Published on
:
2 min read
দেশের সবচেয়ে বড় রাষ্টায়ত্ত ব্যাঙ্ক সাইবার হানার কবলে। ২১ অক্টোবর এই বিষয়টির কথা জানিয়েছিল স্টেট ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া (SBI)। ব্যাঙ্কের তরফে জানানো হয়েছিল, তাদের বেশ কয়েক হাজার গ্রাহকের রেকর্ড চুরি হয়েছে, যেগুলির মধ্যে পরিচয় পাওয়া যায় এমন তথ্যও রয়েছে। ওই সব নথি ডার্ক ওয়েবে দেওয়া হয়েছে বলেও জানিয়েছে ব্যাঙ্ক।
আর এই ডেটা লিক নিয়েই গ্রাহকদের মধ্যে তৈরি হয়েছে উদ্বেগ। কার ডেটা হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে, বা কোন কোন ব্যক্তিগত ডেটা চুরি হয়েছে, তা নিয়ে গ্রাহকদের অনেকেই বেশ চিন্তায়।
কী জানিয়েছে ব্যাঙ্ক?
তবে গ্রাহকদের এই নিয়ে আশ্বস্ত করেছে ব্যাঙ্ক। SBI-এর তরফ থেকে জানানো হয়েছে, তাঁদের অ্যাকাউন্টে জমা টাকা ও ব্যালান্স সুরক্ষিত রয়েছে। ব্যাঙ্কের দাবি, ডেটা লিকের ঘটনায় যে প্রাথমিক তদন্ত করা হয়েছে, তাতে প্রায় ৩,৭৫,০০০টি রেকর্ড খতিয়ে দেখে ৩,৮৯৭টি রেকর্ডে গ্রাহকদের পরিচয় সংক্রান্ত তথ্য পাওয়া গিয়েছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখতে সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের সাহায্যও নেওয়া হয়েছে। তবে প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে গ্রাহকদের অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা চুরি হয়নি।
ঠিক কী ঘটেছে SBI-তে?
বিভিন্ন প্রতিবেদন অনুযায়ী, গ্রাহকদের কিছু ব্যক্তিগত তথ্য ডার্ক ওয়েবে পাওয়া যাওয়ার বিষয়টি সামনে এসেছে। এরপর সম্ভাব্য ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহকদের সতর্ক করতে উদ্যোগী হয়েছে SBI। ব্যাঙ্ক জানিয়েছে, যাঁদের তথ্য প্রভাবিত হয়ে থাকতে পারে, তাঁদের ইমেল ও WhatsApp-এর মাধ্যমে ব্যক্তিগতভাবে জানানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে।
কী কী তথ্য ফাঁসের আশঙ্কা?
প্রাথমিক তদন্তে পাওয়া রেকর্ডগুলিতে একাধিক ধরনের ব্যক্তিগত তথ্য থাকার কথা বলা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—
গ্রাহকের নাম ও রেজিস্টার্ড মোবাইল নম্বর
জন্মতারিখ ও ইমেল আইডি
বাড়ির ঠিকানা ও লিঙ্গ সংক্রান্ত তথ্য
ব্যাঙ্কের শাখা এবং গ্রাহক পরিচিতি নম্বর বা CIF
ঋণ ও ঋণ সংক্রান্ত আবেদন বা লিডের কিছু তথ্য
তবে সব গ্রাহকের সব তথ্য ফাঁস হয়েছে, এমন দাবি করা হয়নি।
তবে আপনার অ্যাকাউন্টের টাকা কি নিরাপদ?
SBI জানিয়েছে, গ্রাহকদের অ্যাকাউন্টে থাকা টাকা সুরক্ষিত রয়েছে। তবে অতিরিক্ত সতর্কতার জন্য SBI কিছু সতর্কতা মানতে বলেছে।
সাধারণ গ্রাহকরা কী করবেন?
1. OTP, PIN ও পাসওয়ার্ড কাউকে দেবেন না। ব্যাঙ্কের নাম করে ফোন করলেও গোপন তথ্য শেয়ার করবেন না।
2. সন্দেহজনক লিঙ্কে ক্লিক করবেন না। ইমেল বা WhatsApp-এ আসা অচেনা লিঙ্ক এড়িয়ে চলুন।
3. অ্যাকাউন্টে নজর রাখুন। নিয়মিত ব্যাঙ্কের লেনদেন পরীক্ষা করুন। অচেনা লেনদেন দেখলে দ্রুত ব্যাঙ্ককে জানান।
4. পরিচয় যাচাই করুন। ব্যাঙ্কের নামে কোনও মেসেজ আসলে তার আদৌ কতটা সঠিক তা যাচাই করুন।
