মা-ভাইয়ের কথা বলতে গিয়ে কান্না দিদি আগমনী বেজেরনিজস্ব চিত্র
Published on
:
2 min read
চোরবাগান সর্বজনীনে ঠাকুর দেখতে যাওয়ার একটুও ইচ্ছা ছিল না সন্দীপ বেজের (১৪)। সব বন্ধুবান্ধব তো মাধবডিহি গ্রামে। কী হবে কলকাতায় গিয়ে? কিন্তু মা’কে ছেড়ে থাকতে পারবে না বলেই যেতে বাধ্য হয়েছিল। রবিবার গ্রামে ফেরার কথা ছিল। কিন্তু ফিরল সন্দীপ ও তাঁর মা টগর বেজের (৩৭) নিথর দেহ। সন্ধ্যাতেই শেষকৃত্য হয়েছে তাঁদের। আগামী কাল, মঙ্গলবার সন্দীপের বাড়ি যাওয়ার কথা রয়েছে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর।
কলকাতায় ঠাকুর দেখতে যাবে বলে মা টগর বেজ আর দিদি আগমনী বেজের সঙ্গে হুগলিতে মামাবাড়ি গিয়েছিল সন্দীপ। তার পরে পরিবারের আট সদস্য যান কলকাতায় ঠাকুর দেখতে। সন্ধ্যা নাগাদ পৌঁছন চোরবাগান সর্বজনীনে। কিছুক্ষণের মধ্যেই ভিড়ের চাপে বিপর্যয় ঘটে। সেই ঘটনার কথা ভাবলে এখনও শিউরে উঠছেন সন্দীপের দিদি আগমনী।
ঠাকুর দেখে বেরোনোর সময়েই বুঝতে পারেন চাপ বাড়ছে। আগমনীর কথায়, ‘আমি সামনে ছিলাম। মা ভাইয়ের হাত ধরে পিছন পিছন হাঁটছিল। একসময় মা আমার কাঁধে মাথা রেখে হেলে পড়ে।’ ভেবেছিলেন, মা বোধহয় অজ্ঞান হয়ে গিয়েছেন। তিনি নিজেও জ্ঞান হারান। আগমনী বলেন, ‘জ্ঞান ফেরার পরে আর কাউকে দেখতে পাইনি।’ পরে হাসপাতালে ছুটে যান তিনি। সেখানেই মা, ভাই আর পিসির মৃত্যু সংবাদ পান।
সপ্তমীর রাতেই মাধবডিহির পঞ্চগ্রামে পৌঁছয় সন্দীপ আর টগরের মৃত্যুসংবাদ। পাড়ায় তখন পুজো উপলক্ষে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান চলছিল। খবর পৌঁছতেই বন্ধ করে দেওয়া হয় গান-নাটক। থেমে যায় মাইক। রবিবার বিকেলে টগর আর সন্দীপের মৃতদেহ পৌঁছয় গ্রামে। সন্ধ্যাতেই শেষকৃত্য হয় তাঁদের।
বারপুর পাষণ্ডা হাইস্কুলের অষ্টম শ্রেণির ছাত্র সন্দীপ। মিশুকে স্বভাবের কারণে পাড়ার সকলের প্রিয় ছিল সে। ছেলের মৃত্যুতে কার্যত হাহাকার করে উঠলেন বাবা সঞ্জয় বেজ। কোনও রকমে বললেন, ‘সব শেষ হয়ে গেল। এখন মেয়েটাই ভরসা।’ ফুটফুটে কিশোরের মৃত্যু মেনে নিতে পারছেন না প্রতিবেশীরাও। গ্রামের বাসিন্দা রামকুমার ভট্টাচার্যর কথায়, ‘স্কুলে যাওয়ার সময়ে প্রতিদিন পাড়ার প্যান্ডেল থেকে একবার ঘুরে যেত। কী ভাবে যে এমনটা হয়ে গেল, ভাবতেও পারছি না।’
আগামী কাল সন্দীপের বাড়ি যাওয়ার কথা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর। মৃতদের পরিবারকে ২৫ লক্ষ টাকা আর্থিক সাহায্যের ঘোষণা করেছেন তিনি। সঞ্জয়ের হাতে সেই টাকা তুলে দিতে পারেন তিনি।
