বছর ঘুরলেই উত্তরপ্রদেশে বিধানসভা ভোট। দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রাজ্যে ক্ষমতা দখলের লক্ষ্যে এখন থেকেই প্রস্তুতি শুরু করেছে কংগ্রেস। এবং দল নিশ্চিত যে, জোট না গড়লে বিজেপির বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানো সম্ভব নয়। আবার জোট গড়তে গিয়ে আত্মসমর্পণ করলে কর্মীদের মনোবল তলানিতে গিয়ে ঠেকবে। এই পরিস্থিতিতে জোটের লক্ষ্যে অগ্রণী ভূমিকা নিয়েছেন দলের অন্যতম সাধারণ সম্পাদক প্রিয়াঙ্কা গান্ধী বঢরা।
সমাজবাদী পার্টির সঙ্গে দর কষাকষির কৌশল ঠিক করতে তিনি উত্তরপ্রদেশ কংগ্রেসের শীর্ষনেতাদের সঙ্গে একটি দীর্ঘ বৈঠক করেছেন। কংগ্রেস আসন্ন নির্বাচনে সমাজবাদী পার্টির কাছ থেকে ১২৫ থেকে ১৬৫টি আসন দাবি করার পরিকল্পনা করছে। সোমবার প্রিয়াঙ্কা তাঁর বাসভবনে উত্তরপ্রদেশ কংগ্রেসের রাজ্য পর্যবেক্ষক রাজেন্দ্র পাল গৌতম, রাজ্য সভাপতি আরাধনা মিশ্র মোনা এবং কার্যকরী সভাপতি ইমরান মাসুদের সঙ্গে প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে বৈঠক করেন।
প্রিয়াঙ্কা স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছেন যে, কেবল আসনের সংখ্যা বাড়ানো লক্ষ্য নয়, যেসব আসনে কংগ্রেসের জেতার বাস্তবসম্মত সম্ভাবনা রয়েছে, সেগুলোকে চিহ্নিত করেই জোটের তালিকা তৈরি করতে হবে। প্রাথমিকভাবে কংগ্রেস ১৬৫ আসনের একটি তালিকা বানিয়েছে। শেষ ৩ বিধানসভা নির্বাচনে এবং ২০২৪ লোকসভা নিরবাচনের নিরিখে তালিকা তৈরি হয়েছে। ওই তালকায় ১০০টি আসন এ ক্যাটেগরিতে রাখা হয়েছে। ৪০ আসন রাখা হয়েছে বি ক্যাটেগরিতে। এবং ২৫ আসন রাখা হয়েছে সি ক্যাটেগরিতে। মজার কথা হল, কংগ্রেস যে ১৬৫ আসনের দাবি নিয়ে সপার সঙ্গে আলোচনার টেবিলে যেতে চায় সেই আসনগুলির মধ্যে ১১টি এমন আসন রয়েছে যেখানে এখন বিধায়কও সমাজবাদী পার্টির। এর মধ্যে কংগ্রেসের গড় আমেঠি এবং রায়বরেলির ৮টি আসন রয়েছে।
সমস্যা হল সমাজবাদী পার্টি কংগ্রেসকে এত আসনে লড়াই করার যোগ্যই মনে করছে না। সপার তরফে প্রাথমিকভাবে ঠিক করা হয়েছিল কংগ্রেসকে ৫৩ আসন ছাড়া হবে। সেটা বড়জোর ৭৫ পর্যন্ত হতে পারে। কিন্তু প্রিয়াঙ্কা গান্ধী অবস্থানে অনড়। তিনি সব লোকসভা কেন্দ্রের অন্তত একটি করে আসনে কংগ্রেসের প্রার্থী দিতে চান। আবার আমেঠি-রায়বরেলি-সাহারানপুরের মতো এলাকায় যেখানে কংগ্রেসের সাংসদ রয়েছেন সেখানে বেশিরভাগ আসনে তিনি প্রার্থী দিতে চান। সপা বলছে ভুলে গেলে চলবে না, গত বিধানসভা নির্বাচনে উত্তরপ্রদেশে ২ শতাংশ ভোটও পায়নি কংগ্রেস। আসন জিতেছিল মাত্র ২টি।
