আজকাল ওয়েবডেস্ক: তারেক রহমান নেতৃত্বাধীন সরকার তাঁকে “গ্রেপ্তার, হত্যা বা নির্যাতন” করলেও দেশে ফেরাটা তাঁর দায়িত্ব। এমনই দাবি করলেন বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
২০২৪ সালের আগস্টে ব্যাপক ছাত্র-নেতৃত্বাধীন বিক্ষোভের মুখে তাঁর সরকারের পতন হলে শেখ হাসিনা বাংলাদেশ থেকে পালিয়ে যান। তখন থেকে তিনি ভারতেই বসবাস করছেন। মুজিব কন্যা স্বীকার করেছেন যে, ঢাকায় ফেরাটা তাঁর জন্য অত্যন্ত ঝুঁকির। কিন্তু জোর দিয়ে তাঁর দাবি- তিনি তাঁর দেশে ফিরবেনই।
শেখ হাসিনা বলেন, “আমি ডিসেম্বরে বাংলাদেশে ফিরব। আমি ভয় পাই না। আমি জানি ওরা আমাকে খুন করতে পারে, গ্রেপ্তার করতে পারে এবং নির্যাতন করতে পারে… তবে ফেরাটা আমার দায়িত্ব।” তিনি আরও বলেন, “ঝুঁকি যতই হোক, আমি পরোয়া করি না। আমাকে ফিরতেই হবে।”
হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় পরে সাংবাদিকদের জানান যে, প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীর দেশে ফেরার নির্দিষ্ট কোনও তারিখ ঠিক হয়নি। তবে সময় হলে এ বিষয়ে নিশ্চিৎভাবেই ঘোষণা করা হবে।
হাসিনা, ভারত সরকারকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন
সঙ্কটের সময় আশ্রয় দেওয়ার জন্য শেখ হাসিনা ভারত সরকারকে ধন্যবাদ জানান। তিনি ১৯৭৫ সালের সামরিক অভ্যুত্থানের কথা স্মরণ করেন। সেই সময়ে পরিবারের একাধিক সদস্য খুন হলেও তিনি ও তাঁর বোন বেঁচে গিয়েছিলেন। হাসিনা বলেন, “ভারত সরকার, সর্বদলীয় জনগণকে ধন্যবাদ। তারা আমাকে ঠিক ১৯৭৫ সালের মতোই গ্রহণ করেছেন।”
বাংলাদেশের ১৯৭৫ সালের সামরিক অভ্যুত্থানের সময় হাসিনার বাবা ও স্বাধীন বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা শেখ মুজিবুর রহমান, তাঁর মা, তিন ভাই এবং পরিবারের আরও কয়েকজন সদস্যকে হত্যা করা হয়েছিল।
ন্যায্য বিচারের দাবি
শেখ হাসিনা অভিযোগ করেন যে, বাংলাদেশের বর্তমান নেতৃত্ব বিরোধী দলকে দমন করার জন্য তাঁর এবং আওয়ামী লীগের সদস্যদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা ব্যবহার করছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, রাজনৈতিক নেতাদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের সুষ্ঠু বিচারের মাধ্যমে সমাধান করতে হবে। তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ তার নাগরিকদের দ্বারা মুক্ত ও অন্তর্ভুক্তিমূলক গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নির্ধারিত হওয়া উচিত। হাসিনা বলেন, “আমি চাই বাংলাদেশিরা মুক্ত ও অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তাদের সরকার নির্ধারণ করুক।”
ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক
হাসিনার নয়াদিল্লিতে আগমনের পর থেকে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে সম্পর্ক উত্তপ্ত। তারেক রহমান নেতৃত্বাধীন সরকার বারবার স্পষ্ট করে দিয়েছে যে- শেখ হাসিনার প্রত্যাবর্তন একটি আইনি প্রক্রিয়া যা তার নিজস্ব গতিতে চলবে।
ঢাকা, যা হাসিনাকে ‘পলাতক অপরাধী’ হিসেবে আখ্যায়িত করে চলেছে, নয়াদিল্লিকে অনুরোধ করেছে যেন তাঁকে ভারতের মাটি থেকে কোনও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশ নিতে বা রাজনৈতিক বিবৃতি দিতে অনুমতি না দেওয়া হয়।
অন্যদিকে, ভারত বাংলাদেশের বর্তমান সরকারের সঙ্গে সম্পৃক্ত হওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি রহমানকে তার নির্বাচনী বিজয়ের জন্য অভিনন্দন জানানো প্রথম নেতাদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন।
