ভারতের দিল্লি থেকে চেন্নাইগামী ইন্ডিগো এয়ারলাইন্সের একটি বিমানে যাত্রীর পাওয়ার ব্যাংক থেকে হঠাৎ আগুন ধরে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এর ফলে বিমানটিকে জরুরি ভিত্তিতে হায়দরাবাদে নামাতে বাধ্য হয় কর্তৃপক্ষ।
দুর্ঘটনার পর বিমানে পাওয়ার ব্যাংক বা ইলেকট্রনিক জিনিসপত্র নিয়ে ভ্রমণের নিয়মকানুন এবং সুরক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে আবারও নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
রোববার (১১ অক্টোবর) ইন্ডিগোর ‘৬ই ৬১১৫’ নম্বর বিমানটি যখন আকাশে ছিল, তখন যাত্রীদের মাথার ওপরের মালামাল রাখার জায়গায় অর্থাৎ ওভারহেড কম্পার্টমেন্টে রাখা একটি পাওয়ার ব্যাংকে আগুন ধরে যায় এবং ধোঁয়া বের হতে থাকে। এতে বিমানের যাত্রীদের মধ্যে প্রচণ্ড আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, যাত্রীরা প্রথমে তাদের ব্যাগ দিয়ে আগুন নেভানোর চেষ্টা করছেন। পরে বিমানের ক্রুরা অগ্নিনির্বাপক যন্ত্রের সাহায্যে দ্রুত আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন এবং বিমানটি নিরাপদে হায়দরাবাদে অবতরণ করে। পরবর্তীতে যাত্রীদের গন্তব্যে পৌঁছানোর জন্য বিকল্প একটি বিমানের ব্যবস্থা করা হয়।
এই ঘটনার পর ইন্ডিগো এবং বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (ডিজিসিএ) নিয়মগুলো আবার আলোচনায় এসেছে। নিয়ম অনুযায়ী, পাওয়ার ব্যাংক ও লিথিয়াম ব্যাটারি কেবল হাতের ব্যাগে বা হ্যান্ড ব্যাগেজে রাখা যাবে। এগুলো কখনই মাথার ওপরের লগেজ রাখার বাক্সে বা উড়োজাহাজের পেটের ভেতরে থাকা চেক-ইন লাগেজে দেওয়া যাবে না।
পাওয়ার ব্যাংক সবসময় যাত্রীর নিজের হাতের কাছে—যেমন সিটের নিচে, সিটের পকেটে বা নিজের কাছে রাখতে হবে। কারণ মাথার ওপরের বাক্সে আগুন লাগলে তা সহজে চোখে পড়ে না এবং দ্রুত নেভানোও কঠিন হয়ে পড়ে।
একজন যাত্রী বিমান কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়ে সর্বোচ্চ ১০০ ওয়াট-আওয়ার ক্ষমতার দুটি পাওয়ার ব্যাংক সাথে রাখতে পারেন। তবে বিমান চলাকালীন পাওয়ার ব্যাংক দিয়ে ফোন বা অন্য কোনো ডিভাইস চার্জ দেওয়া কিংবা বিমানের নিজস্ব সকেটে লাগিয়ে পাওয়ার ব্যাংক চার্জ দেওয়া সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
বিশেষজ্ঞদের মতে, পাওয়ার ব্যাংক একেবারে নিষিদ্ধ না করে সঠিক নিয়ম মেনে চলা এবং যাত্রীদের সচেতন করাই এ ধরনের বিপদ এড়ানোর একমাত্র উপায়।
সূত্র: এনডিটিভি