দুর্গাপূজা মানেই নতুন পোশাক, রঙিন সাজ, মণ্ডপে মণ্ডপে ঘোরাঘুরি আর উৎসবের আনন্দ। শাড়ি, কুর্তি কিংবা ইন্দো-ওয়েস্টার্ন পোশাকের সঙ্গে মানানসই জুতা সাজে যোগ করে বাড়তি সৌন্দর্য। তবে পূজার ব্যস্ত দিনে দীর্ঘক্ষণ হাঁটাচলার কথা মাথায় রেখে জুতা বেছে নেওয়াও জরুরি।
অষ্টমীর সকালে অঞ্জলি দিতে লাল পাড় সাদা শাড়ি কিংবা তসর ও সুতির হ্যান্ডলুম শাড়ি বেছে নেন অনেকে। ঐতিহ্যবাহী এই সাজের সঙ্গে সাদা বা অফ হোয়াইট ফ্ল্যাট স্যান্ডেল হতে পারে দারুণ মানানসই। হালকা হিলও বেছে নেওয়া যায়, তবে সারাদিন মণ্ডপে ঘোরার পরিকল্পনা থাকলে আরামকে গুরুত্ব দেওয়াই ভালো।

নবমীর সাজে অবশ্য একটু বেশি গ্ল্যামারের ছোঁয়া থাকতেই পারে। জমকালো শাড়ি বা এমব্রয়ডারি করা পোশাকের সঙ্গে মানিয়ে যায় লাল, সোনালি কিংবা অন্য কোনো উজ্জ্বল রঙের হিল। পোশাকের রং ও কাজের সঙ্গে মিলিয়ে জুতার নকশা বেছে নিলে সাজে আসে পরিপূর্ণতা। তবে হিলের উচ্চতা এমন হওয়া উচিত, যাতে দীর্ঘ সময় হাঁটলেও অস্বস্তি না হয়।

দশমীর সকালে সিঁদুরখেলা, আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে দেখা করা কিংবা বিসর্জনের আয়োজনে সময় কাটে ব্যস্ততায়। লাল-সাদা শাড়ি বা ঐতিহ্যবাহী পোশাকের সঙ্গে কোলাপুরি, ফ্ল্যাট স্যান্ডেল কিংবা নিচু হিল হতে পারে উপযুক্ত পছন্দ। জুতার নকশা খুব জমকালো না হলেও চলে; বরং রঙের ছোট্ট কোনো ছোঁয়াই সাজে আনতে পারে ভিন্নতা।
শুধু শাড়ি নয়, পূজার সাজে এখন কুর্তি, লং ড্রেস ও ইন্দো-ওয়েস্টার্ন পোশাকও বেশ জনপ্রিয়। এসব পোশাকের সঙ্গে ফ্ল্যাট স্যান্ডেল যেমন মানানসই, তেমনি পোশাকের রঙের সঙ্গে মিলিয়ে বেছে নেওয়া যায় স্টাইলিশ হিল। ষষ্ঠী-সপ্তমীর ক্যাজুয়াল সাজে হালকা নকশার স্যান্ডেল, আর সন্ধ্যার আয়োজনে একটু জমকালো জুতা—এভাবেই বদলে যেতে পারে প্রতিদিনের লুক।

পূজার নানা দিনের সাজের কথা মাথায় রেখে প্রতিবছরই নতুন নকশার জুতা নিয়ে আসে বিভিন্ন ব্র্যান্ড। এ বছরও এপেক্স ফুটওয়্যারের সংগ্রহে রয়েছে বিভিন্ন স্টাইলের স্যান্ডেল ও হিল, যা পূজার নানা আয়োজনের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার সুযোগ করে দেয়।

তবে জুতা নির্বাচনে শুধু রং কিংবা নকশা দেখলেই হবে না। পায়ের মাপ অনুযায়ী সঠিক জুতা বেছে নেওয়া, সোলের আরাম এবং হাঁটার সুবিধাও বিবেচনায় রাখা প্রয়োজন। কারণ পূজার আনন্দে মণ্ডপে মণ্ডপে ঘুরে বেড়াতে চাইলে সাজের পাশাপাশি স্বাচ্ছন্দ্যও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
