নোয়াখালী জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনের একটি চত্বরের নাম ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দুইবার পরিবর্তিত হয়েছে। গত ৬ বছরে স্থানটির নাম মোট চারবার পরিবর্তন করা হলো। সর্বশেষ শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) জুমার নামাজের পর ‘স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান চত্বর’-এর ব্যানার খুলে ফেলে সেখানে ‘হাদি চত্বর’ ঘোষণা করেন জুলাইয়ের আহত যোদ্ধা ও আজাদী মঞ্চের সদস্যরা।
এর আগে বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) বিকেলে নোয়াখালী জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের আহ্বায়ক ও বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল কালাম আজাদের নেতৃত্বে কয়েকজন মুক্তিযোদ্ধা ওই চত্বরের ‘হাদি চত্বর’-এর ব্যানার খুলে ফেলেন। এরপর সেখানে ‘স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান চত্বর’ নামে একটি নতুন ব্যানার টাঙিয়ে দেন।
এ সময় বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘স্বাধীনতার ৫৪ বছর পেরিয়ে গেলেও নোয়াখালীতে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে যথাযথভাবে সম্মানিত করা হয়েছে বলে আমার মনে হয় না। সেই উপলব্ধি থেকেই তার নামে একটি চত্বরের নামকরণ করে তাকে সম্মান জানানোর উদ্যোগ নিয়েছি।’
তবে তার এমন কর্মকাণ্ডে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন বিএনপির স্থানীয় নেতাকর্মীরা।
জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক নুরুল আমিন খান বলেন, ‘বিএনপি সস্তা রাজনীতি করে না এবং ব্যক্তিগত উদ্যোগে করা এমন কর্মকাণ্ডের দায় দল নেবে না।’
এ বিষয়ে ‘স্টার নিউজ’-এর পক্ষ থেকে জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল কালাম আজাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘আগামীকাল সকালে জেলা প্রশাসকের সঙ্গে আমার মিটিং আছে, তারপর আমি সিদ্ধান্ত জানাব।’
তবে শহীদ জিয়ার ব্যানার সরিয়ে হাদির ব্যানার লাগানোর বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না বলে প্রতিবেদককে জানান।
একই স্থানে বারবার নাম পরিবর্তনের ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। এ নিয়ে নানা আলোচনা-সমালোচনা চলছে সাধারণ মানুষের মাঝে। অনেকের মতে, নতুন কোনো স্থাপনা বা চত্বর নির্মাণ না করে বিদ্যমান স্থাপনাগুলোর নাম বারবার পরিবর্তন করা সুস্থ রাজনৈতিক চর্চার পরিপন্থী।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, যখন যে দল বা সরকার ক্ষমতায় আসে, তখন তাদের পছন্দের নামে চত্বরটির নামকরণ করা হয়। ২০২০ সালে মুজিববর্ষ উপলক্ষে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকীর স্মারক হিসেবে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে ‘বঙ্গবন্ধু ম্যুরাল ও মুজিব চত্বর’ স্থাপন করা হয়। তৎকালীন জেলা প্রশাসক তন্ময় দাসের সভাপতিত্বে আয়োজিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এটি উদ্বোধন করেন নোয়াখালী-৪ আসনের তৎকালীন সংসদ সদস্য একরামুল করিম চৌধুরী।
পরবর্তী সময়ে ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর, ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ ওসমান হাদির গায়েবানা জানাজা শেষে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনের ওই চত্বরের নাম ‘ওসমান হাদি চত্বর’ ঘোষণা করেন জুলাই সর্বদলীয় ঐক্যজোটের নেতাকর্মীরা। সে সময় নোয়াখালী জেলা বিএনপির সদস্যসচিব হারুনুর রশীদ আজাদসহ জামায়াত, শিবির ও জাতীয় নাগরিক কমিটির (এনসিপি) নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন বলে জানা যায়।
নোয়াখালী জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মাহবুব আলমগীর আলো স্টার নিউজকে বলেন, ‘আমাদের জেলা বিএনপির সঙ্গে যোগাযোগ না করে বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল কালাম আজাদ ব্যানার লাগিয়েছেন, আমরা তা সমর্থন করি না। আমাদের প্রধানমন্ত্রী ছবি বা ব্যানার নিয়ে রাজনীতি করেন না। দুপুরের পরে শুনেছি জিয়াউর রহমানের ব্যানার সরিয়ে আবার হাদির ব্যানার লাগানো হয়েছে। তবে আমরা কোনো ব্যানার সরানোর সঙ্গে যুক্ত নই।’
আজাদী মঞ্চের সাংগঠনিক সম্পাদক জোনায়েত হোসেন আপন বলেন, ‘‘আমরা রাত পর্যন্ত ব্যানার সরানোর আল্টিমেটাম দিয়েছিলাম জেলা বিএনপিকে। সকাল পর্যন্ত দেখলাম ব্যানার সরেনি। পরে দুপুরের দিকে এসে দেখি শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ছবি নেই, কে বা কারা ছবি সরিয়েছে তা আমরা জানি না। পরে আমরা হাদির ছবি লাগিয়ে পুনরায় ‘হাদি চত্বর’ ঘোষণা করি।”
