রিয়াল মাদ্রিদের ঘরের মাঠ সান্তিয়াগো বার্নাব্যূতে লা লিগার ম্যাচে রীতিমতো উড়ে গেছে সেভিয়া। দুই অর্ধে হজম করেছে ৪ গোল। ম্যাচ শেষ হয়েছে ৪-১ গোলে। বড় হারের পর রেফারি নিয়ে ক্ষোভ ঝেড়েছেন সেভিয়া কোচ লুইস গার্সিয়া।
ম্যাচের ২৫তম মিনিটেই সেভিয়া ফুটবলার পেকে ফার্নান্দেজকে কনুই দিয়ে মারাত্মক আঘাত করা সত্ত্বেও রিয়ালের আর্দা গুলারকে লাল কার্ড না দেওয়ায় ভিএআর ও বিচারকদের একহাত নিয়েছেন তিনি। তার দাবি, এই সিদ্ধান্ত অন্যায্যভাবে তার দলকে ম্যাচে ঘুরে দাঁড়ানোর সুবিধাজনক অবস্থান থেকে বঞ্চিত করেছে।
স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম 'স্পোর্ট'-এ প্রকাশিত সাক্ষাৎকারে লুইস গার্সিয়া ভিএআরের এমন কান্ডজ্ঞানহীন সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রকাশ্যে ক্ষোভ উগরে দেন।
সংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আশা করি আপনারাও সংবাদপত্রে একই শিরোনাম দেবেন যে—“একটি কনুই ও তাতেই সব শেষ”। কারণ ম্যাচ রেফারি আমাদের স্বাভাবিক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ একটা ম্যাচ খেলার অধিকার কেড়ে নিয়েছেন।’
সেভিয়া কোচ বলেন, ‘লা লিগার প্রতিযোগিতায় কোনো কোনো দিন আপনি প্রতিপক্ষের একজন কম থাকা বা লাল কার্ড দেখার সুবিধা নিয়ে খেলতে পারেন। আজ ২৫তম মিনিট থেকেই রিয়ালের ১০ জনের বিপক্ষে আমাদের ১১ জন নিয়ে খেলার কথা ছিল। কিন্তু ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি (ভিএআর) আমাদের সেই সুযোগ থেকে সরাসরি বঞ্চিত করেছে।’
ঘটনার বিস্তারিত জানিয়ে গার্সিয়া বলেন, ‘প্রথমার্ধের বিরতির সময় পেকে আমাকে এসে বলে যে, তাকে কনুই দিয়ে আঘাত করা হয়েছে। পরে আমি নিজে ভিডিও রিপ্লে দেখেছি, এটি শতভাগ স্পষ্ট লাল কার্ড ছিল। শুধু তাই নয়, রিয়ালের দ্বিতীয় গোলের সময়েও আমাদের খেলোয়াড় রুবিকে ফাউল করা হয়েছিল। যেটি স্পষ্টতই ফাউল হলেও রেফারি এড়িয়ে গেছেন।’
তবে রিয়াল ১০ জন নিয়ে খেললেই যে সেভিয়া ম্যাচটি জিতে যেত—এমন দাবি করেননি গার্সিয়া। তবে লড়াই করার সমান সুযোগ চেয়েছিলেন তিনি, ‘হয়তো ১০ জন নিয়ে খেললেও আমরা জিততে পারতাম না। কিন্তু ২৫তম মিনিট থেকে ১০ জনের বিরুদ্ধে ১১ জন নিয়ে লড়াই তো চালাতে পারতাম! ১১ জনের সঙ্গে ১১ জন লড়াইয়ের স্বাভাবিক অবস্থায় রিয়ালই জয়ের দাবিদার ছিল, এতে কোনো তর্ক নেই। কিন্তু ম্যাচটির অন্য একটি রূপ হতে পারত, যা আমাদের খেলতে দেওয়া হয়নি।’
ওই বিতর্কিত ঘটনার পর ভিএআর প্রযুক্তি দিয়ে বিভিন্ন দিক থেকে রিপ্লে দেখা হলেও বিচারকরা দাবি করেন—গুলার কতটা শক্তি প্রয়োগ করে কনুইয়ের আঘাত করেছেন, তার সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পাওয়া যায়নি। পর্যাপ্ত তথ্য না থাকার অজুহাতে অনফিল্ড রেফারিকে সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের সুপারিশও করেনি তারা।
ভিএআরের এই নীরবতা নিয়েই মূলত মোক্ষম সন্দেহ প্রকাশ করেছেন সেভিয়া কোচ, ‘ওই সিদ্ধান্ত এলে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ আমাদের হাতে আসত। আমি সত্যিই বুঝতে পারছি না কেন ভিএআর এতে হস্তক্ষেপ করল না! সম্ভবত তারা চায়নি আগামী সপ্তাহে বার্সেলোনার বিপক্ষে এল ক্লাসিকোর আগে রিয়াল পয়েন্ট টেবিলে ৯ পয়েন্টে পিছিয়ে পড়ুক—যদি আমরা ম্যাচটি জিতে যেতাম।’
আগামী সপ্তাহে ন্যু ক্যাম্পে 'এল ক্লাসিকো'তে মুখোমুখি হতে যাচ্ছে দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী রিয়াল মাদ্রিদ ও বার্সেলোনা। এর আগে সেভিয়াকে হারিয়ে ৩ পয়েন্ট বাগিয়ে নিয়ে শীর্ষ দল বার্সার সঙ্গে পয়েন্টের ব্যবধান ৬-এ নামিয়ে এনেছে রিয়াল মাদ্রিদ।
