কুমিল্লা নগরে ‘শেখ হাসিনা আইতাছে’ স্লোগান দিয়ে ঝটিকা মিছিল করেছেন নিষিদ্ধঘোষিত ছাত্রলীগের একদল নেতা-কর্মী। গতকাল শুক্রবার দুপুরে নগরের চকবাজার-সংলগ্ন নুরপুর তেলিকোনা সড়কে এ মিছিল করা হয়। এ ঘটনার পর মিছিলে নেতৃত্ব দেওয়া নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের কর্মী কাইয়ুমসহ ১৭ জনকে আটক করেছে পুলিশ।
কুমিল্লা জেলা পুলিশের মিডিয়া কর্মকর্তা ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. লুৎফর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, বেলা ১টা ১৫ মিনিট থেকে ৩০ মিনিটের মধ্যে জুমার নামাজের খুতবা চলাকালে নিষিদ্ধ সংগঠনের কয়েকজন নেতা-কর্মী নুরপুর তেলিকোনা সড়কে ৩০ সেকেন্ড থেকে এক মিনিটের একটি ঝটিকা মিছিল করেন। মিছিলের পরপরই দ্রুত সরে যান। পরে ভিডিও পর্যালোচনা করে নগরের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে ১৭ জনকে আটক করা হয়। তাঁদের বিরুদ্ধে কোতোয়ালি মডেল থানায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, আটক কাইয়ুম নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের কুমিল্লা মহানগর শাখার একজন কর্মী এবং মহানগর আওয়ামী লীগের (কার্যক্রম নিষিদ্ধ) সভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য আ ক ম বাহাউদ্দিন বাহারের অনুসারী। তাঁর বাড়ি কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলার পাঁচথুবী ইউনিয়নের সাওয়ালপুর পূর্বপাড়ায়। কাইয়ুমের সঙ্গে মিছিলে অংশ নেওয়া আজিজুর রহমান, হাসিব, জামিল ইসলামসহ ১৭ জন আটক করা হয়।
ঝটিকা মিছিলের একটি ভিডিও শুক্রবার সন্ধ্যা থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওতে মিছিলকারীদের নানা স্লোগান দিতে শোনা যায়। তাঁদের কয়েকজনের হাতে লাঠি এবং মুখে মাস্ক দেখা যায়।
প্রত্যক্ষদর্শী স্থানীয় কয়েকজন বলেন, শুক্রবার দুপুরে নুরপুর তেলিকোনা সড়কে প্রথমে কয়েকজন যুবককে স্বাভাবিকভাবে হাঁটাহাঁটি করতে দেখা যায়। পরে হঠাৎ তাঁরা একটি ব্যানার বের করে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিয়ে মিছিল শুরু করেন। অল্প সময়ের মধ্যেই তাঁরা সেখান থেকে সরে যান।
পুলিশ কর্মকর্তা মো. লুৎফর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, বিদেশে পলাতক আ ক ম বাহাউদ্দিনের মেয়ে তাহসিন বাহারের সঙ্গে হোয়াটসঅ্যাপে কাইয়ুমের নিয়মিত যোগাযোগ ছিল। তাহসিন বাহারের নির্দেশে কুমিল্লার পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করতে এবং মানুষের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি করতে ঝটিকা মিছিল করা হয়েছে বলে পুলিশের ধারণা। কাইয়ুমকে আটকের পর তাঁর মুঠোফোনে এ-সংক্রান্ত বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ কথোপকথন পাওয়া গেছে। সেগুলো যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।
