Published on
:
2 min read
পঞ্চমীর সন্ধ্যায় চুঁচুড়ার প্রতাপপুরে যুবতীর রহস্যমৃত্যু। বৃহস্পতিবার বন্ধ ঘর থেকে উদ্ধার হয়েছে বছর আটত্রিশের এক যুবতীর রক্তাক্ত দেহ। মৃতার নাম সানন্দা বারিক। মৃত্যুর কারণ নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে, তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। জামাইয়ের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছে মেয়ের পরিবার।
স্থানীয় সূত্রের খবর, সানন্দা বছর ১৩ আগে পছন্দ করে বিয়ে করেছিলেন পিসির ভাসুরের ছেলে মদনমোহন বারিককে। মদন ওডিশার বালুসাইয়ের বাসিন্দা। এই বিয়েতে সানন্দার পরিবারের মত ছিল না প্রথমে। সানন্দার বাবা মনোজ ভদ্র সিআরপিএফ-এর জওয়ান ছিলেন। তিনি সেই সময়ে পুলিশে অভিযোগ করেছিলেন। পরে অবশ্য সব মিটমাট হয়ে যায়, মাস তিনেক পরে সামাজিক ভাবে বিয়ে দেন। পরে ওই দম্পতির ২ ছেলে-মেয়ে হয়। বছর পাঁচেক আগে প্রতাপপুরে ঘর ভাড়া নিয়ে থাকতে শুরু করেন ওই দম্পতি। ওই প্রতাপপুরেই সানন্দার বাপের বাড়ি।
সূত্রের খবর, মদনমোহন একটি শাড়ি সংস্থার সেলসে কাজ করেন। সেই কারণে প্রায়শই কলকাতার বড়বাজারে যাতায়াত ছিল তাঁর। মাঝেমধ্যে স্বামীর সঙ্গে যেতেন সানন্দাও। গত পরশুও তাঁরা বেরিয়েছিলেন। সানন্দার বাবা জানান, সেদিন রাত ১০টা নাগাদ মেয়ের সঙ্গে কথা হয়েছিল। বুধবার সকাল থেকে মেয়ে-জামাইকে দেখা যায়নি বলে জানিয়েছেন তিনি। ওই দম্পতির দুই সন্তান মামাবাড়িতে ছিল। বুধবার সকাল থেকে ঘর তালাবন্ধ দেখে বাড়ির মালিক সানন্দার পরিবারকে খবর দেন। পরিবারের দাবি, দম্পতির মোবাইল সুইচড অফ ছিল। তারপরেই খোঁজখবর শুরু করে পরিবার। সূত্রের খবর, এরই মধ্যে ঘরের জানালা দিয়ে দেখা যায় মেঝেতে পড়ে রয়েছে সানন্দার দেহ। খবর দেওয়া হয় চুঁচুড়া থানায়, বৃহস্পতিবার দুপুরে পুলিশ গিয়ে দেহ উদ্ধার করে। তখন মেঝেতে চাপ চাপ রক্ত পড়েছিল বলে সূত্রের খবর। খাটের পাশে মহিলার দেহ পড়েছিল। মাথার পাশ থেকে রক্ত ছড়িয়ে ছিল মেঝেতে। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, মুখ ফোলা অবস্থায় ছিল। দেহ উদ্ধার করে চুঁচুড়া ইমামবাড়া হাসপাতালে পাঠানো হয় ময়না তদন্তের জন্য।
পুলিশ সূত্রের খবর, ঘটনার পর থেকে খোঁজ নেই মদন মোহন বারিকের। সানন্দার পরিবারের দাবি, দুইজনের মধ্যে কোনও অশান্তির খবর তাঁরা জানতেন না। পড়শিরাও জানাচ্ছেন, কোনওদিন দম্পতির মধ্যে কোনও ঝগড়া হতে দেখেননি তাঁরা। যদিও মেয়ের মৃত্যুর জন্য জামাইকেই কাঠগড়ায় তুলেছেন তারা। পরিবারের দাবি, ঘরের বাইরে থেকে তালা একমাত্র তাঁদের জামাই ছাড়া আর কেউ দিতে পারবে না।