কালবেলা · সাধারণ
‘আপনারা এমপিকে পাত্তা দিচ্ছেন না’
১২/১০/২০২৬

রংপুর জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় জেলা প্রশাসনসহ সরকারি কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ক্ষোভ ও অভিযোগ তুলে ধরেছেন রংপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও জামায়াত নেতা মাহবুবুর রহমান বেলাল।
ওয়ারেন্ট অব প্রিসিডেন্সে সংসদ সদস্যদের মর্যাদা না দেওয়া, বিভিন্ন কমিটিতে এমপিদের প্রতিনিধি না রাখা এবং সার ডিলার নিয়োগে দলীয়করণের অভিযোগ করেন তিনি।
রোববার (১১ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে রংপুর জেলা প্রশাসনের সম্মেলন কক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় ডিসিসহ কর্মকর্তাদের উদ্দেশ করে এমপি বেলাল বলেন, ‘আপনারা এমপিদের পাত্তা দিচ্ছেন না। হোয়াই? হোয়াই? কি ভেবেছেন আপনারা? কি ভাবেন আপনারা? আপনারা আসমান থেকে আসছেন? মঙ্গলগ্রহ থেকে আসছেন? উই আর দ্য সন অফ দিস ল্যান্ড সয়েল। আমাদের জনগণ ভোট দিয়েছে। আমাদের পাত্তা দেন না কেন, কেন, কেন।’
তিনি বলেন, ‘ওয়ারেন্ট অব প্রিসিডেন্সতে এমপির কি মর্যাদা দেওয়া হয়েছে। আমি জানি, আপনারাও জানেন। অর্ডার অব প্রেসিডেন্সিটা আমি করি নাই, রাষ্ট্র করছে। সো ইউ সুড টু অনার দ্য এমপিস। টু কিপ দ্য রাইট অব দ্য এমপি’স। পরিষ্কার বলছি আমি। কমিটি হবে ইচ্ছামতো। মিটিং ইচ্ছামতো করবেন। ডিসিশন নেবেন ইচ্ছামতো। আর আমাদের মুলা ঝুলিয়ে রাখবেন। কলা দেখাবেন। আমরা অত বোকা না।’
ডিসিকে উদ্দেশ করে এমপি বেলাল আরও বলেন, ‘আমি আবার বলছি ফর ইউর কাইন্ড ইনফরমেশন। আমি ১ লাখ ৭৮ হাজার ভোট পেয়েছি। এই লোকেরা কি জন্য ভোট দিয়েছে আমাকে? ঘাস কাটার জন্য? শুধু সেজে দেখানোর জন্য? শুধু মিটিংয়ে এসে ইটিং করার জন্য? এটা তো না। আমি তাদের পক্ষে কথা বলব, তাদের স্বার্থ দেখব। এখানে স্বার্থ রক্ষা কোথায় করতে পারলাম আমি? যে একটা সার ডিলারশিপের জন্য, অনেক অভিজ্ঞ ব্যবসায়ী তো অ্যাপ্লাই করেছে, সব শর্ত ফুলফিল হয়েছে। বাট সে পাইলো না। পাইলো কে? এক দলীয় পরিচয়ে একটা বিশেষ লোক। যার কোনো এক্সপেরিয়েন্স নাই, কোনো গোডাউন নাই, কোনো সলভেন্সি নাই। তারপর সে কীভাবে পেল? তার একটা পরিচয়? সে সরকারি দলের লোক। এগুলো কোন কথা। খুবই দুর্ভাগ্যজনক লজ্জিতজনক।’
ডিসিকে উদ্দেশ্য করে এমপি বেলাল আরও বলেন, ‘আমি পরিষ্কার বলছি, ডিসি মহোদয়কে আবার বলছি। যে সমস্ত কমিটি আছে। এই কমিটিতে এমপির পক্ষে প্রতিনিধি থাকতে হবে। এমপি মানে জনগণের প্রতিনিধি। এমপি মানে জনগণের। এটা আমি বলছি। যদি না করেন। আমি পরিষ্কার বলছি, আমরা ভদ্রলোক। পাশাপাশি আমরা জনগণ কর্তৃক নির্বাচিত প্রতিনিধি। জনগণের ন্যায্য দাবিতে বাধ্য হয়ে আমাকে আন্দোলনে নামতে হবে। আমার মূল শক্তি হলো জনগণ। আপনার যে সরকারি দলের কথা বলছেন, তাদের প্রতি জনগণের সাপোর্ট কতটুকু আপনারা খেয়াল করে দেখেন। যদি পাবলিক খেপে যায়। তাহলে কিন্তু আপনারা সামনে কাউকে পাবেন না।’
