যন্তর মন্তরে আর প্রতিবাদ কর্মসূচি নয়! বিক্ষোভ দেখানোর জন্য দিল্লির তিনটি জায়গাকে স্বীকৃতি দিয়েছে কেন্দ্রের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক। কিন্তু ওই তিনটি স্বীকৃত জায়গার মধ্যে সবচেয়ে পরিচিত যেটি, সেই রামলীলা ময়দানে বিক্ষোভ দেখাতে হলে প্রতিদিন গুনতে হবে ১ লক্ষ ২১ হাজার টাকা। নির্ধারিত টাকা দিয়ে, পুলিশের অনুমতি নিয়েও যে এ বছর সেখানে বিক্ষোভ দেখানো যাবে, এমন নয়। কারণ ২০২৬ সালে মাত্র তিন দিনের জন্যই ফাঁকা রয়েছে ওই মাঠটি। বাকি সব দিনের ‘বুকিং’ ইতিমধ্যেই হয়ে গিয়েছে।
জ্ঞানেশ-বিরোধী বিক্ষোভে উত্তাল দিল্লি। তার মধ্যেই মঙ্গলবার কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের নিয়ন্ত্রণাধীন দিল্লি পুলিশ একটি নির্দেশিকা দিয়ে জানিয়ে দেয় যন্তর মন্তরে আর প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করা যাবে না। যন্তর মন্তরের বদলে রাজধানীর তিনটি জায়গা নির্ধারণ করা দেওয়া হয়। সেগুলি হল পুরনো দিল্লির রামলীলা ময়দান, পূর্ব দিল্লির সিবিডি, উত্তর দিল্লির বুরারি মাঠ। মধ্য দিল্লির যন্তর মন্তর থেকে এই তিন মাঠ যথাক্রমে ৩ কিলোমিটার, ১৩.৫ কিলোমিটার এবং ৪৪ কিলোমিটার দূরে রয়েছে।
রামলীলা ময়দানের ১২ একর জায়গায় সর্বোচ্চ ৫০ হাজার মানুষের জমায়েত হতে পারে। এই মাঠের প্রতি দিনের ভাড়া ৫০ হাজার টাকা। তার সঙ্গে সিকিউরিটি ডিপোজ়িট (নিরাপত্তা, রক্ষণাবেক্ষণের জন্য আগাম নেওয়া অর্থ) হিসেবে দিতে হবে আরও ৫৫ হাজার টাকা। এই টাকাটা অবশ্য ফেরতযোগ্য। তার সঙ্গে রয়েছে ট্যাক্স। সব মিলিয়ে খরচ ১ লক্ষ ২১ হাজার টাকা।
দিল্লি পুরসভার উদ্যানপালন বিভাগের কাছ থেকে রামলীলা ময়দান ব্যবহারের অনুমতি নিতে হবে। তবে তার জন্য পুলিশের কাছ থেকে ‘নো-অবজেকশন সার্টিফিকেট’ আনতে হবে। তার পর যথাযথ ভাড়া দিয়ে মাঠটি ভাড়া নেওয়া যাবে। রামলীলা ময়দানের ছোট একটি অংশ অবশ্য সারা বছরই বিনামূল্যে ব্যবহার করতে দেওয়া হয়। তবে সেখানে সাকুল্যে ১৫০ জন লোক ধরবে।
এত দিন যন্তরে মন্তরে বিক্ষোভ কর্মসূচির জন্য উদ্যোক্তাদের কোনও টাকা দিতে হত না। কেবল পুলিশের অনুমতি থাকলেই চলত। তা ছাড়া বিভিন্ন সময় নানা আন্দোলনে শামিল হওয়া একাধিক ব্যক্তির বক্তব্য, রামলীলা ময়দান ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় অবস্থিত। মাঠটির কাছেই রয়েছে তিনটি হাসপাতাল এবং দিল্লি পুরসভার সদর দফতর। তাই বিক্ষোভ কর্মসূচি হলে গোটা চত্বরে যানজট সৃষ্টি হতে পারে বলে আশঙ্কা। ভাড়া প্রসঙ্গে দিল্লি পুরসভার একটি সূত্রের দাবি, বিনামূল্য মাঠ ব্যবহার করতে দেওয়া হলে প্রতি দিন ৫০ হাজার টাকা লোকসান হবে।
২৯, ৩০ এবং ৩১ ডিসেম্বর— আপাতত এই তিনটি দিনের জন্যই ফাঁকা রয়েছে রামলীলা ময়দান। দশেরা, দীপাবলির মতো নানা ধর্মীয় অনুষ্ঠানের জন্য বাকি দিনগুলির ‘বুকিং’ ইতিমধ্যেই হয়ে গিয়েছে। ছোট এবং মাঝারি নানা অনুষ্ঠানের জন্যও মাঠটি ভাড়া নেন অনেকে।
এখন যে জায়গাটি রামলীলা ময়দান নামে পরিচিত, ১৯৩০ সাল পর্যন্ত সেখানে একটি পুকুর ছিল। তার পর সেটি বুজিয়ে মাঠ তৈরি করা হয়। রামলীলা উৎসবের জন্য মাঠটি ব্যবহার করা হত। সেখান থেকেই এটির নাম হয় রামলীলা ময়দান। স্বাধীনতার পর পাকিস্তান থেকে আগত উদ্বাস্তুদের অস্থায়ী আশ্রয়শিবির হয়েছিল সেখানে। তার পর থেকে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সংগঠন এই মাঠে সভা-সমাবেশ করেছে। এখানে সভা করেছেন জওহরলাল নেহরু, ইন্দিরা গাঁধী, জয়প্রকাশ নারায়ণ, শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়। ১৯৬২ সালে এই মাঠেই রানি এলিজ়াবেথকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছিল। ২০১৩, ২০১৫ এবং ২০২০ সালে রামলীলা ময়দানেই দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছিলেন আপ প্রধান অরবিন্দ কেজরীবাল।
