যেন হিন্দি ছবির হিরো! বন্দুক উঁচিয়ে বস্তি অঞ্চলের মাদক ব্যবসায়ীদের ধাওয়া করতে দেখা গেল বাংলাদেশের এক মন্ত্রীকে। মাদক বিরোধী অভিযানের সেই ভিডিও নিজেই সোশাল মিডিয়ায় আপলোড করেন অভিযুক্ত ইশরাক হোসেন। এই ঘটনায় বিতর্ক দানা বেঁধেছে। প্রশ্ন উঠছে, মন্ত্রীর হাতে বন্দুক কেন? আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স আছে? থাকলেও যে কাজ পুলিশের করার কথা, সেই কাজ তিনি করছেন কোন এক্তিয়ারে?
মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন বিতর্কিত ভিডিওটি আপলোড করেছেন এক্স হ্যান্ডেলে। সেখানে দেখা গিয়েছে, এক হাতে মেগাফোন, অন্য হাতে একটি পিস্তল নিয়ে গাড়ি থেকে নামছেন ইশরাক। এরপর তিনি স্থানীয় একদল মানুষের পিছনে ধাওয়া করেন। তাঁর সঙ্গে থাকা এক ব্যক্তির হাতেও দেখা গিয়েছে একটি হ্যান্ডগান। ভিডিও ফুটেজে মন্ত্রীকে বলতে শোনা গিয়েছে, “তোমরা পুরো শহরটাকে ধ্বংস করছ, পুরো এলাকাটাকে বরবাদ করে দিচ্ছ”।
Ishraque’s Action: Drug den demolished, dealers handed over to the police. Date: Saturday, October 17, 2026 Location: Gendaria, near the railway tracks. #AdminPost #Ishraque_Hossain #Ishraque #Dhaka_6 https://t.co/fCW5BqjKdh
— Ishraque Hossain (@ishraqueBD) October 17, 2026
৩৯ বছর বয়সি ইশরাক বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর অন্যতম যুব নেতা। মন্ত্রী এবং তাঁর সহযোগীরা যাঁদের মাদক সংক্রান্ত দোষে আটক করেছেন, তাঁরা নির্দোষ বলে দাবি করেন। যদিও ইশরাক জানিয়ে দেন, পুলিশ তদন্ত করবে। এদিকে স্থানীয় থানার পুলিশ আধিকারিকদের দাবি, তাদের না জানিয়ে মাদক বিরোধী অভিযান চালান মন্ত্রীমশাই। পরে অভিযুক্ত ছয় থেকে সাতজনকে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়।
উল্লেখ্য, সোশাল মিডিয়া পোস্টে মন্ত্রী দাবি করেন, আগেও দেশের বিভিন্ন প্রান্তে তিনি মাদক বিরোধী অভিযান চালিয়েছেন। ভিডিওতে তাঁর হাতের বন্দুকের অংশটিকে ‘ব্লার’ করা হলেও স্পষ্ট দেখা গিয়েছে। প্রশ্ন উঠছে, পুলিশকে না জানিয়ে কোনও মন্ত্রী কি মাদক বিরোধী অভিযান চালাতে পারেন? বন্দুক উঁচিয়ে মন্ত্রীর দাদাগিরিকে ক্ষমতার অপব্যবহার হিসাবে দেখছে নেটিজেনদের একটা বড় অংশ।
