দেশে হু হু করে কমে যাচ্ছে স্মার্টফোনের বিক্রি। এপ্রিল-জুন ত্রৈমাসিকের হিসেবে তেমন ছবিই ফুটে উঠেছিল। বছরের তৃতীয় ত্রৈমাসিকেও দেখা গেল পরিস্থিতি আরও খারাপ। বরং তা গত ১৪ বছরে একই সময়ের নিরিখে সবচেয়ে ‘করুণ’। স্বাভাবিক ভাবেই প্রশ্ন উঠছে, কেন হঠাৎ বাজারে মন্দা? আর কোন ব্র্যান্ডের অবস্থা সবচেয়ে ‘করুণ’?
বলে রাখা ভালো, এর নেপথ্যে রয়েছে মেমরি চিপের মূল্যবৃদ্ধি। যার জেরেই প্রতিটি ব্র্যান্ডই বাধ্য হয়েছে স্মার্টফোনের দাম বাড়াতে। আর সেই কারণেই এই পরিস্থিতি। এখানেই শেষ নয়, একই সঙ্গে দেখা যাচ্ছে মধ্যবিত্তের পকেটেও টান পড়ছে। আমজনতা ক্রয়ের ক্ষমতা হ্রাস হওয়ার ফলে গোটা ছবিটা এতটা করুণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
‘কাউন্টারপয়েন্ট রিসার্চে’র সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের তৃতীয় প্রান্তিকে স্মার্টফোন সরবরাহ আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ২০ শতাংশ কমেছে। এর আগে দ্বিতীয় প্রান্তিকে এই হার ছিল ১১ শতাংশ (যা ২০১৩ সালের পর থেকে দ্বিতীয় প্রান্তিকের হিসেবে সর্বনিম্ন)। এছাড়া ২০২৬ সালের প্রথম প্রান্তিকে স্মার্টফোন সরবরাহ ৬ শতাংশ হ্রাস পেয়েছিল। ২০২৬ সালে এখনও পর্যন্ত স্মার্টফোনের গড় খুচরা মূল্য ২০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, স্মার্টফোনের মেমরি চিপের দান এক বছরে পাঁচগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। যা বুঝিয়ে দেয় স্মার্টফোনের বৈশ্বিক বাজারকে একটা বড়সড় চ্যালেঞ্জের মধ্যে দিয়ে চলতে হচ্ছে। বিশ্ববাজারে ২৩ শতাংশ শেয়ার নিয়ে স্যামসাং রয়েছে শীর্ষস্থানে। ২২ শতাংশ শেয়ার নিয়ে অ্যাপল তাদের ঠিক পরেই রয়েছে। এই দুই শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠানের তুলনায় অন্যরা বেশ পিছিয়ে আছে। শাওমি (১০%), অপো (৯%) এবং ভিভো (৮%)— এই সংস্থাগুলির শেয়ার কমেছে, কারণ গত বছরের তুলনায় এদের পণ্য সরবরাহের পরিমাণ হ্রাস পেয়েছে। শাওমির পণ্য সরবরাহে ৩০ শতাংশ পতন ঘটেছে। যেখানে অপো ও ভিভোর ক্ষেত্রে এই হার ছিল ২০ শতাংশ। তবে এই ফোন নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলি তাদের ফ্ল্যাগশিপ বা শীর্ষস্থানীয় মডেলের স্মার্টফোন বাজারে আনার প্রস্তুতি নিচ্ছে, যা তাদের ব্যবসায় কিছুটা গতি সঞ্চার করতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।
