Published on
:
2 min read
আশিস নন্দী, বারাসত
দুর্গাপুজোয় বামেদের বইয়ের স্টল নিয়ে আপত্তি তুলেছিলেন খোদ মুখ্যমন্ত্রী। বইয়ের স্টল ভাঙচুর, বই রাস্তায় ফেলে দেওয়া নিয়ে গোটা পুজো পর্মাবেই তপ্ত হয়ে ওঠে বাংলার রাজনীতি। কিন্তু এর পরেও পুজোর ক’টা দিন বইয়ের স্টল করা নিয়ে পিছু হটেনি বারাসতের সিপিএম নেতৃত্ব। বহু বাধা পেরিয়ে এই পুজোয় বারাসত শহরের চারটি বুকস্টল থেকে রেকর্ড বই বিক্রি হয়েছে।
শুধু বারাসতের চারটি স্টলেই বই বিক্রি হয়েছে ৬৫ হাজার ৯৯০ টাকার বই। গত বছরের তুলনায় ১৭ হাজার ৭৯০ টাকার বই বেশি বিক্রি হয়েছে। স্বাভাবিক ভাবে বই বিক্রির হিসেবে উচ্ছ্বসিত শহরের সিপিএম নেতৃত্ব। জেলার হিসেবও মন্দ নয়। উত্তর ২৪ পরগনা জেলায় বই বিক্রি হয়েছে ২৭ লক্ষ ৫৯ হাজার ২২০ টাকার। গত বছর অঙ্কটা ছিল ১৮ লক্ষ ৭০ হাজার ৫২০ টাকা।
দুর্গাপুজোর প্রথম সপ্তমীর দিনে বারাসতের চাঁপাডালি ও কলোনি মোড়ের সিপিএমের বুকস্টলে ভাঙচুর চালানোর অভিযোগ ওঠে বিজেপির বিরুদ্ধে। দু’টি স্টলের চেয়ার, টেবিল, ব্যানার ভাঙচুর করা হয়। স্টল থেকে বই ছুড়ে ফেলে দেওয়া হয় রাস্তায়। বই ছেঁড়ার তালিকায় ছিল স্বামী বিবেকানন্দের ভাই ভূপেন্দ্রনাথ দত্তের লেখা ‘অপ্রকাশিত রাজনৈতিক ইতিহাস’।
হামলাকারীরা রাস্তায় ফেলে দেওয়ার পর বইয়ে লাথিও মারে। দ্বিতীয় সপ্তমীর দিন ভাঙচুর চালানো হয় বারাসতের ভদ্রবাড়ি মোড়ের স্টলে। বই ছিঁড়ে রাস্তায় ফেলে দেওয়ার পর তাতে লাথি মারার দৃশ্য দেখে শহরের বাসিন্দা থেকে পথিচলতি মানুষ হতবাক হয়ে যান। তবুও স্টল বন্ধ করেননি সিপিএম নেতৃত্ব। সাধারণ বইপ্রেমীরা স্টল থেকে বই কিনেই প্রতিবাদ জানিয়েছেন।
হিসেব অনুযায়ী, কলোনি মোড়ের স্টল থেকে ২০২৫–এ বই বিক্রি হয়েছিল ১৮ হাজার ৫০০ টাকার। আর এ বছর বই বিক্রি এক লাফে বেড়ে হয়েছে ২৩ হাজার ৭১০ টাকা। চাঁপাডালি মোড়ের স্টল থেকে ২০২৫–এ বই বিক্রির পরিমাণ ছিল ৭,৮০০ টাকা। কিন্তু এ বছর সেই স্টল থেকে বই বিক্রি হয়েছে ১৭ হাজার ৫০০ টাকার। ভদ্রবাড়ি মোড়ে বই বিক্রির পরিমাণ গত বছরে ছিল ১০ হাজার ৭০০ টাকা। এ বছর সেটা বেড়ে হয়েছে ১৪ হাজার ২৫০ টাকা। গত বছর বারাসতের হরিহরপুররের স্টল থেকে বিক্রির পরিমাণ ছিল ১১ হাজার ২০০ টাকা। এ বছর বিক্রি বেড়ে হয়েছে ২০ হাজার ৫৩০ টাকা।
এই প্রসঙ্গে সিপিএম নেতা সন্দীপ মিত্র বলেন, ‘রাস্তা থেকে ছেঁড়া বই, ধুলোমাখা ভেজা অবস্থায় বইয়ের পাতা কুড়িয়ে এনে সযত্নে দিন বদলের শপথের স্মারক হিসেবে নিজের কাছে রেখে দিয়েছি। এ ভাবে বই ছেঁড়া, স্টল ভাঙচুরের ঘটনা এর আগে রাজ্যে কখনও দেখেনি সাধারণ মানুষ। কিন্তু এর প্রতিবাদ জানিয়ে হাজারে হাজারে মানুষ আমাদের দলের স্টল থেকে বই কিনেছেন।সে কারণেই এ বছর রেকর্ড বই বিক্রি হয়েছে।’
সিপিএমের জেলা সম্পাদক পলাশ দাস বলেন, ‘বিজেপি আমাদের স্টলে হামলা চালানোয় আমাদের বই বিক্রি বেড়েছে। অবাক করার মতো বিষয়, অল্পবয়সি ছেলেমেয়েদের মধ্যে মার্কস ও লেনিনের বইয়ের ব্যাপক চাহিদা ছিল। আসলে বইকে ভয় ওদের। কারণ, বই পড়লে ধর্ম নিয়ে খেলা বন্ধ হয়ে যাবে।’
বামেদের দাবি উড়িয়ে বারাসতের বিজেপি বিধায়ক শঙ্কর চট্টোপাধ্যায় বলেন, ‘বই বিক্রির টাকার যে হিসেব সিপিএম দিচ্ছে, সেটার কোন সারবত্তা নেই। অপপ্রচার করা হচ্ছে। এক একটা স্টলে বই বিক্রির যে হিসেব দেওয়া হচ্ছে, অত টাকার বই ছিল না স্টলে। সিপিএমের বই কেনার লোকই তো নেই।’
