Published on
:
2 min read
‘ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ বরদাস্ত করা হবে না। সাধারণ মানুষের সঙ্গে চলতে হবে।’ রবিবার সন্ধ্যায় নন্দীগ্রামের রেয়াপাড়ার একটি অনুষ্ঠানে গিয়ে দলীয় নেতৃত্বকে এমনটাই উপদেশ দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। নন্দীগ্রামের শহিদ পরিবারকে পুজোর উপহার প্রদান অনুষ্ঠানে শুভেন্দু বলেন, ‘ এমন কোনও কাজ করে জাহাজ বাড়ি বানিয়ে ফেলবেন, তা হবে না। দলের সকলকে নিয়ে কাজ করতে হবে। দলের বাইরে কেউ না। দলকে মজবুত করতে সকলকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।’ উল্লেখ্য, নন্দীগ্রামের মমতাপন্থী তৃণমূলের কোর কমিটির নেতা শেখ সুফিয়ানের ‘জাহাজ বাড়ি’ নিয়ে একাধিকবার কটাক্ষ করতে শোনা গিয়েছে শুভেন্দু অধিকারীকে।
নন্দীগ্রামের শহিদ ও ক্ষতিগ্রস্ত ৪১টি পরিবারের হাতে পুজোর উপহার তুলে দিলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। প্রতি বছরই মহালয়ার দিন নন্দীগ্রামের শহিদ পরিবারের হাতে পুজোর উপহার তুলে দেন তিনি। এ বছর মহালয়ার পরের দিন নন্দীগ্রামের রেয়াপাড়ায় ‘সম্মাননা জ্ঞাপন ও অর্ঘ্য প্রদান’ অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে এই উপহার তুলে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে শহিদ পরিবারের সদস্যদের অনুষ্ঠান প্রাঙ্গণে প্রবেশ করানো হয়। ঢাক বাজিয়ে অনুষ্ঠানের শুভ সূচনা ঘটে।
নন্দীগ্রামে ‘জাহাজ বাড়ি’ নিয়ে চর্চা নতুন নয়। মহম্মদপুর গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার তারাচাঁদবাড় গ্রামে রাস্তার পাশেই রয়েছে সেখ সুফিয়ানের সেই বিশালাকার বাড়ি। এই বাড়ির প্রসঙ্গ তুলে তৃণমূল নেতাদের বেহিসাবি অর্থ উপার্জনের অভিযোগ তুলেছেন শুভেন্দু। তৃণমূল সরকার বিদায় নেওয়ার পরে বিজেপি নেতাদের মধ্যেও যেন সেই রোগ ঢুকে না পড়ে, সে ব্যাপারে সাবধান করতেই মুখ্যমন্ত্রীর এই বার্তা বলে ধারণা রাজনৈতিক মহলের।
এ দিনের অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী জানান, নন্দীগ্রামের জন্য উন্নয়নের যে সব প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে, সেই সব শীঘ্রই পূরণ করা হবে। অন্য দিকে, শুভেন্দু প্রসঙ্গে কাঁথির সাংসদ সৌমেন্দু অধিকারী বলেন, ‘সাংসদ ছিলেন, বিধায়ক ছিলেন, মন্ত্রী ছিলেন, বিরোধী দলনেতা ছিলেন। সব সময়েই নন্দীগ্রামের মানুষের কাছে আগেও তিনি যে ভাবে ছিলেন, আজ মুখ্যমন্ত্রী হয়েছেন। আজও তিনি সেই ভাবেই আছেন। আগামী দিনেও নন্দীগ্রামের মানুষের সেবক হিসেবে থাকবেন শুভেন্দু অধিকারী।’
