টানা চতুর্থ দিনের মতো গতকাল বৃহস্পতিবারও রাজধানীর উত্তরায় মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন পোশাকশ্রমিকরা।
টানা চতুর্থ দিনের মতো গতকাল বৃহস্পতিবারও রাজধানীর উত্তরায় মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন পোশাকশ্রমিকরা। পরে পুলিশ লাঠিচার্জ ও সাউন্ড গ্রেনেড ছুড়লে তারা সড়ক ছেড়ে যেতে বাধ্য হন। মজুরি বাড়ানো, ন্যূনতম মূল বেতন ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণসহ অন্যান্য সুযোগ-সুবিধার দাবিতে এ দিন সকাল ১০টার দিকে বিভিন্ন কারখানার শ্রমিকেরা মহাসড়কের আজমপুর ও রাজলক্ষ্মী এলাকায় অবস্থান নেন। এতে সড়কে যানচলাচল বন্ধ হয়ে যায়। দুপুর ১২টার দিকে তারা সড়ক থেকে সরে যাওয়ার কয়েক ঘণ্টা পর যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
তবে এর আগে গুরুত্বপূর্ণ সড়কটি বন্ধ থাকায় ভোগান্তিতে পড়েন অফিসগামী ও দূরপাল্লার যাত্রীরা। টানা চতুর্থ দিনের মতো এদিন আন্দোলনে নামেন শ্রমিকরা। তাদের দাবি, নিত্যপণ্যের দামসহ জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় বর্তমানে বেতন দিয়ে সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। এ কারণে ন্যূনতম বেতন ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণসহ বিভিন্ন দাবিতে কয়েক দিন ধরে আন্দোলন করছেন তারা। সড়ক অবরোধের কারণে সকাল থেকেই ওই এলাকায় যানবাহনের দীর্ঘ সারি তৈরি হয়। বিশেষ করে দূরপাল্লার বাস ও অফিসগামী যাত্রীরা বেশি ভোগান্তিতে পড়েন। অনেকে দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পর বাস থেকে নেমে হেঁটেই গন্তব্যের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন। ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) উত্তরা বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মো. রেজাউল করিম বলেন, আন্দোলনকারীরা আনুমানিক দুপুর ১২টার দিকে সড়ক থেকে সরে গেছেন। এরপর ওই সড়কে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক হয়।
একজন পথচারি জানান, দুপুর সোয়া ১২টার দিকে পুলিশের লাঠিচার্জ ও সাউন্ড গ্রেনেডে নিক্ষেপের পর বিক্ষোভকারীরা মহাসড়ক থেকে সরে যান এবং দুই ঘণ্টা পর যান চলাচল স্বাভাবিক হয়। বিক্ষোভকারী শ্রমিকেরা জানান, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম অস্বাভাবিক হারে বেড়ে যাওয়ায় বর্তমান বেতনে সংসার চালানো তাদের জন্য অসম্ভব হয়ে পড়েছে। তাদের অভিযোগ, বকেয়া বেতন পরিশোধসহ অন্যান্য দাবি পূরণের জন্য কর্তৃপক্ষের কাছে বারবার আবেদন করা হলেও কোনো সমাধান পাওয়া যায়নি। শ্রমিকেরা জানান, দাবি আদায়ের লক্ষ্যে বাধ্য হয়েই তারা রাজপথে নামতে হয়েছে। পোশাকশ্রমিক রিফা বেগম বলেন, সরকার দাবি মেনে না নেওয়া পর্যন্ত তারা আন্দোলন চালিয়ে যাবেন। আরেক আন্দোলনকারী রুমি জানান, বর্তমান বেতনে সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়ায় তারা রাস্তায় নামতে বাধ্য হয়েছেন। তিনি বলেন, আমরা ৩০ হাজার টাকা বেতন চাই।
ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) উত্তরা বিভাগের উপ-কমিশনার রেজাউল করিম জানান, দুপুর সোয়া ১২টার দিকে পুলিশ আন্দোলনকারীদের রাস্তা থেকে সরে যাওয়ার জন্য অনুরোধ করে। একদল শ্রমিক সরে যেতে রাজি হলেও, অন্য একটি দল পুলিশের দিকে ইট-পাটকেল নিক্ষেপের চেষ্টা করে। এরপর পুলিশ তাদের ধাওয়া দিয়ে মহাসড়ক থেকে সরিয়ে দেয়।
এর আগের দিন বুধবারও বিমানবন্দর থেকে উত্তরার জসীমউদ্দীন পর্যন্ত সড়কের বিভিন্ন স্থানে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করেন শতাধিক পোশাকশ্রমিক। এতে দীর্ঘ সময় যান চলাচল বন্ধ থাকে। পরে বেলা দেড়টার দিকে শ্রমিকরা সড়ক ছেড়ে দিলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। ওই দিন শ্রমিকরা জানিয়েছিলেন, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাবেন। বৃহস্পতিবার আবারও সড়কে নামার ঘোষণাও দিয়েছিলেন তারা। কর্মসূচির ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার সকালে ফের সড়ক অবরোধ করেন শ্রমিকরা। তবে দুপুরে কর্মসূচি স্থগিত করে সড়ক ছেড়ে দেন তারা। পরবর্তী কর্মসূচির বিষয়ে নতুন কোনো ঘোষণা এখনো পাওয়া যায়নি।
