স্বাধীনতার পর প্রথমবারের মতো নগরের ঐতিহাসিক জে এম সেন হলের দুর্গাপূজামণ্ডপ পরিদর্শনে আসছেন কোনো সরকারপ্রধান। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আগমন ঘিরে চট্টগ্রামে দুর্গোৎসবে এবার বাড়তি উৎসবের আমেজ তৈরি হয়েছে।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছানোর কথা প্রধানমন্ত্রীর। সন্ধ্যা ৬টার দিকে রহমতগঞ্জের জে এম সেন হলের পূজামণ্ডপ পরিদর্শন এবং সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন তিনি।
পরে হোটেল র্যাডিসন ব্লুতে চট্টগ্রাম মহানগর, উত্তর ও দক্ষিণ জেলা বিএনপির নেতাদের সঙ্গে সাংগঠনিক সভায় যোগ দেবেন। শুধু দুর্গাপূজার মণ্ডপ হিসেবেই নয়, চট্টগ্রামের রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক ইতিহাসেও গুরুত্বপূর্ণ স্থান জে এম সেন হল।
তথ্য সুত্র মতে, খালেদা জিয়া ১৯৯১ সালে প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন এই এলাকায় এসেছিলেন। তবে তিনি সরাসরি হলের ভেতরের কোনো অনুষ্ঠান বা পূজামণ্ডপ পরিদর্শনে যাননি, বরং হলের পাশের একটি রাস্তায় বা সংলগ্ন কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছিলেন।
ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের সময় স্বাধীনতাকামী মানুষের মতবিনিময়, সভা-সমাবেশ এবং শিল্প-সংস্কৃতিচর্চার কেন্দ্র হিসেবে এ হল প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হয়। আইনজীবী যাত্রামোহন সেনের স্মৃতিতে তার ছেলে দেশপ্রিয় যতীন্দ্রমোহন সেনগুপ্ত হলটির নামকরণ করেন।
১৯১৪ সালে যাত্রামোহন সেন হল নির্মাণের জন্য জমি ও তিন হাজার টাকা আর্থিক সহায়তা দেন। ১৯১৬ সালের ১৯ নভেম্বর হলটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়। পরে ১৯২০ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হয়। হলটিতে বিপ্লবী মাস্টারদা সূর্য সেন, যতীন্দ্রমোহন সেনগুপ্ত, মহিমচন্দ্র দাস ও নেলী সেনগুপ্তার আবক্ষ মূর্তি রয়েছে। ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনসহ চট্টগ্রামের রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ইতিহাসের নানা অধ্যায়ের স্মৃতি বহন করছে এই স্থাপনা।
চট্টগ্রাম মহানগর পূজা উদ্যাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট নিখিল কুমার নাথ বলেন, জে এম সেন হলের পূজায় প্রথমবার কোনো প্রধানমন্ত্রী আসছেন। এ খবরে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে আনন্দের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। তাঁকে স্বাগত জানাতে আগ্রহ নিয়ে অপেক্ষা করছেন তারা।
এদিকে, প্রধানমন্ত্রীর সফর ঘিরে নগরের গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে চলছে সংস্কার ও সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ। সার্কিট হাউস থেকে কাজীর দেউড়ি, আসকারদীঘি, জামালখান ও চেরাগী মোড় হয়ে জে এম সেন হল পর্যন্ত সড়কে কার্পেটিং, খানাখন্দ মেরামত, সড়ক বিভাজকে রং, ফুলের চারা রোপণ ও আলোকসজ্জার কাজ চলছে। মণ্ডপেও চলছে প্যান্ডেল নির্মাণ ও সাজসজ্জা।
সফর ও দুর্গাপূজা উপলক্ষে নগর ও জেলায় চার স্তরের নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সূত্র অনুযায়ী, ২০ হাজারের বেশি সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন।
এসআরবি-৭-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোস্তাফিজুর রহমান জানান, নিয়মিত পরিদর্শন, মোবাইল টহল, সাদাপোশাকে গোয়েন্দা নজরদারি ও বিশেষ স্ট্রাইকিং ফোর্সের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
