আজকাল ওয়েবডেস্ক: দীপাবলি পর্যন্ত আর কোনও বিক্ষোভ কর্মসূচি নেই। মঙ্গলবার এই ঘোষণা করলেন 'ককরোচ জনতা পার্টি' (সিজেপি)-র প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে। উৎসবের দিনগুলোতে যাতে সংগঠনের সমর্থকরা নিশ্চিন্তে তাঁদের প্রিয়জনদের সঙ্গে কাটাতে পারেন তাই এই উদ্যোগ সিজেপি নেতৃত্বের। অভিজিৎ দীপকে বলেন, সিজেপি সমর্থকদের (যাদের তিনি ভালোবেসে 'ককরোচ' বলে সম্বোধন করেন) এখন বিক্ষোভ থেকে বিরতি নিয়ে পরিবারের সঙ্গে কিছু সময় কাটানো উচিত।
ককরোচ প্রতিষ্ঠাতা স্বীকার করেন যে, গত কয়েক দিনের ঘটনার পর সমর্থকদের পরিবার নিশ্চয়ই উদ্বিগ্ন। উল্লেখ্য, ভোটার তালিকার 'স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন' (এসআইআর) নিয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে সিজেপি ও বিরোধী দলগুলো বিক্ষোভের ডাক দিয়েছিল, যার জেরে দিল্লিতে কঠোর দমন-পীড়ন চালানো হয়।
একটি ভিডিও বার্তায় দীপকে বলেন, "আমি চাই আপনারা সবাই (আমার সমস্ত 'ককরোচ' বন্ধুরা) কয়েকটা দিন আপনাদের পরিবারের সঙ্গে কাটান। উৎসবের সময় এগিয়ে আসছে, আর গত কয়েক দিনে যা ঘটেছে, তাতে আপনাদের পরিবারের সদস্যরা নিশ্চয়ই খুব চিন্তিত।" সিজেপি প্রতিষ্ঠাতা আরও বলেন, "তাই, কয়েকটা দিন পরিবারের সঙ্গে কাটান। পরিবারের পাশে থাকুন, প্রিয়জনদের সঙ্গে সময় কাটান।" তিনি জানান, তাঁর নিজের বাবা-মা, এমনকি সিজেপির অন্য নেতা সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কার বাবা-মাও তাঁদের নিয়ে উদ্বিগ্ন ছিলেন।
https://x.com/abhijeet_dipke/status/2112458509925417420
অভিজিৎ দীপকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে বলেন, সিজেপি সদস্যদের কারাগারে আটকে রাখতে তিনি "পুরো রাষ্ট্রীয় যন্ত্র" ব্যবহার করছেন। সিজেপি প্রতিষ্ঠাতা বলেন, "পাঁচ দিন পেরিয়ে যাওয়ার পরেও, সৌরভ দাস- যিনি নিজেই মনে করেছিলেন যে তিনি হয়তো একদিনও জেলে থাকতে পারবেন না- তিনিই পঞ্চম দিনে হাসিমুখে আদালতে হাজির হলেন। আর যখন জানতে পারলেন যে তাঁর বিচার বিভাগীয় হেফাজতের মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে, তখনও তিনি বিন্দুমাত্র ভয় পাননি। এটাই হল শক্তি।"
দীপকে আরও বলেন, "আশুতোষ, যে পাঁচ দিন ধরে জেলে রয়েছে, সে-ও আদালতে আসার পর তার চোখেমুখে কোনও ভয়ের ছাপ ছিল না। এটাই হল শক্তি।"
সোমবার (১৯ অক্টোবর) দিল্লির মন্দির মার্গ থানায় নবনিযুক্ত এক বিশেষ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে হাজির করার পর রাঙ্কা ও দাসকে আরও দুই দিনের জন্য বিচার বিভাগীয় হেফাজতে (জুডিশিয়াল কাস্টডি) পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়। এর আগে, ১৩ অক্টোবর তাঁদের পাঁচ দিনের জন্য বিচার বিভাগীয় হেফাজতে পাঠানো হয়েছিল। অভিযোগ যে, তাঁরা একটি তালাবদ্ধ গেট টপকে যন্তর মন্তরে প্রবেশ করেছিলেন, অথচ তার আগের দিনই যন্তর মন্তরকে আর প্রতিবাদস্থল হিসেবে গণ্য না করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। সিজেপি-এর অন্যান্য কর্মীদের সঙ্গে তাঁরা জাতীয় পতাকা প্রদর্শন করেন এবং মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে স্লোগান দেন। এরপরই তাঁদের আটক করা হয়।
