কেউ হাসতে বললেই বিরক্তি, সামান্য কথাতেই রাগ, সবকিছুতেই অভিযোগ– এমন দিন হয়ত সবারই আসে। অবশ্য সব সময় হাসিখুশি থাকতে হবে, এমন কোনো কথাও নেই। কখনো মন খারাপ থাকতে পারে, কখনো বিরক্তি প্রকাশ করতেও ইচ্ছা হতে পারে। আর সেই খিটখিটে মেজাজ নিয়েই মজার ছলে একটি দিবস পালিত হয় প্রতিবছর ১৫ অক্টোবর। নাম ‘ন্যাশনাল গ্রাউচ ডে’ (National Grouch Day), বাংলায় যাকে বলা যায় জাতীয় খিটখিটে মেজাজ দিবস।
দিনটি উপলক্ষে মজা করে অভিযোগ করা যায়, উৎসাহী না থাকলেও চলে। এমনকি কাউকে জোর করে হাসিখুশি করার চেষ্টাও না করার পরামর্শ দেয়া হয়।
যেভাবে এলো খিটখিটে মেজাজ দিবস
দিবসটির সঙ্গে ‘সেসামি স্ট্রিট’ (Sesame Street) অনুষ্ঠানের জনপ্রিয় চরিত্র অস্কার দ্য গ্রাউচের (Oscar the Grouch) নাম জড়িয়ে আছে। যদিও দিবসটির সূচনা সরাসরি এই চরিত্রকে কেন্দ্র করে হয়নি।
‘চেজেস ক্যালেন্ডার অব ইভেন্টস’-এর বিল ও হেলেন চেজের নাতনি মনিকার কাছ থেকে দিবসটি চালুর ধারণা এসেছিল বলে একটি প্রচলিত বর্ণনায় উল্লেখ রয়েছে। ১৯৭৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগানে ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ার সময় মনিকার একজন শিক্ষক ছিলেন, যিনি বেশ খিটখিটে মেজাজের ছিলেন। ওই শিক্ষকের জন্মদিন ছিল ১৫ অক্টোবর। মজা করে মনিকা ও তার বন্ধুরা দিনটিকে জাতীয় খিটখিটে মেজাজ দিবস হিসেবে অভিহিত করেন। পরে ধারণাটি ছড়িয়ে পড়ে।
অস্কার দ্য গ্রাউচ, যিনি বদলাতে চাননি
১৯৬৯ সালে ‘সেসামি স্ট্রিট’ শুরু হওয়ার পর থেকেই অস্কার দ্য গ্রাউচ দর্শকদের পরিচিত চরিত্র। ময়লার পাত্রে বসবাস করা সবুজ, লোমশ এই পুতুল চরিত্রটি সব সময় বিরক্ত থাকে, অভিযোগ করে এবং আবর্জনার প্রতি নিজের ভালোবাসার কথা গান গেয়ে জানায়।
তবে অস্কারের চরিত্রের আরেকটি দিকও রয়েছে। তার খিটখিটে স্বভাব সত্ত্বেও আশপাশের চরিত্রগুলো তাকে মেনে নেয়। কেউ তাকে সব সময় হাসিখুশি হওয়ার জন্য চাপ দেয় না, কিংবা তার স্বভাব বদলে দেয়ার চেষ্টা করে না।
শিশুদের জন্য তৈরি এই চরিত্রের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তাও রয়েছে—সব সময় আনন্দিত থাকা বাধ্যতামূলক নয়। কখনো মন খারাপ হওয়া বা বিরক্ত বোধ করাও স্বাভাবিক। এমন অনুভূতি হলেই নিজের মধ্যে কোনো সমস্যা আছে, এমনটা ভাবার প্রয়োজন নেই।
খারাপ মেজাজ কি সব সময় খারাপ?
সব সময় ইতিবাচক থাকার চাপ অনেকের জন্য অস্বস্তিকর হতে পারে। নিজের খারাপ লাগা অস্বীকার না করে তা বুঝতে পারা এবং গ্রহণ করাও গুরুত্বপূর্ণ। তবে নেতিবাচক অনুভূতি প্রকাশের ধরনও বিবেচনায় রাখা প্রয়োজন।
বিরক্তি কখনো কোনো সমস্যা বা অসংগতির দিকে মনোযোগ দিতে সাহায্য করতে পারে। আবার খারাপ মেজাজের কারণে অন্যের সঙ্গে সম্পর্কেও সমস্যা তৈরি হতে পারে। তাই নিজের অনুভূতিকে স্বীকার করা এবং সেই অনুভূতির কারণে অন্যকে কষ্ট না দেওয়া—দুটির মধ্যে ভারসাম্য রাখা জরুরি।
একটি বিষয় অবশ্যই মনে রাখা দরকার, নিজের খারাপ মেজাজে থাকা আর সেই মেজাজ অন্যের ওপর চাপিয়ে দেওয়া এক নয়। অভিযোগ করা যেতে পারে, কিন্তু অন্য কারও দিন নষ্ট করার অধিকার কারও নেই।
যেভাবে পালন করবেন দিনটি
জাতীয় খিটখিটে মেজাজ দিবস পালন করতে খুব বেশি আয়োজনের প্রয়োজন নেই। চাইলে দিনটি কাটাতে পারেন কয়েকটি মজার উপায়ে।
মন খারাপ থাকলে তা স্বীকার করুন:
অকারণে হাসিখুশি থাকার অভিনয় না করে নিজের অনুভূতি বোঝার চেষ্টা করুন।
ছোটখাটো বিষয়ে অভিযোগ করুন:
দৈনন্দিন জীবনের কোনো বিরক্তিকর অভিজ্ঞতা নিয়ে মজা করে অভিযোগ করতে পারেন। তবে ব্যক্তিগত আক্রমণ এড়িয়ে চলুন।
অন্যকে জোর করে হাসাবেন না:
কেউ চুপচাপ থাকতে চাইলে তাকে সেই সুযোগ দিন। সব সময় কাউকে উৎসাহিত করার প্রয়োজন নেই।
দেখে নিতে পারেন ‘সেসামি স্ট্রিট’:
অস্কার দ্য গ্রাউচের বিভিন্ন পর্ব, গান ও কাণ্ডকীর্তি দেখে দিবসটির মজার দিকটি উপভোগ করতে পারেন।
নিজের মেজাজের দিকে খেয়াল রাখুন:
এক দিন বিরক্ত থাকা অস্বাভাবিক নয়। তবে কয়েক সপ্তাহ ধরে খিটখিটে মেজাজ চলতে থাকলে এবং তা দৈনন্দিন জীবন বা সম্পর্কে প্রভাব ফেললে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা উচিত।
সব দিন হাসিখুশি থাকতে হবে না:
জাতীয় খিটখিটে মেজাজ দিবসের মূল আকর্ষণ হলো–এক দিনের জন্য হলেও খিটখিটে স্বভাব নিয়ে মজা করা। তবে এর বার্তা শুধু বদমেজাজি হওয়া নয়; বরং মানুষের অনুভূতি যে সব সময় এক রকম থাকে না, সেটি মেনে নেয়াও।
তাই আজ মেজাজ খারাপ থাকলে নিজেকে একটু সময় দিন। সব সময় হাসিমুখে থাকতে হবে না। শুধু খেয়াল রাখুন, আপনার বিরক্তি যেন অন্য কারও কষ্টের কারণ না হয়।
