গায়েহলুদের রাতে কফিনে নিথর দেহ: তরুণ প্রকৌশলীর মৃত্যুতে শোকে স্তব্ধ দুই পরিবার
আজ শুক্রবার বাদ জুমা বিয়ের পিঁড়িতে বসার কথা ছিল তরুণ প্রকৌশলী আরিফ শাহরিয়ারের (২২)। আগামীকাল শনিবার ছিল বউভাতের আয়োজন। কিন্তু বিয়ের ঠিক আগের দিন বৃহস্পতিবার....
প্রতিনিধিআজ শুক্রবার বাদ জুমা বিয়ের পিঁড়িতে বসার কথা ছিল তরুণ প্রকৌশলী আরিফ শাহরিয়ারের (২২)। আগামীকাল শনিবার ছিল বউভাতের আয়োজন। কিন্তু বিয়ের ঠিক আগের দিন বৃহস্পতিবার রাতে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে তিনি মারা যান। উৎসবের অপেক্ষায় থাকা বর ও কনের সাজানো বাড়িতে এখন কেবলই শোকের মাতম।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, গাইবান্ধা শহরের ডেভিড কোম্পানিপাড়ার বাসিন্দা আরিফ সম্প্রতি ঢাকার নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিকস ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে (ইইই) পড়াশোনা শেষ করে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করছিলেন।
বিয়ের জন্য এক মাস আগে তিনি বাড়িতে আসেন। কনের বাড়ি গাইবান্ধা সদরের বল্লমঝাড় এলাকায়। বিয়ের সব প্রস্তুতি যখন সম্পন্ন, ঠিক তখনই বৃহস্পতিবার রাতে গায়েহলুদের বদলে গাইবান্ধা মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রের কফিনে রাখা হয় তাঁর নিথর দেহ।

পরিবারের ধারণা, আরিফ ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছিলেন। তাঁর বোন শারমিন সুলতানার অভিযোগ, চার দিন ধরে জ্বরে ভোগা আরিফকে বৃহস্পতিবার সকালে শহরের একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে নেওয়া হলে চিকিৎসায় দীর্ঘ সময় অবহেলা করা হয়।
পরে বিকেলে অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানেও জরুরি বিভাগের সামনে দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষায় থাকতে হয়। অবশেষে রাত পৌনে ৮টার দিকে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
অভিযুক্ত মাইশা ডায়াগনস্টিক সেন্টারের পরিচালক কাইয়ুম মিয়া জানান, তাঁরা রোগীকে দ্রুত জেনারেল হাসপাতালে ভর্তির পরামর্শ দিলেও পরিবার তাঁকে বাড়িতে নিয়ে যায়।
অন্যদিকে, গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালের চিকিৎসক মেহেদী হাসান জানান, রোগীকে হাসপাতালে মৃত অবস্থায় আনা হয়েছিল। তাঁর ডেঙ্গুর উপসর্গ ছিল না; পূর্বের রিপোর্ট ও লক্ষণ অনুযায়ী তিনি টাইফয়েডে আক্রান্ত ছিলেন এবং সম্ভবত স্ট্রোক বা হৃদ্রোগে তাঁর মৃত্যু হয়েছে।
আজ শুক্রবার বাদ জুমা গাইবান্ধা শহরের রেলস্টেশন জামে মসজিদে আরিফের জানাজা শেষে পৌর কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হয়েছে।
বাংলাদেশ জার্নাল/ওএফ
