রাজ্যে পালাবদলের পর একাধিক জায়গা থেকে বাদ পড়েছে বিশ্ববাংলার লোগো। বদল হয়েছে বহু প্রকল্পের নামও। এবার বদলে গেল শান্তিনিকেতনের প্রান্তিকে ‘বিশ্ববাংলা শিল্পী হাট’-এর নামও। নতুন নাম হয়েছে ‘পশ্চিমবঙ্গ শিল্পী হাট’। হাটের নীল-সাদা সাইনবোর্ড ইতিমধ্যেই সরিয়ে বসানো হয়েছে গেরুয়া রঙের নতুন বোর্ড। তবে শুধু নাম পরিবর্তন নয়, দীর্ঘদিন ধরে প্রচার ও প্রসারের অভাবে ধুঁকতে থাকা এই হস্তশিল্পের কেন্দ্রকে নতুন করে সাজিয়ে তুলতে উদ্যোগী হয়েছে রাজ্যের ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি উদ্যোগ এবং বস্ত্র দপ্তর। পুজোর পর নতুন আঙ্গিকে হাটটি চালু করার পাশাপাশি শিল্পীদের আর্থিকভাবে লাভবান করতে একাধিক পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। ২০২৭ সালের মার্চ মাস পর্যন্ত রাজ্যস্তরের ছ’টি হস্তশিল্প মেলার আয়োজনের পরিকল্পনাও করা হয়েছে। প্রশাসনের এই উদ্যোগ ঘিরে নতুন করে আশার আলো দেখছেন স্থানীয় হস্তশিল্পীরা।
দপ্তরের এক আধিকারিক বলেন, “বিশ্ববাংলা শিল্পী হাটের নাম পরিবর্তন করে পশ্চিমবঙ্গ শিল্পী হাট করা হয়েছে। শিল্পীদের কথা মাথায় রেখে একাধিক কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। ২০২৭ সালের মার্চ মাস পর্যন্ত রাজ্যস্তরের ছ’টি হস্তশিল্প মেলার আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে। এরফলে শিল্পীরা উপকৃত হবেন, পাশাপাশি হাটটির প্রচারও বাড়বে।”
২০১৪ সালে শান্তিনিকেতনের প্রান্তিকে হস্তশিল্পীদের জন্য এই হাটের উদ্বোধন করেছিলেন তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রান্তিক রেলস্টেশনের কাছেই সোনাঝুরি থেকে কংকালীতলা যাওয়ার রাস্তার বাঁ দিকে প্রায় চার একর জমির উপর গড়ে উঠেছে এই শিল্পী হাট। এখানে স্থায়ীভাবে প্রায় ১৩০ জন হস্তশিল্পীর বসে তাঁদের সামগ্রী বিক্রির ব্যবস্থা রয়েছে। আধুনিক বৈদ্যুতিক আলোর ব্যবস্থা রয়েছে এবং দূরদূরান্ত থেকে আসা শিল্পীদের থাকার জন্য আবাসনও। হাটের সামনের দিকে প্রায় ৭০টি এবং ভিতরে আরও ৩০টি দোকানঘর রয়েছে। পরিকাঠামো থাকা সত্ত্বেও যথাযথ প্রচার ও পর্যটকদের আকৃষ্ট করার উদ্যোগের অভাবে দীর্ঘদিন ধরেই প্রত্যাশিত সাফল্য পায়নি এই হাট।
শান্তিনিকেতনে পর্যটকদের অন্যতম আকর্ষণ সোনাঝুরির খোয়াই হাট। সারা বছর সেখানে পর্যটকদের ভিড় লেগেই থাকে। অথচ কাছেই প্রান্তিকের শিল্পী হাটে সেই অনুপাতে ক্রেতা ও পর্যটকদের সমাগম হয়নি বলে অভিযোগ শিল্পীদের। ফলে আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হয়েছে তাঁদের। সরকারি উদ্যোগে নিয়মিত হস্তশিল্প মেলা, প্রচার এবং পর্যটকদের জন্য বাড়তি আকর্ষণের ব্যবস্থা করা গেলে এই পরিস্থিতি বদলাতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল।
দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, নতুন নামে হাটটির পরিচিতি বাড়ানোর পাশাপাশি বছরভর একাধিক হস্তশিল্প মেলার আয়োজনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। ২০২৭ সালের মার্চ পর্যন্ত রাজ্যস্তরের ছ’টি মেলার মাধ্যমে শিল্পীদের তৈরি সামগ্রী আরও বেশি ক্রেতার কাছে পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের খাবারের স্টল, জেলার পর্যটন ও ভ্রমণ-সহায়ক পরিষেবা, হারিয়ে যেতে বসা সংস্কৃতির পরিচিতি এবং স্থানীয় খাবারের সম্ভার গড়ে তোলার পরিকল্পনাও রয়েছে। এর ফলে হস্তশিল্পীদের বিক্রিবাটা বাড়ার পাশাপাশি স্থানীয় যুবক-যুবতীদের কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ তৈরি হতে চলেছে।
দপ্তরের এক আধিকারিক বলেন, “বিশ্ববাংলা শিল্পী হাটের নাম পরিবর্তন করে পশ্চিমবঙ্গ শিল্পী হাট করা হয়েছে। শিল্পীদের কথা মাথায় রেখে একাধিক কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। ২০২৭ সালের মার্চ মাস পর্যন্ত রাজ্যস্তরের ছ’টি হস্তশিল্প মেলার আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে। এরফলে শিল্পীরা উপকৃত হবেন, পাশাপাশি হাটটির প্রচারও বাড়বে।” নতুন নাম, মেলার আয়োজন এবং পর্যটনকেন্দ্রিক পরিষেবার পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে প্রান্তিকের এই শিল্পী হাট শান্তিনিকেতনের পর্যটন মানচিত্রে নতুন করে জায়গা করে নিতে চলেছে হস্তশিল্পীদের হাট।
