নাটোরের বড়াইগ্রামে বাস-ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত পাঁচজনের বাড়ি শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলায়। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) ভোরে দুর্ঘটনার খবর পৌঁছানোর পর থেকেই পরিবারগুলোতে শোকের মাতম চলছে। সন্ধ্যায় একে একে মরদেহগুলো গ্রামের বাড়িতে পৌঁছালে স্বজনদের কান্নায় ভারী হয়ে ওঠে পরিবেশ।
নিহত ব্যক্তিরা হলেন জাজিরা উপজেলার বড়কান্দি ইউনিয়নের ডুবিসায়বর এলাকার সোহাগ শিকদার (৩২), সালাল মোল্লা (৪০) ও সামাদ ফকির (৭০), রামকৃষ্ণপুর এলাকার জুয়েল মাদবর (৩৭) এবং পালেরচর ইউনিয়নের কাথুরিয়া এলাকার শাহিন আহম্মেদ (৩৩)।
পরিবারের সদস্যরা জানান, সোমবার রাতে মাদারীপুরের মোস্তফাপুর থেকে যাত্রীবাহী বাসে করে রাজশাহীর উদ্দেশে রওনা হয়েছিলেন তারা। সেখানে পেঁয়াজ, হলুদ, ভুট্টাসহ বিভিন্ন কৃষিপণ্য কেনার পরিকল্পনা ছিল তাদের।
মঙ্গলবার ভোর ৪টার দিকে বড়াইগ্রাম উপজেলার বনপাড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের সামনে নাটোর-পাবনা মহাসড়কে বাসটির সঙ্গে একটি ট্রাকের সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই পাঁচজনের মৃত্যু হয়। দুর্ঘটনার সময় সোহাগ, সালাল, সামাদ ও শাহিন বাসের সামনের দিকে বসেছিলেন। সংঘর্ষে বাসের সামনের অংশ দুমড়েমুচড়ে যায়।
বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে জুয়েল মাদবরের মরদেহ তাঁর গ্রামের বাড়িতে পৌঁছায়। স্বামীর মরদেহ দেখে বারবার কান্নায় ভেঙে পড়েন স্ত্রী মৌসুমী আক্তার (২৫)। চার বছর বয়সী মেয়ে রিদিতা ও দুই বছরের ছেলে সাইফানকে নিয়ে এখন অনিশ্চিত ভবিষ্যতের চিন্তায় দিশাহারা তিনি।
মৌসুমী জানান, রাজশাহীতে যাওয়ার আগে দুই সন্তানকে আদর করে বিদায় নিয়েছিলেন জুয়েল। যাওয়ার সময় বাবার কাছে চকলেট আনার বায়না করেছিল শিশুরা। সেই বাবাই যে আর ফিরবেন না, তা এখনো বুঝে উঠতে পারেনি তারা।
_1792502117.jpeg)
নিহত সোহাগ শিকদারের চার বছর বয়সী মেয়ে আয়াতও বাবাকে হারিয়েছে। স্বজনদের কান্না আর আহাজারির মধ্যে নির্বাক হয়ে তাকিয়ে থাকছে শিশুটি।
সোহাগের বাবা ইউনুছ শিকদার বলেন, তার ছেলে কাঁচামালের ব্যবসা করতেন। রাজশাহীতে পেঁয়াজ কিনতে যাওয়ার পথে দুর্ঘটনায় ছেলের মৃত্যুর খবর পান তিনি।
সন্ধ্যার পর সালাল মোল্লার মরদেহ বাড়িতে পৌঁছালে স্ত্রী, সন্তান ও স্বজনেরা কান্নায় ভেঙে পড়েন। তাকে শেষবারের মতো দেখতে বাড়িতে ভিড় করেন আশপাশের কয়েক শ মানুষ। শোকাহত পরিবারকে সান্ত্বনা দিতে এসে প্রতিবেশীরাও নিজেদের আবেগ ধরে রাখতে পারেননি।
জাজিরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সালেহ আহম্মেদ বলেন, নাটোরে বাস-ট্রাক সংঘর্ষে শরীয়তপুরের পাঁচজন নিহত হওয়ার খবর তিনি শুনেছেন। তবে নিহতদের পরিবারের কাছ থেকে বা আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত তথ্য তখনো পাননি। তিনি পরিবারগুলোর খোঁজ নেওয়ার চেষ্টা করছেন।
জাজিরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আল ইমরান বলেন, গণমাধ্যমের মাধ্যমে দুর্ঘটনার খবর জেনে তিনি নিহতদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করছেন। পরিবারগুলোকে সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে।
