রক্তে ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রা বেড়ে গেলে কিছু মানুষের গেঁটে বাত বা গাউটের সমস্যা দেখা দিতে পারে। এতে বিশেষ করে পায়ের বুড়ো আঙুল, গোড়ালি ও হাঁটুর মতো অস্থিসন্ধিতে তীব্র ব্যথা, ফোলাভাব ও প্রদাহ হয়। তবে খাদ্যাভ্যাস ও জীবনযাত্রায় পরিবর্তন এনে ঝুঁকি কমানো এবং রোগ নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। যদিও মাত্র সাত দিনে ইউরিক অ্যাসিড স্বাভাবিক হয়ে যাবে বা গেঁটে বাতের ব্যথা পুরোপুরি সেরে যাবে-এমন নিশ্চয়তা নেই।
পর্যাপ্ত পানি পান করুন
শরীর থেকে ইউরিক অ্যাসিড বের করে দিতে কিডনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাই শরীরে পানির ঘাটতি হতে দেওয়া উচিত নয়। নিয়মিত পর্যাপ্ত পানি পান করুন। তবে সবার জন্য দৈনিক তিন-চার লিটার পানি প্রয়োজন হয় না। বয়স, শারীরিক অবস্থা, আবহাওয়া এবং কিডনি বা হৃদ্রোগের মতো সমস্যার ওপর পানির চাহিদা নির্ভর করে। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী পানির পরিমাণ নির্ধারণ করা ভালো।
প্রোটিনের উৎস বেছে নিন বুঝেশুনে
কিছু খাবারে পিউরিন বেশি থাকে, যা ভেঙে ইউরিক অ্যাসিড তৈরি হয়। তাই গেঁটে বাত থাকলে কলিজা ও অন্যান্য অঙ্গপ্রত্যঙ্গের মাংস, অতিরিক্ত লাল মাংস এবং কিছু সামুদ্রিক খাবার সীমিত রাখা উপকারী হতে পারে।
তবে খাদ্যতালিকা থেকে প্রোটিন পুরোপুরি বাদ দেওয়া ঠিক নয়। ডিম, দুধ, দই, ডাল ও অন্যান্য উদ্ভিজ্জ প্রোটিনের মতো তুলনামূলক উপযোগী উৎস বেছে নেওয়া যেতে পারে। মুরগিসহ অন্যান্য মাংসও পরিমিত পরিমাণে খাওয়া উচিত।
ভিটামিন সি-সমৃদ্ধ ফল খান
আমলকী, পেয়ারা, কমলা ও লেবুর মতো ফল ভিটামিন সি সরবরাহ করে এবং সুষম খাদ্যতালিকার অংশ হিসেবে উপকারী। তবে শুধু ভিটামিন সি-সমৃদ্ধ ফল খেয়ে ইউরিক অ্যাসিড নিয়ন্ত্রণ বা গেঁটে বাতের চিকিৎসা সম্ভব নয়। নিয়মিত ফলমূল ও শাকসবজি খাওয়ার পাশাপাশি সামগ্রিক খাদ্যাভ্যাসের দিকে নজর দেওয়া প্রয়োজন।
মদ ও চিনিযুক্ত পানীয় এড়িয়ে চলুন
অ্যালকোহল, বিশেষ করে বিয়ার, গেঁটে বাতের আক্রমণের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। একইভাবে অতিরিক্ত চিনি ও ফ্রুক্টোজযুক্ত কোমল পানীয়ও ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রা বাড়ার সঙ্গে সম্পর্কিত। তাই এসব পানীয় এড়িয়ে চলা বা যথাসম্ভব সীমিত রাখা ভালো।
ওজন নিয়ন্ত্রণ ও নিয়মিত শরীরচর্চা করুন
অতিরিক্ত ওজন থাকলে ধীরে ধীরে ওজন কমানো ইউরিক অ্যাসিড নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করতে পারে। নিয়মিত হাঁটা এবং শারীরিক সক্ষমতা অনুযায়ী ব্যায়াম করা উপকারী। তবে গেঁটে বাতের তীব্র আক্রমণের সময় ব্যথাযুক্ত অস্থিসন্ধিতে চাপ না দিয়ে বিশ্রাম নেওয়া উচিত। দ্রুত ওজন কমানোর জন্য উপবাস বা কঠোর ডায়েট অনুসরণ করা ঠিক নয়।
ঘরোয়া উপাদানের ওপর নির্ভর করবেন না
অ্যাপল সিডার ভিনিগার, হলুদ কিংবা শসা-আদার রস ইউরিক অ্যাসিড কমিয়ে গেঁটে বাত সারিয়ে দেয়-এমন দাবির পক্ষে পর্যাপ্ত নির্ভরযোগ্য বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই। এসব উপাদানকে চিকিৎসার বিকল্প হিসেবে ব্যবহার করা উচিত নয়।
কখন চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন?
গেঁটে বাতের ব্যথা নিয়ন্ত্রণে চিকিৎসকের পরামর্শে প্রয়োজনীয় ওষুধ ব্যবহার করতে হতে পারে। বারবার আক্রমণ হলে বা ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রা বেশি থাকলে দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসাও প্রয়োজন হতে পারে। আর কোনো অস্থিসন্ধি হঠাৎ খুব লাল, গরম ও ফুলে গেলে, বিশেষ করে জ্বর থাকলে, দ্রুত চিকিৎসা নিন-কারণ এমন লক্ষণ সংক্রমণসহ অন্য গুরুতর সমস্যারও ইঙ্গিত হতে পারে।
সব মিলিয়ে, পর্যাপ্ত পানি পান, সুষম খাদ্যাভ্যাস, স্বাস্থ্যকর ওজন বজায় রাখা এবং প্রয়োজনমতো চিকিৎসা গ্রহণের মাধ্যমে গেঁটে বাত নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। তবে সাত দিনে সম্পূর্ণ সুস্থ হওয়ার প্রতিশ্রুতির বদলে দীর্ঘমেয়াদি ও প্রমাণভিত্তিক ব্যবস্থাপনাকেই গুরুত্ব দেওয়া উচিত।
বিআলো/শিলি