কালবেলা · সাধারণ
কালভার্ট নির্মাণ শেষ হলেও সংযোগ সড়ক না থাকায় দুর্ভোগে দুই ইউনিয়নের মানুষ
১৫/১০/২০২৬

নীলফামারীর ডিমলা উপজেলায় কালভার্ট নির্মাণের কাজ শেষ হয়েছে প্রায় দেড় মাস আগে। তবে দুই পাশে সংযোগ সড়ক না থাকায় এখনো সেটি ব্যবহার করতে পারছেন না স্থানীয় বাসিন্দারা। এতে পূর্ব ছাতনাই ও পশ্চিম ছাতনাই ইউনিয়নের মানুষের দুর্ভোগ বেড়েছে। বিশেষ করে শিক্ষার্থী ও জরুরি প্রয়োজনে যাতায়াতকারীদের ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। দ্রুত সংযোগ সড়ক নির্মাণ করে কালভার্টটি চলাচলের উপযোগী করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পূর্ব ছাতনাই ইউনিয়নের কলোনির হাটমুখী সড়কে কালভার্টটি নির্মাণ করা হয়েছে। দুই ইউনিয়নের মানুষের যাতায়াতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এই স্থাপনাটির কাজ শেষ হলেও দুই পাশে সংযোগ সড়ক না থাকায় এটি কাজে আসছে না। ফলে স্বাভাবিক চলাচলের পাশাপাশি কৃষিপণ্য পরিবহনেও বাধার মুখে পড়ছেন স্থানীয়রা।
বাসিন্দারা জানান, কালভার্ট নির্মাণের পর যাতায়াতের দুর্ভোগ কমবে বলে আশা করেছিলেন তারা। কিন্তু সংযোগ সড়ক না থাকায় সেই প্রত্যাশা পূরণ হয়নি। শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে যাতায়াত এবং জরুরি প্রয়োজনে রোগী পরিবহনে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।
পশ্চিম ছাতনাইয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, কালভার্ট নির্মাণ হলেও সংযোগ সড়ক না থাকায় এটি দিয়ে চলাচল করতে পারছি না। বৃষ্টির দিনে বেশি কষ্ট হয়। বাইপাস সড়ক পানিতে ডুবে যায়। আর কালভার্টের দুই পাশে গর্ত থাকায় হামাগুড়ি দিয়ে পার হতে হয়। দুই পাশে সংযোগ সড়ক নির্মাণ করা হলে যানবাহন নিয়েও চলাচল করা সম্ভব হবে।
স্থানীয় বাসিন্দা খলিলুর রহমান বলেন, কালভার্টটি মানুষের চলাচলের সুবিধার জন্য নির্মাণ করা হয়েছে। কিন্তু সংযোগ সড়ক না থাকায় সেটি কোনো কাজে আসছে না। দ্রুত সড়ক নির্মাণ করে কালভার্টটি চলাচলের উপযোগী করা দরকার।
স্থানীয় কৃষক হাসমত আলী বলেন, এত টাকা খরচ করে কালভার্ট নির্মাণ করা হলেও আমরা সেটি ব্যবহার করতে পারছি না। সংযোগ সড়ক না থাকায় দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সংযোগ সড়ক নির্মাণের জন্য মাটি ফেলা নিয়ে বিরোধের কারণে কাজ আটকে আছে। দ্রুত সমস্যার সমাধান করে সড়ক নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন তারা।
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি রবিউল ইসলাম বলেন, কালভার্ট নির্মাণের কাজ শেষ হয়েছে। তবে সংযোগ সড়ক নির্মাণের জন্য মাটি ফেলা নিয়ে স্থানীয়দের সঙ্গে কিছুটা জটিলতা তৈরি হয়েছে। এ কারণে কাজ শেষ করা সম্ভব হয়নি। সমস্যা সমাধানের চেষ্টা চলছে। স্থানীয়দের সঙ্গে আলোচনা করে দ্রুত সংযোগ সড়কের কাজ সম্পন্ন করা হবে।
ডিমলা উপজেলা প্রকৌশলী মফিজুর রহমান বলেন, কালভার্টটি নির্মাণ করা হয়েছে, তবে প্রকল্প এখনো অনুমোদন হয়নি। এ কারণে ঠিকাদার এখনো বিল করতে পারেননি। বাইপাস সড়ক নির্মাণের জন্য ঠিকাদার যে মাটি ফেলেছেন, স্থানীয় লোকজন তা কাটতে দিচ্ছেন না। এ সড়কের মাটি সংযোগ সড়কে ফেলা হবে। এ কারণে কিছুটা সমস্যা হচ্ছে। আশা করি, বিষয়টি সমাধান হয়ে যাবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ইমরানুজ্জামান বলেন, সংযোগ সড়ক নির্মাণের মাটি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে কিছুটা সমস্যা হয়েছে। উপজেলা প্রকৌশলীকে পাঠিয়ে দ্রুত সময়ের মধ্যে বিষয়টি সমাধানের ব্যবস্থা করা হবে।
উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) নথি অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে গ্রামীণ সড়ক মেরামত ও সংরক্ষণের আওতায় সময়ান্তর রক্ষণাবেক্ষণ প্রকল্পের অধীনে টুনিরহাট আরঅ্যান্ডএইচ কলোনির হাট জিসি সড়কে বক্স কালভার্ট নির্মাণের দরপত্র আহ্বান করা হয়। এ কাজের প্রাক্কলিত ব্যয় ছিল ৫৬ লাখ ৫২ হাজার ৭১৩ টাকা। ঠিকাদারের সঙ্গে চুক্তিমূল্য নির্ধারণ করা হয় ৫৩ লাখ ৭০ হাজার ৭৭৭ টাকা। জলঢাকার উপজেলা মোড়, আদর্শপাড়ার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এন অ্যান্ড সন্স কালভার্টটির নির্মাণকাজ সম্পন্ন করে।
মূল প্রতিবেদনে যান ↗