উন্নত বিশ্বের আদলে নির্মিত আধুনিক কসাইখানা চালু হওয়ার দীর্ঘ পাঁচ মাস পেরিয়ে গেলেও তীব্র জনবল সংকটের কারণে এখনও তা চালু করা সম্ভব হয়নি। ১৭ মে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে লাইভস্টক অ্যান্ড ডেইরি ডেভেলপমেন্ট (এলডিডিপি) প্রকল্পের আওতায় বগুড়া নগরীর জয়পুরপাড়ায় ৫০ শতক জমির ওপর নির্মিত এই আধুনিক কসাইখানাটির উদ্বোধন করেন। কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত অত্যাধুনিক এই স্থাপনাটি অবহেলা ও অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে থাকায় একদিকে যেমন নাগরিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন নগরবাসী, অন্যদিকে অপরিকল্পিতভাবে পশু জবাই ও বর্জ্য ফেলার কারণে চরম পরিবেশদূষণের শিকার হচ্ছেন সাধারণ মানুষ।
কসাইখানাটি চালু না থাকায় বগুড়া নগরীর বিভিন্ন স্থানে যত্রতত্র পশু জবাই ও বর্জ্য ফেলার প্রবণতা বেড়েই চলেছে। বিশেষ করে বগুড়া-নওগাঁ আঞ্চলিক মহাসড়কের পাশে গোদারপাড়া বাজার এলাকায় যত্রতত্র পশু বর্জ্য ফেলার ফলে প্রতিনিয়ত তীব্র দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে, যা স্থানীয় বাসিন্দা, পথচারী এবং বাজারে আসা ক্রেতা-বিক্রেতাদের জীবনযাত্রা অতিষ্ঠ করে তুলেছে। এলাকার বাসিন্দা আব্দুল মালেক জানান, পশুবর্জ্যের এই অসহ্য দুর্গন্ধে দীর্ঘদিন ধরে তারা চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। এই সড়ক দিয়ে চলাচলকারী পথচারী ও স্কুলগামী শিক্ষার্থীদের চলাচলেও মারাত্মক সমস্যা হচ্ছে। গণমাধ্যমে বিভিন্ন সময় এ বিষয়ে সংবাদ প্রকাশিত হলেও কার্যকর কোনো সমাধান না পাওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি।
বগুড়ার নারী উদ্যোক্তা শ্যামলী আক্তার বলেন, আধুনিক এই কসাইখানাটি চালু হলে রেস্তোরাঁ ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে সাধারণ ভোক্তা—সবাই সরাসরি উপকৃত হতেন। প্রচলিত ও সনাতন পদ্ধতিতে পশু জবাইয়ের ক্ষেত্রে স্বাস্থ্যবিধি যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয় না, যা পরিবেশদূষণের পাশাপাশি মাংসের স্বাস্থ্যগত মান নিয়েও গভীর উদ্বেগের জন্ম দেয়। সরকারি অর্থায়নে নির্মিত আধুনিক অবকাঠামো ও যন্ত্রপাতি চালুর অভাবে নষ্ট হয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে উল্লেখ করে তিনি দ্রুত কসাইখানাটির কার্যক্রম শুরু করার জোর দাবি জানান।
বর্তমান পরিস্থিতির বিষয়ে বগুড়া সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ সাঈদ আলী জানান, আধুনিক প্রযুক্তিতে নির্মিত এই কসাইখানাটি পরিচালনার মতো পর্যাপ্ত ও দক্ষ জনবল বর্তমানে সিটি করপোরেশনের ভাণ্ডারে নেই। এই অচলাবস্থা নিরসনে তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে এটি পরিচালনার নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কসাইখানাটি পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় শর্তাবলি প্রস্তুতের কাজ চলছে এবং খুব দ্রুত দরপত্র আহ্বান করা হবে বলে জানান তিনি। এ ছাড়া অভিজ্ঞ প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে এবং প্রাথমিক পর্যায়ে মুনাফার চেয়ে কসাইখানাটি সচল করাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি আরও জানান, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের সক্রিয় সহায়তায় নগরীর কসাই ও মাংস ব্যবসায়ীদের একটি পূর্ণাঙ্গ তালিকা তৈরির কাজ চলছে এবং তাদের এই নতুন ব্যবস্থার সঙ্গে সম্পৃক্ত করতে বিভিন্ন প্রণোদনা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। মাংস পরিবহনের জটিলতা এড়াতে চিলার ভ্যানের ব্যবস্থা করার বিষয়টিও বিচারাধীন রয়েছে। এই আধুনিক কসাইখানাটি পুরোপুরি সচল হলে শুধু নিরাপদ ও স্বাস্থ্যকর মাংস সরবরাহ নিশ্চিত হওয়াই নয়, বরং মাংস প্রক্রিয়াজাতকরণ ও পরিবহনসহ বিভিন্ন খাতে নতুন কর্মসংস্থানেরও সুযোগ সৃষ্টি হবে বলে আশা প্রকাশ করেন সংশ্লিষ্টরা। দ্রুত এই আধুনিক কসাইখানাটি চালুর মাধ্যমে পরিবেশদূষণ রোধ ও স্বাস্থ্যসম্মত মাংসপ্রাপ্তি নিশ্চিত করতে কর্তৃপক্ষের নিকট জোর দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী এলাকাবাসী ও সচেতন নাগরিক সমাজ।
