দলীয় নেতাকর্মী ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের অকৃত্রিম ভালোবাসা ও শ্রদ্ধায় চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন সাবেক উপমন্ত্রী, মুন্সীগঞ্জ জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি এবং মুন্সীগঞ্জ-৩ আসন থেকে পাঁচবারের নির্বাচিত সংসদ সদস্য আ. হাই।
বিজ্ঞাপন
বৃহস্পতিবার রাত ৯টায় মুন্সীগঞ্জের মুক্তারপুরের মিরেশ্বরাই সামাজিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়। দাফন শেষে তার রুহের মাগফিরাত কামনায় দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।
এর আগে বৃহস্পতিবার বেলা ৩টায় জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় আ. হাইয়ের প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকারসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীরা অংশ নেন।
পরে বাদ মাগরিব মুন্সীগঞ্জ জেলা শহরের বিএনপি কার্যালয়ের সামনে তার দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবীর রিজভী, যুগ্ম মহাসচিব ও মুন্সীগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম আজাদ, সমাজকল্যাণবিষয়ক সম্পাদক ও মুন্সীগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য কামরুজ্জামান রতন, মুন্সীগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য শেখ মো. আব্দুল্লাহ, বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির স্বেচ্ছাসেবকবিষয়ক সম্পাদক মীর সরফত আলী সপু, ছাত্রদল কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক মো. নাছির উদ্দিন এবং কেন্দ্রীয় নেতা সাজু কামালসহ জাতীয় ও স্থানীয় পর্যায়ের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
জানাজায় জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা দলীয় নেতাকর্মী ছাড়াও হাজার হাজার শোকার্ত মানুষের ঢল নামে। এ সময় পুরো এলাকায় শোকাবহ পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
জানাজার আগে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মুন্সীগঞ্জ জেলা শাখার আমির আজম রুহুল কুদ্দুস, সেক্রেটারি ফখরুদ্দিন রাজী এবং গণ অধিকার পরিষদের মহাসচিব মনসুর আহমেদ সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দেন। তারা প্রয়াত আ. হাইয়ের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানান।
এ সময় প্রয়াত আ. হাইয়ের ছোট ভাই ও জেলা বিএনপির সাবেক সদস্যসচিব মো. মহিউদ্দিন এবং তার বড় ছেলে ইফতেখারুল আলম রিপন উপস্থিত সবার কাছে দোয়া প্রার্থনা করেন। জানাজায় ইমামতি করেন হেফাজতে ইসলামীর সহসভাপতি মাওলানা নূর হোসেন নূরানী।
আ. হাইয়ের মৃত্যুতে প্রধানমন্ত্রীসহ মুন্সীগঞ্জের তিনটি সংসদীয় আসনের সংসদ সদস্য, সরকারি হরগঙ্গা কলেজ অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন, মুন্সীগঞ্জ প্রেসক্লাব ও জেলা পূজা উদযাপন পরিষদ গভীর শোক ও সমবেদনা জানিয়েছেন।
প্রসঙ্গত, বর্ষীয়ান এই রাজনীতিবিদ গত বুধবার দিবাগত রাত ১টায় ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৭৭ বছর। পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, তিনি দীর্ঘদিন ধরে বার্ধক্যজনিত নানা রোগে ভুগছিলেন। তিনি স্ত্রী, দুই ছেলে, দুই মেয়ে এবং অসংখ্য আত্মীয়স্বজন ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।
