জুলাই গণঅভ্যুত্থানে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় শিক্ষার্থী আ. জব্বারকে গুলি করে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে করা মামলায় ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) দিলীপ কুমার আগরওয়ালার চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।
বিজ্ঞাপন
বুধবার বিকেলে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সারাহ ফারজানা হকের আদালত শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মুহাম্মদ শামসুদ্দোহা সুমন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, গুলশান থানার মানি লন্ডারিং মামলায় এক দিনের রিমান্ড শেষে দিলীপ কুমার আগরওয়ালাকে আদালতে হাজির করা হয়। পরে পুলিশের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে উত্তরা পশ্চিম থানায় দায়ের করা জুলাইয়ের হত্যাচেষ্টা মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দেন আদালত।
এরপর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত তার চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। একই সঙ্গে তার জামিন আবেদন নাকচ করে দেওয়া হয়।
এর আগে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও উত্তরা পশ্চিম থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. সুমন মিয়া দিলীপ কুমার আগরওয়ালাকে এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো এবং জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ১০ দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন।
রিমান্ড আবেদনে উল্লেখ করা হয়, দিলীপ কুমার আগরওয়ালা (৫৭) কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের শিল্প ও বাণিজ্যবিষয়ক উপকমিটির সদস্য এবং চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী। মামলার অন্যান্য আসামির সঙ্গে তিনি ঘটনাস্থলে সশরীরে উপস্থিত থেকে এ ঘটনা ঘটিয়েছেন বলে তথ্য-প্রমাণ পাওয়া গেছে।
মামলার প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটন, ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্য আসামিদের গ্রেপ্তার, তাদের নাম-ঠিকানা সংগ্রহ এবং ঘটনার সময় ব্যবহৃত অস্ত্র উদ্ধারের লক্ষ্যে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন বলে রিমান্ড আবেদনে উল্লেখ করা হয়। এ কারণে তার ১০ দিনের পুলিশ রিমান্ড চাওয়া হয়।
আদালতে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা রিমান্ড বাতিল ও জামিনের আবেদন জানিয়ে শুনানি করেন। অন্যদিকে, রাষ্ট্রপক্ষ আসামিকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করে। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত জামিন আবেদন নাকচ করে চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
যেভাবে গুলিবিদ্ধ হন আ. জব্বার
মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের শেষ দিন ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট দুপুর ১২টার দিকে রাজধানীর উত্তরা পশ্চিম থানাধীন ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে বিএনএস সেন্টারের সামনে গুলিবিদ্ধ হন শিক্ষার্থী আ. জব্বার।
গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর তিনি ২০২৪ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। পরে কিছুটা সুস্থ বোধ করায় ২০২৫ সালের ২৭ মার্চ তিনি বাদী হয়ে উত্তরা পশ্চিম থানায় হত্যাচেষ্টা মামলা করেন।
মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ৫০ জনের নাম উল্লেখ করা হয়। এ ছাড়া অজ্ঞাতনামা ১০০ থেকে ১৫০ জনকে আসামি করা হয়। এ মামলায় দিলীপ কুমার আগরওয়ালা ৩১ নম্বর এজাহারনামীয় আসামি।
আগে গ্রেপ্তার, কারামুক্তির পর আবার গ্রেপ্তার
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৩ সেপ্টেম্বর দিলীপ কুমার আগরওয়ালাকে গ্রেপ্তার করে তৎকালীন র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)। পরদিন তাকে আদালতে হাজির করা হলে একটি হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। ওই দিনই আদালত তার তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
এরপর বিভিন্ন হত্যা মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। এসব মামলায় তার আইনজীবীরা নিম্ন ও উচ্চ আদালতে জামিনের আবেদন করেন। সব মামলায় জামিন পাওয়ার পর ২০২৫ সালের ১ অক্টোবর তিনি কারাগার থেকে মুক্তি পান।
কারামুক্তির এক বছর পর গত ১৯ অক্টোবর সন্ধ্যায় রাজধানীর বনানী এলাকা থেকে মানি লন্ডারিংয়ের মামলায় তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। ওই মামলায় এক দিনের রিমান্ড শেষে বুধবার তাকে আদালতে হাজির করা হয়। পরে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় শিক্ষার্থী আ. জব্বারকে গুলি করে হত্যাচেষ্টার মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে চার দিনের রিমান্ডে নেওয়ার আদেশ দেন আদালত।
