চট্টগ্রামের পটিয়ায় মো. আলমগীর আলম নামে এক কাভার্ডভ্যানের চালককে অজ্ঞান করে প্রায় ১৬ লাখ টাকা মূল্যের ১৫ টন চিনিসহ একটি কাভার্ডভ্যান ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে। আজ বুধবার ভোরে উপজেলার মনসা বাদামতল এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
ছিনতাইয়ের শিকার কাভার্ডভ্যানের চালক মো. আলমগীর আলম (৪৫) চাঁদপুরের বাসিন্দা আনোয়ার হোসেনের ছেলে।
উদ্ধারকারী ব্যক্তি অপর এক কাভার্ডভ্যানের চালক আবুল কালাম জানান, রাস্তার পাশে আলমগীরকে অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে তিনি তাকে হাসপাতালে নিয়ে যান। এ সময় আলমগীরের মুখ দিয়ে ফেনা বের হচ্ছিল। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে গাড়ি চালানোর সুবাদে তদের মধ্যে পরিচয় ছিল।
পটিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. শামা বলেন, ‘অচেতন অবস্থায় ওই ব্যক্তিকে হাসপাতালে আনা হয়েছে। তার শরীরে চেতনানাশক কোনো পদার্থ প্রবেশ করেছে বলে মনে হচ্ছে। তকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। জ্ঞান ফিরতে সময় লাগতে পারে।’
ছিনতাই হওয়া কাভার্ডভ্যানটির মালিক জাহিদ ট্রেড অ্যান্ড ট্রান্সপোর্টের স্বত্বাধিকারী জাকির হোসেন জানান, গত মঙ্গলবার রাত ১১টার দিকে গাড়িটি মইজ্যারটেক এলাকায় ছিল। সে সময় চালক গাড়ির কিছু যান্ত্রিক ত্রুটির কথা তাকে জানিয়েছিলেন। আজ সকাল ৯টার দিকে চালককে অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকার খবর পান তিনি।
জাকির হোসেনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, চিনি নিয়ে কাভার্ডভ্যানটি চট্টগ্রামের উদ্দেশে রওনা হয়েছিল। পথে চট্টগ্রাম নগরের নাসিরাবাদ এলাকায় একটি প্রতিষ্ঠানে ১৩ টন চিনি সরবরাহ করা হয়। এরপর পটিয়ার উদ্দেশে আরও ১৫ টন চিনি নিয়ে গাড়িটি রওনা হয়। পরে চিনিসহ কাভার্ডভ্যানটি ছিনতাই হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। লুট হওয়া চিনির বাজারমূল্য প্রায় ১৬ লাখ টাকা বলেও জানান তিনি।
চিনি সরবরাহকারী ব্যবসায়ী সিরাজুল ইসলাম ছিনতাইয় ঘটনায় কাভার্ডভ্যানের চালককে সন্দেহ করছেন।
তিনি বলেন, ‘মঙ্গলবার রাতে কথা বলার সময় চালক গাড়ির সমস্যার কথা জানান। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে আসল ঘটনা বেরিয়ে আসতে পারে।’
পটিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিয়াউল হক জিয়া বলেন, ‘এ ঘটনার বিষয়ে এখনো কোন লিখিত অভিযোগ পাননি। কিন্তু ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। তদন্ত শেষে বিস্তারিত জানা যাবে।’
