খুলনা মহানগরীর লবণচরা থানা এলাকায় দুর্বৃত্তের গুলিতে খুশি বেগম (২৫) নামে এক গৃহবধূ নিহত হয়েছেন। গতকাল সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে লবণচরা থানার জিন্নাহপাড়ার ৭ নম্বর গলি এলাকায় রিকশা থেকে নামার পর মায়ের সামনে তাকে গুলি করে হত্যা করা হয়। নিহত খুশি বেগম দুই সন্তানের জননী ছিলেন। পুলিশ বলছে, খুশির স্বামীর
সঙ্গে মাদককারবার নিয়ে বিরোধ ছিল দুর্বৃত্তদের। একই দিন ভোরে নগরীতে দুর্বৃত্তের গুলিতে প্রাণ হারান ২৭ বছর বয়সী এক যুবক।
লবণচরার ঘটনায় খুশির মা বলেন, সন্ধ্যায় বাজার করা শেষে রিকশায় করে মেয়েকে নিয়ে বাসার গলির মাথায় নামি। এ সময় খুশি আমার আগে রিকশা থেকে নামে। হঠাৎ মোটরসাইকেল নিয়ে দুই ব্যক্তি কাছাকাছি এসে স্বামীর কথা খুশির কাছে জানতে চায়। তখন খুশি বলেছিল, কোথায় গিয়েছে, জানি না। এ সময় অস্ত্র বের করে তাদের একজন আমার সামনে খুশিকে গুলি করে এবং আরেকজন কুপিয়ে হত্যা করে চলে যায়। পরে শুনেছি তারা আশিক গ্রুপের লোকজন। কেন তারা আমার মেয়েকে এভাবে হত্যা করেছে, জানি না। আমি হত্যায় জড়িতদের বিচার চাই।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সন্ধ্যা ৭টার দিকে জিন্নাহপাড়ার বউবাজার ৭ নম্বর গলির মাথায় মোটরসাইকেল নিয়ে দাঁড়িয়ে ছিল দুই যুবক। কিছুক্ষণ পর খুশি ও তার মাকে নিয়ে রিকশা এসে গলির মাথায় থামে। খুশি রিকশা থেকে নামতেই তার কাছে এসে স্বামীর কথা জানতে চায় মোটরসাইকেল নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা ওই দুই ব্যক্তি। এ সময় খুশির পেছনে থাকা ব্যক্তি তাকে গুলি করে। এরপর আরও কাছাকাছি এসে মাথায় অস্ত্র ঠেকিয়ে আবারও গুলি করে। দুই রাউন্ড গুলির পর খুশি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় খুশিকে তার মা উদ্ধার করে খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
লবণচরা থানার ওসি সৈয়দ মোশারেফ হোসেন বলেন, খুশির মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। খুশি ও তার স্বামী সুমন হাওলাদার ওরফে ব্লেড বাবু দুজনেই মাদককারবারের সঙ্গে জড়িত। তাদের বিরুদ্ধে মাদকের মামলাও রয়েছে। তবে কী কারণে এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে এবং কারা এর সঙ্গে জড়িত তাদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে।
গুলি করে যুবককে হত্যা : নগরীতে ভোরের সড়কে গুলিবিদ্ধ হয়ে প্রাণ গেল ২৭ বছর বয়সী যুবক মো. তুষারের। গতকাল ভোর সাড়ে ৫টার দিকে মিস্ত্রিপাড়া বাজারের পূর্ব পাশে আনসার উদ্দিন লেন থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। মরদেহের পাশে পড়ে ছিল নম্বরপ্লেটবিহীন কালো রঙের একটি আর-১৫ মোটরসাইকেল। হত্যাকাণ্ডের কারণ ও জড়িতদের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করতে পারেনি পুলিশ।
সদর থানার ওসি মো. লোকমান হোসেন জানান, প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, তুষার নগরীর লবণচরা থানার জিন্নাপাড়া এলাকার বাসিন্দা। কী কারণে তাকে হত্যা করা হয়েছে, কারও সঙ্গে বিরোধে জড়িত ছিলেন কিনা এবং ঘটনাস্থলে পড়ে থাকা মোটরসাইকেলের সঙ্গে হত্যাকাণ্ডের কী সম্পর্ক এসব প্রশ্নের উত্তর এখনও মেলেনি।
