দ্যা নিউজ নারায়ণগঞ্জ ডটকম | স্টাফ রিপোর্টার প্রকাশিত: অক্টোবর ১২, ২০২৬, ১০:৩৫ পিএম
পিতৃপক্ষ শেষে দেবীপক্ষের শুরু হয়েছে। মহালয়ার মধ্য দিয়ে মত্তে দেবীর আনুষ্ঠানিক আগমনী বার্তা ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। তবে দূর্গা পূজা মূলত বসন্তকালে চৈত্র মাসের শেষ সপ্তাহে অনুষ্ঠিত হতো। শরৎকালে দেবী দূর্গার অকালবোধন করেছিলেন শ্রীরাম চন্দ্র। সেই থেকে শরৎকালে শারদীয় দূর্গা পূজা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বসন্ত কালের বাসন্তি পূজা থেকে শরৎকালে শারদীয় পূজার কাহিনীয় সাজ সজ্জায় ফুটিয়ে তুলেছেন নগর খানপুর এলাকার সিদ্ধিগোপাল মন্দিরের দূর্গাপূজা মণ্ডপে।
মূলত ত্রেতা যুগে শ্রীবিষ্ণুর সপ্তম অবতার শ্রী রাম চন্দ্র পৃথিবীতে আসেন। তার সহধর্মিনী ছিলেন সীতা। রাজ সিংহাসনে রাজা হিসেবে অভিষেকের পূর্বে সৎ মায়ের আদেশে স্বস্ত্রীক ১৪ বছর বনবাসে বরণ করেছিলেন শ্রী রামচন্দ্র। বনবাসে থাকাকালীন সময় সীতাকে অপহরণ করেছিলেন লঙ্কার রাজা রাবণ। বারণ ব্রহ্মা ও শিব উভয় দেবতা থেকে বর পেয়েছিলেন।
রাবণ দীর্ঘ ১১,০০০ বছর কঠোর তপস্যা করে ব্রহ্মাকে সন্তুষ্ট করেন। বর চাওয়ার সময় রাবণ অমরত্ব প্রার্থনা করলেও ব্রহ্মা তা দিতে অস্বীকৃতি জানান। তখন রাবণ চালাকি করে বর চান যেকোনো দেবতা, দানব, রাক্ষস, কিন্নর, গন্ধর্ব বা নাগ যেন তাকে বধ করতে না পারে। কিন্তু অবজ্ঞাভরে তিনি মানুষ (নর) ও বানরের নাম উল্লেখ করেননি।
তাই বন্দী দশা থেকে সীতাকে মুক্ত করতে শক্তিধর রাবণের সাথে বানর সেনা নিয়ে যুদ্ধ অবর্তীণ হন।
কিন্তু বারণকে যুদ্ধে রাবণকে পরাজিত করা সহজ ছিলো না। কারণ রাবণ দেবী দূর্গার আর্শীবাদে অপরাজেয় হয়ে উঠেছিলেন। রাবণকে পরাস্ত করতে ব্রহ্মা রামচন্দ্রকে দেবী ভগবতীর পূজা করার পরামর্শ দেন।
দেবী দুর্গার পূজার জন্য রামচন্দ্রের ১০৮টি নীলপদ্মের প্রয়োজন ছিল। হনুমান দেবীদহ থেকে ১০৭টি পদ্ম নিয়ে আসেন, একটি পদ্ম কম পড়ে যায়। তখন রামচন্দ্র তাঁর নিজের একটি চোখ (যাকে পদ্মের সঙ্গে তুলনা করা হতো) উপড়ে দেবীকে অর্পণ করতে উদ্যত হন। রামের এই চরম ভক্তি দেখে দেবী দূর্গা আবির্ভূত হন এবং তাঁকে রাবণ বধের বর দেন।
এই পুরো গল্পটিই দূর্গা মÐপে খুবই সংক্ষিপ্ত আকারে প্রতীকি ভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন সিদ্ধিগোপাল মন্দিরের দূর্গা পূজার আয়োজকরা।
মÐপটির আয়োজক কমিটির সাধারণ সম্পাদক সুমন সাহা জানান, আমরা আমাদের মঞ্চের সাজ সজ্জায় বসন্তকাল থেকে শরৎকালে দূর্গা পূজা শুরু হওয়ার বিষয়টি ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করেছি।
দূর্গা পূজায় নিরাপত্তা নিয়ে কোন শঙ্কা নেই এবং সকল রাজনৈতিক দলের সহযোগিতা পাচ্ছেন বলে দাবি করে সুমন সাহা জানান, আমরা পূজায় নিরাপত্তা জনিত কোনো শঙ্কা করছিনা। পুলিশ প্রশাসন সহ সকল দলের রাজনৈতিক নেতারাই আমাদের সার্বিক সহযোগিতা করছেন, আর্থিক ভাবেও সহযোগিতা করেছেন। সেই সাথে আমরা আমাদের এলাকার হিন্দু মুসলিম সকলের আমাদের পূজা আয়োজনে সহযোগিতা করেছেন। সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে আমরা শঙ্কিত নই। তবে প্রশাসনের কর্মকর্তাদের কাছে অনুরোধ থাকবে পূজা চলাকালীন সময় যেন ছিনতাইকারীদের ব্যাপারে একটু বেশি নজরদারি করা হয়। কারণ অনেক রাত্র পর্যন্ত সকলে পূজা মণ্ডপ গুলো ঘুরে দেখেন সেই সময় ছিনতাইকারীরা একটি বড় সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারেন।