ডিসিসহ কর্মকর্তাদের উদ্দেশ করে এমপি বেলাল বলেন, ‘পরিষ্কার বলে দিচ্ছি। জনগণকে সামলানোর সেই ক্ষমতা পুলিশের নাই, র্যাবের নাই, কারো নাই। পরিষ্কার আমি বলছি। পাবলিক অত বোকা আর নাই। পুলিশকে-র্যাবকে ভয় পায় না। তাদের ন্যায্য দাবি আদায় করার জন্য। আমাদের বাধ্য করবেন না থানায় ঘেরাও করার জন্য। আমাদের বাধ্য করবেন না ডিসি অফিস ঘেরাও করার জন্য। পরিষ্কার বললাম। আমি ভদ্রলোক। কিন্তু অভদ্র হতে আমাকে বাধ্য করবেন না। আপনারা দালালি করছেন।’
সার ডিলারের নজিরবিহীন দলীয়করণ প্রসঙ্গ টেনে এমপি বেলাল বলেন, ‘সারের বিষয়ে একটা লজ্জাজনক ন্যক্কারজনক দলীয়করণ হয়েছে। এটা আমি তীব্র নিন্দা করছি। সমস্ত ডিলার একটা দল থেকে নেওয়া হয়েছে। প্রকৃত ব্যবসায়ীরা বঞ্চিত হলো কেন? এখানে প্রকাশ্যে সারের ডিলার বিক্রি করা হয়েছে। আপনারা সবাই জানেন যে এক নাম্বার তালিকা পূরণ করেছেন ডিসি মহোদয়। এক নাম্বার সিরিয়ালের লোকটাকেই সিলেকশন দেওয়া হয়েছে। হোয়াট ডাজ মিন। তার মানে ডিসি এক নাম্বারকে দিয়েছে যেন এক নাম্বারই পাশ করে এই জন্য দিয়েছে। আমরা মনে করব। ডিসি সিদ্ধান্ত নিয়েছে। যে এক নম্বরের তালিকায় আমি ১০ জন দেই ১৫ জন দেই ২০ জন দেই ওই এক নাম্বারটাই সিলেকশন দিবেন।’
জেলার বিভিন্ন কমিটি প্রসঙ্গে এমপি বেলাল বলেন, ‘জেলায় অনেক কমিটি আছে। আপনারা জানেন অনেক কমিটি। কিন্তু এমপির কয়জন প্রতিনিধি সেখানে আছে। সেখানে স্পষ্ট বলা আছে এমপি প্রতিনিধি থাকবে সেটা ও নাই। এবং সমস্ত একটা বিশেষ দল তা কুক্ষিগত করে নিয়েছে। এটা কি গণতন্ত্র। এতে কি জনগণের মতের প্রতিফলন হবে?’
সভাপতির বক্তব্যে ডিসি ইসরাত জাহান বলেন, ‘এখানে আবেগ তাড়িত হয়ে এত বড় ফোরামে অনেক কিছু আমরা বলেছি। তবে আমার মনে হয় যে আমাদের সকল সদস্যকেই শব্দ চয়নের ক্ষেত্রে আরেকটু সতর্কভাবে কথা বলা দরকার আছে। কারণ এটি একটি জেলার সর্বোচ্চ ফোরাম। এখানে সকল সরকারি কর্মকর্তারা আছেন। সকলে এখানে যোগ্যতার ভিত্তিতে লিখিত পরীক্ষার মাধ্যমে উত্তীর্ণ হয়ে নিয়োগ প্রাপ্ত হয়েছেন। আমার মনে হয় যে কাকে কীভাবে কতটুকু বলব এটার ক্ষেত্রে আমাদের সকলেরই মানে সম্মান রেখে কথা বলার সুযোগ আছে। বিশেষ করে শব্দ চয়নের ক্ষেত্রে। আমরা কোন ভাষায় কি শব্দ বলব কোন জায়গায় বলব আমাদের এটি আসলে সকলের খেয়াল রাখার সুযোগ আছে।’
সভায় জেলা প্রশাসক ইসরাত জাহানের সভাপতিত্বে সভায় রংপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য রায়হান সিরাজী, রংপুর-৫ আসনের গোলাম রব্বানী ও রংপুর-৬ আসনের নুরুল আমিন উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া মহানগর ও জেলা পুলিশসহ জেলার শীর্ষ কর্মকর্তারা সভায় অংশ নেন।
মূল প্রতিবেদনে যান ↗