এআইয়ের উত্থানে সিঙ্গাপুরের অর্থনীতিতে ৫.৪ শতাংশ প্রবৃদ্ধি
চ্যানেল আই অনলাইনপ্রকাশ:
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) খাতের উত্থানে শক্তিশালী প্রবৃদ্ধি ধরে রেখেছে সিঙ্গাপুরের অর্থনীতি। চলতি বছরের জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তৃতীয় প্রান্তিকে দেশটির মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৫ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়েছে।
বুধবার ১৪ অক্টোবর আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরায় প্রকাশিত সরকারি প্রাথমিক হিসাবে এ তথ্য জানানো হয়।
তবে প্রবৃদ্ধির এ হার আগের প্রান্তিকের তুলনায় কম। এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত দ্বিতীয় প্রান্তিকে সিঙ্গাপুরের অর্থনীতি ৬ দশমিক ২ শতাংশ বেড়েছিল। তারপরও এশিয়ার নগররাষ্ট্রটি বিশ্বের দ্রুত প্রবৃদ্ধি অর্জনকারী উন্নত অর্থনীতিগুলোর অন্যতম হয়ে রয়েছে।
সিঙ্গাপুরের বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, দেশটির অর্থনীতির অন্যতম প্রধান খাত উৎপাদনশিল্পে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৭ দশমিক ৫ শতাংশ। সেমিকন্ডাক্টর বা অর্ধপরিবাহী শিল্পের আধিপত্য থাকা এ খাতে ইলেকট্রনিকস, নির্ভুল প্রকৌশল, পরিবহন প্রকৌশল ও সাধারণ উৎপাদন খাতের সম্প্রসারণ প্রবৃদ্ধিতে ভূমিকা রেখেছে। তবে রাসায়নিক ও বায়োমেডিকেল খাতে উৎপাদন কমেছে।
এদিকে এআই-সংশ্লিষ্ট বিনিয়োগ, বিশেষ করে ডেটা সেন্টার নির্মাণের কারণে নির্মাণ খাতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৮ দশমিক ৮ শতাংশ।
অর্থনীতিতে শক্তিশালী প্রবৃদ্ধি সত্ত্বেও বুধবার মুদ্রানীতিতে কোনো পরিবর্তন আনেনি সিঙ্গাপুরের কেন্দ্রীয় ব্যাংক। ২০২৭ সালে এআই খাতে চাহিদা কমে আসতে পারে বলে প্রত্যাশা করছে সংস্থাটি।
সিঙ্গাপুরের মুদ্রানীতি পরিচালিত হয় সুদের হারের পরিবর্তে বিনিময় হার ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে, ২০২৬ সালে দেশটিতে মূল মূল্যস্ফীতি গড়ে ১ দশমিক ৫ থেকে ২ শতাংশের মধ্যে থাকতে পারে।
ব্যাংকটির বিবৃতিতে বলা হয়, বিশ্বজুড়ে এআইনির্ভর প্রবৃদ্ধি আগামী বছরের দ্বিতীয়ার্ধে বর্তমানের অসাধারণ গতি থেকে কিছুটা কমে আসতে পারে। পাশাপাশি উন্নত অর্থনীতিগুলোতে উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে সুদের হার বাড়লে চূড়ান্ত পণ্যের চাহিদাও চাপে পড়তে পারে।
বিশ্বের সেমিকন্ডাক্টর শিল্পে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান রয়েছে সিঙ্গাপুরের। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বে উৎপাদিত মোট সেমিকন্ডাক্টরের প্রায় ১০ শতাংশ এবং এ শিল্পের উৎপাদন সরঞ্জামের ২০ শতাংশ তৈরি হয় দেশটিতে। এ অবস্থান বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার মধ্যেও দেশটির অর্থনীতিকে স্থিতিশীল রাখতে সহায়তা করছে।
নানইয়াং টেকনোলজিক্যাল ইউনিভার্সিটির অর্থনীতির সহকারী অধ্যাপক ইয়ো হুই চুয়া সিঙ্গাপুরের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে চিত্তাকর্ষক বলে উল্লেখ করেছেন। তার মতে, বৈশ্বিক প্রযুক্তি খাতে বিনিয়োগের উত্থান দেশটির প্রবৃদ্ধির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি। ইলেকট্রনিকস পণ্যের জোরালো চাহিদা উৎপাদনশিল্প ও সংশ্লিষ্ট পাইকারি বাণিজ্যকে শক্তিশালী করেছে।
আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) সর্বশেষ পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৬ সালে সিঙ্গাপুরের অর্থনীতি ৫ শতাংশ বাড়তে পারে। উন্নত অর্থনীতিগুলোর মধ্যে তাইওয়ানের পরই দেশটির প্রবৃদ্ধি সবচেয়ে বেশি হওয়ার পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।
২০২৫ সালেও সিঙ্গাপুরের অর্থনীতি ৫ শতাংশ বেড়েছিল। এর মধ্য দিয়ে টানা দ্বিতীয় বছরের মতো ৫ শতাংশের বেশি প্রবৃদ্ধি অর্জন করে দেশটি। ২০১০ ও ২০১১ সালের পর এই প্রথম এমন প্রবৃদ্ধির ধারাবাহিকতা দেখা গেল।
পরবর্তী সংবাদ প্রস্তুত হচ্ছে…
