফর্ম। আমি মন্ত্রীকে বলেছি, ওঁদের এড়িয়ে চলুন। ওঁরা জনতার কাছে প্রত্যাখ্যাত হয়েছেন। ভবিষ্যতেও কলকাতা পুরসভার ভোটে ওঁরা প্রত্যাখ্যাত হবেন।’’ পাশাপাশি, টালিগঞ্জের বিধায়ক পাপিয়া অধিকারীকে জয়ের জন্য শুভেচ্ছা জানান শুভেন্দু। অরূপ বিশ্বাসের নাম না করে তিনি বলেন, ‘‘পাপিয়াদি বড় নেতা এবং মন্ত্রীকে হারিয়েছেন। তাই ওঁকে ধন্যবাদ দিতেই হবে।’’ নাম না করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে কটাক্ষ করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‘এ বার দুর্গাপুজোর জন্য মুখ্যমন্ত্রীর অনুমতি নিতে হবে না। পঞ্জিকা মেনে পুজো করুন। এ বার আর কাউকে পিতৃপক্ষে কাঁচি নিয়ে বেরোতে দিইনি।’’
