কালবেলা · সাধারণ
পূজাকে ঘিরে সাতক্ষীরায় পুলিশের বিশেষ চেকপোস্ট
১২/১০/২০২৬

শারদীয় দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং অপরাধ দমনে সাতক্ষীরার বিভিন্ন প্রবেশপথ ও গুরুত্বপূর্ণ সড়কে বিশেষ চেকপোস্ট বসিয়েছে পুলিশ।
সোমবার (১২ অক্টোবর) দুপুরে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান সাতক্ষীরার পুলিশ সুপার আবু সালেহ মো. আশরাফুল আলম।
জানা গেছে, শহরের খুলনা রোড মোড়, বিনেরপোতা, মেডিকেল কলেজ এলাকা ও বাইপাস সড়কসহ জেলার বিভিন্ন স্থানে দিন-রাত তল্লাশি চালানো হচ্ছে।
পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ১ থেকে ১১ অক্টোবর পর্যন্ত জেলার বিভিন্ন চেকপোস্টে মোট ২ হাজার ২টি যানবাহন তল্লাশি করা হয়েছে। এর মধ্যে ১৪৮টি যানবাহন আটক করা হয়। আটক যানবাহনের মধ্যে ১২২টির বিষয়ে নিষ্পত্তি হয়েছে, বাকি ২৬টি এখনো নিষ্পত্তির অপেক্ষায় রয়েছে।
এসব যানবাহনের বিরুদ্ধে মোটরযান আইনে মামলা দিয়ে ৬ লাখ ৯ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে। এছাড়া প্রসিকিউশন দাখিল করা মামলায় আরও ২ লাখ ৫ হাজার টাকা জরিমানা আদায় বাকি রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশের প্রকাশিত ১ থেকে ১১ অক্টোবরের বিশেষ অভিযানের তথ্যেও যানবাহন তল্লাশি, আটক, মামলা ও জরিমানার হিসাব উল্লেখ রয়েছে। একই সময়ে জেলার বিভিন্ন থানায় মাদকসংক্রান্ত মামলাও হয়েছে।
পুলিশের তথ্যমতে, এ সময়ে মাদকসংক্রান্ত ২৭টি মামলায় ২৮ জন মাদক ব্যবসায়ী বা সেবনকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের কাছ থেকে ট্যাপেন্টাডল, ইয়াবা, গাঁজা ও উটন কোরেক্স সিরাপসহ বিভিন্ন ধরনের মাদক উদ্ধারের তথ্য দেওয়া হয়েছে।
সাতক্ষীরার পুলিশ সুপার আবু সালেহ মো. আশরাফুল আলম বলেন, ‘পুলিশের দায়িত্ব পালনের নির্দিষ্ট কোনো সময় নেই। জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজন অনুযায়ী দিন-রাত অভিযান চালানো হচ্ছে। অপরাধীরা কৌশল পরিবর্তন করলে পুলিশকেও পরিস্থিতি অনুযায়ী কৌশল পরিবর্তন করতে হয়। অপরাধ দমনে এ অভিযান অব্যাহত থাকবে।’
তিনি বলেন, ‘চেকপোস্টের কার্যক্রম শুধু যানবাহন তল্লাশির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। মাদকসংক্রান্ত অপরাধ, চুরি, চোরাচালান ও সম্পত্তিসংক্রান্ত অপরাধে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতেও অভিযান চালানো হচ্ছে। জেলার বিভিন্ন স্থানে পরিচালিত এসব অভিযানে ২০ জন চোর ও চোরাকারবারিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পাশাপাশি সমাজে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করতে পারে বা জননিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে বিবেচিত, এমন ৪৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে প্রয়োজন অনুযায়ী অভিযান চালানো হবে। পূজাকে ঘিরে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি জেলার সার্বিক জননিরাপত্তা রক্ষায় পুলিশ সতর্ক রয়েছে।’
মূল প্রতিবেদনে যান ↗