বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতা দেশের ইতিবাচক পরিবর্তনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ফরিদা খানম। অন্যদিকে, গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে সাংবাদিকসহ সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়েছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক ও বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আব্দুস সালাম।
শনিবার (২৪ অক্টোবর) রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) শফিকুল কবির মিলনায়তনে মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার্স ইউনিটি (এমআরইউ) আয়োজিত ‘এমআরইউ মিডিয়া ডে ২০২৬’-এর দিনব্যাপী অনুষ্ঠানে পৃথক অধিবেশনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তাঁরা এসব কথা বলেন।
প্রাসঙ্গিক সংবাদ
সকাল ১০টায় অনুষ্ঠানের উদ্বোধনী পর্বে ফরিদা খানম এবং বিকেল ৪টায় সমাপনী পর্বে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন ডিএসসিসি প্রশাসক আব্দুস সালাম।
উদ্বোধনী পর্বে ঢাকা জেলা প্রশাসক ফরিদা খানম বলেন, “সাংবাদিকতা কেবল সংবাদ পরিবেশনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; সমাজের অনিয়ম, দুর্নীতি ও অসংগতি তুলে ধরে জনসচেতনতা সৃষ্টি এবং মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় গণমাধ্যম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।”
তিনি আরও বলেন, “সংবাদ প্রকাশের আগে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তথ্য সংগ্রহ ও সত্যতা যাচাই করা অত্যন্ত জরুরি। দ্রুত সংবাদ পরিবেশনের প্রতিযোগিতায় নেমে বস্তুনিষ্ঠতা, নিরপেক্ষতা ও পেশাগত নৈতিকতার সঙ্গে কোনো আপস করা যাবে না। দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার চর্চাই গণমাধ্যমের প্রতি মানুষের আস্থা বৃদ্ধি করবে।”
সমাপনী পর্বে ডিএসসিসি প্রশাসক মো. আব্দুস সালাম বলেন, “গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে রাজনীতিবিদদের পাশাপাশি সাংবাদিক, ব্যবসায়ী, শিক্ষকসহ সব শ্রেণি-পেশার মানুষের সমান দায়বদ্ধতা রয়েছে। ভোটের মাধ্যমে সরকার গঠন ও গণতান্ত্রিক ধারা নিশ্চিত করার পাশাপাশি সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল হতে হবে।”
সাংবাদিকদের পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধিতে প্রশিক্ষণের ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, “সংগঠিত হওয়ার পাশাপাশি সাংবাদিকদের নিয়মিত প্রশিক্ষণ নিতে হবে। বর্তমান যুগে একটি সংবাদ বা ছবি মুহূর্তের মধ্যেই বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়তে পারে। তাই সংবাদ প্রকাশের আগে এর সত্যতা ও সম্ভাব্য প্রভাব বিবেচনা করা অত্যন্ত জরুরি। সাংবাদিকদের সর্বদাই নির্ভুলতা, সচেতনতা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করতে হবে।”
অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে এমআরইউ সভাপতি শাহরিয়ার নাঈম বলেন, “প্রযুক্তির দ্রুত বিকাশে সাংবাদিকতার ধরণ ও গতিপ্রকৃতি বদলে গেছে। এখন একটিমাত্র মোবাইল ফোন দিয়েই সংবাদ সংগ্রহ, ভিডিও সম্পাদনা ও প্রকাশের কাজ সম্পন্ন করা সম্ভব হচ্ছে। একজন মাল্টিমিডিয়া সাংবাদিককে প্রায়শই একাই এসব বহুমুখী দায়িত্ব সামলাতে হয়। তাই তাঁদের পেশাগত দক্ষতা উন্নয়ন, আধুনিক প্রশিক্ষণ ও কল্যাণমূলক উদ্যোগ নেওয়া সময়ের দাবি।”
তিনি আরও জানান, দেশের শীর্ষস্থানীয় টেলিভিশন, সংবাদপত্র ও অনলাইন নিউজ পোর্টালে কর্মরত সংবাদকর্মীদের নিয়ে গঠিত এমআরইউ মাল্টিমিডিয়া সাংবাদিকদের পেশাগত উন্নয়ন ও কল্যাণে নিরলস কাজ করে যাচ্ছে। এ সময় সাংবাদিকদের সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনা ও একটি স্থায়ী কার্যালয় প্রতিষ্ঠার জন্য ঢাকা জেলা প্রশাসকের সার্বিক সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।
‘জ্ঞান, দক্ষতা ও সুস্থতায় সাংবাদিকদের একদিন’—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে আয়োজিত দিনব্যাপী এ কর্মসূচিতে ছিল ডিজিটাল সাংবাদিকতা, মোবাইল জার্নালিজম, মাল্টিমিডিয়া স্টোরিটেলিং, স্ক্রিপ্ট রাইটিং, ডেস্ক রিপোর্টিং, নিউজ প্রেজেন্টেশন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (AI) যুগে সাংবাদিকতা এবং ফ্যাক্ট-চেকিং ও তথ্য যাচাইবিষয়ক অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক প্রশিক্ষণ কর্মশালা।
প্রশিক্ষণ ছাড়াও দিনব্যাপী এ আয়োজনে ছিল সাংবাদিকদের জন্য বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা, ‘এমআরইউ বুক কর্নার’ ও আকর্ষণীয় কুইজ প্রতিযোগিতা। অনুষ্ঠান শেষে অংশ গ্রহণকারীদের হাতে স্বীকৃতি ও সম্মাননা স্মারক তুলে দেওয়া হয়।
উক্ত আয়োজনে মেডিকেল পার্টনার হিসেবে ছিল ‘ইনসাফ বারাকাহ কিডনি অ্যান্ড জেনারেল হাসপাতাল’ এবং কুইজ ও পুরস্কার পার্টনার হিসেবে যুক্ত ছিল ‘লাবণ্য মিডিয়া হাউজ’।
অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন এমআরইউ উপদেষ্টা ও ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হাসান সোহেল, এমআরইউ সাধারণ সম্পাদক মেসবাহ উদ্দিন, সংগঠনের উপদেষ্টা সফিউর রহমান শফিকসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ ও সদস্যবৃন্দ।
উল্লেখ্য, মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার্স ইউনিটি (এমআরইউ) ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে আত্মপ্রকাশ করে। প্রতিষ্ঠার পর থেকেই সংগঠনটি মাল্টিমিডিয়া সাংবাদিকদের পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধি, কল্যাণসাধন ও পারস্পরিক সহযোগিতা জোরদারে নানামুখী কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে।
-20261025055423.jpg&w=1440&q=75)