চট্টগ্রামে লালন সাঁইয়ের ১৩৬তম তিরোধান দিবসের স্মরণসভায় পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী
খোলা বাজার অনলাইন, ডেস্ক:
- আপডেট সময় : ১১:২৫:০১ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬ ১ বার পড়া হয়েছে
লালন সাঁইয়ের ১৩৬তম তিরোধান দিবসের স্মরণসভায় বক্তব্য দেন প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন।
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
মানবতাবাদী ও বৈষম্যহীন সমাজ গঠনে লালন সাঁইয়ের দর্শন অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছেন ভূমি এবং পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন। তিনি বলেছেন, লালন সাঁইকে কেবল সুরকার বা সংগীতশিল্পী হিসেবে দেখলে তাঁর যথাযথ মূল্যায়ন হয় না। তিনি ছিলেন মানবতাবাদী চিন্তাধারার উজ্জ্বল প্রতীক। ধর্ম, বর্ণ কিংবা জাতিগত পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে তিনি তাঁর সৃষ্টিতে মানবতাকে প্রাধান্য দিয়েছেন।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) চট্টগ্রাম জেলা শিল্পকলা একাডেমির অনিরুদ্ধ মুক্তমঞ্চে জেলা প্রশাসন আয়োজিত লালন সাঁইয়ের ১৩৬তম তিরোধান দিবসের স্মরণসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিভেদ ভুলে প্রত্যেক মানুষকে মানবিক মর্যাদা দিতে হবে এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ বজায় রাখতে হবে। লালন সাঁইয়ের চিন্তা ও সৃষ্টিতে বৈষম্যহীন সমাজ গঠনের দিকনির্দেশনা রয়েছে। তাঁর অসাম্প্রদায়িক মূল্যবোধ জীবনে ধারণ করতে পারলে ন্যায়ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠা সম্ভব।
মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন বলেন, লালনের সাম্য ও ঐক্যের দর্শন রাজনৈতিক ও সামাজিক ক্ষেত্রেও প্রাসঙ্গিক। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান প্রবর্তিত বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের ধারণাও ভিন্ন ভিন্ন সত্তা ও পরিচয়ের মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করার পথ দেখিয়েছে।
দেশের সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যের কথা তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী ও বিভিন্ন সম্প্রদায়ের জীবনযাত্রা ও সংস্কৃতিতে বৈচিত্র্য রয়েছে। এই বৈচিত্র্য বাংলাদেশের ঐতিহ্যকে সমৃদ্ধ করেছে। সব ধর্ম ও সংস্কৃতির মানুষ ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করলে উন্নত ও সুন্দর বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব।
চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন চট্টগ্রাম-৯ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আবু সুফিয়ান, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ ফয়সল আহমেদ, চট্টগ্রাম রেঞ্জ ডিআইজি কার্যালয়ের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার চাইলাউ মারমা এবং জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থার (জাসাস) কেন্দ্রীয় নেতারা।
স্মরণসভায় সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, লালনভক্ত, স্থানীয় বাসিন্দা ও সাংবাদিকেরা উপস্থিত ছিলেন।

