শ.ম.গফুর,কক্সবাজার
কক্সবাজারের উখিয়ার ইনানী মেরিন ড্রাইভ সড়কের পাটোয়ারটেক সমুদ্রতীরবর্তী এলাকায় টুপ্টুপ রেস্টুরেন্ট এন্ড রিসার্ট-এ ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় সর্বশেষ পাওয়া খবরে অন্তত জন পর্যটকের মৃত্যু হয়েছে।তৎমধ্যে ৩ জন শিশুও রয়েছে।এ ঘটনায় অন্তত আরও ৭/৮ জন আহত হয়েছে এমনটাই নিশ্চিত করেছে স্থানীয় প্রশাসন এবং ফায়ার সার্ভিস।শনিবার (১৭ অক্টোবর) সকাল আনুমানিক ৭টার দিকে রিসোর্টটিতে আগুনের সূত্রপাত হয়। বাঁশ ও কাঠ দিয়ে তৈরি ৩তলা রিসোর্টটিতে মুহূর্তের মধ্যে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে সকাল ৮টার দিকে উখিয়া ও ইনানী ফায়ার সার্ভিসের ৩টি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণ ও উদ্ধারকাজ শুরু করে। ফায়ার সার্ভিসের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা দোলন আচার্য ও স্থানীয় প্রশাসন ১০ জনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ প্রথম দফায় তল্লাশি চালিয়ে ৪ জনের মরদেহ উদ্ধার করে। পরবর্তীতে নিখোঁজ ব্যক্তিদের সন্ধানে আবারও তল্লাশি চালানো হয়। এ সময় একে একে আরও ৬ জনের মরদেহ মিলে ১০টি হয়। নিহতদের মধ্যে ঢাকার জেলা ছাত্রদলের জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি দেওয়ান ফয়সলের স্ত্রী নাসরিন আক্তার মুক্তা রয়েছেন। তিনি আশুলিয়ার ‘স্বপ্ন বিলাস’ নামের একটি স্কুলের শিক্ষিকা ছিলেন। নিহতদের মধ্যে ৩জন শিশু রয়েছে।রিসার্টের ভাইরে থাকায় ভাগ্যক্রমে বেঁচে যাওয়া এক পর্যটক নারী আহাজারি, আমার সাইফ’কে আইন্না দাও’।তার আহাজারিতে ওই এলাকার বাতাস হয়ে ওঠে।পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সমুদ্রতীরবর্তী এ রিসোর্টে পর্যটকদের থাকার জন্য একাধিক কক্ষ ছিল। গতকাল শুক্রবার রাতে কয়েকটি কক্ষের পর্যটকেরা চেকআউট করে চলে যান। বাকি কক্ষগুলোতে অন্তত ১৮ জনের বেশি পর্যটক অবস্থান করছিলেন। তবে শনিবার সকালে আগুন লাগার কিছুক্ষণ আগে পাঁচজন পর্যটক বিভিন্ন জরুরি কাজে বাইরে বের হওয়ায় তারা প্রাণে বেঁচে যান। অন্যদিকে, ভেতরে থাকা কয়েকজন পর্যটক আটকা পড়ে অগ্নিদগ্ধ হন।অগ্নিকাণ্ডে বেশ কয়েকজন দগ্ধ ও আহত হয়েছেন। তাদের উদ্ধার করে উখিয়া ও কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। আহতদের মধ্যে রয়েছেন আব্দুল মান্নান, সামিদা, মুগদা মেডিকেল কলেজের চিকিৎসক ডা. শিহাব, ডা. নাফিজা নাওয়াজ খান, মাসুদ, মেলিতা মেহেজাবিন আলভি, নাবিলা, মালিহা, মিলা, জেরিফ, সাবরিন ও ফাইজান।
চিকিৎসকদের বরাত দিয়ে জানা গেছে, আহতদের মধ্যে আশিক ও তার স্ত্রী আশঙ্কামুক্ত রয়েছেন। তারা জীবিত আছেন। অন্য আহতদের চিকিৎসা চলছে।রিসোর্ট কর্তৃপক্ষের বরাত দিয়ে জানা গেছে, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, রিসোর্টের বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে। শর্টসার্কিট থেকে আগুন লাগার পরপরই ভেতরে থাকা এয়ার কন্ডিশনার (এসি) ও গ্যাস সিলিন্ডারগুলো বিকট শব্দে বিস্ফোরিত হলে আগুন দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। তবে অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া যাবে বলেও জানান।এদিকে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন জেলা বিএনপি’র সভাপতি ও উখিয়া-টেকনাফের সাংসদ শাহজাহান চৌধুরী এমপি।
এ সময় এমপি অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় নিহতের প্রতি শোক এবং পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে বলেছেন কি কারণে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে তা তদন্ত এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। এ সময় জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারাও যান।
উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পান্না আক্তার ফায়ার সার্ভিসের বরাত দিয়ে জানান, অগ্নিকাণ্ডে ১০ জন পর্যটকের মৃত্যু হয়েছে। এ ছাড়া আরও বেশ ক’জন আহত হয়েছেন।উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আতিকুর রহমান মজুমদার ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, শনিবার সকালে আকস্মিকভাবে অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত ঘটে। ঠিক কী কারণে আগুন লেগেছে এবং এর পেছনে কোনো অবহেলা ছিল কি না, তা নিরূপণে ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ যৌথভাবে তদন্ত করছে। তদন্ত শেষে বিস্তারিত তথ্য আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হবে।এদিকে নিহতদের যথাযথ আইনী প্রক্রিয়ায় তাদের পরিবারে পাঠাতে কাজ করছে প্রশাসন এবং আহতদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

