আন্তর্জাতিক ডেস্ক: চীনের নিয়ন্ত্রণাধীন তিব্বত অঞ্চলের নাগকু শহরের বাকেন কাউন্টিতে ৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। এতে অন্তত ১৬ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও ৪৬ জন। ধসে পড়েছে ও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে শত শত বাড়িঘর। উদ্ধার ও ত্রাণ তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।
২৩ অক্টোবর শুক্রবার চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম সিনহুয়া ও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
স্থানীয় সময় ২২ অক্টোবর বৃহস্পতিবার রাত ১০টা ৩৩ মিনিটে ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল বাকেন কাউন্টির মারু এলাকায়। চীনের ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল ভূপৃষ্ঠের প্রায় ১০ কিলোমিটার গভীরে।
তিব্বতের রাজধানী লাসা থেকে প্রায় ৩৯০ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে অবস্থিত দুর্গম পাহাড়ি এলাকাটিতে ভূমিকম্পের পর একাধিক পরাঘাত অনুভূত হয়। এতে বিভিন্ন স্থানে যোগাযোগব্যবস্থা ব্যাহত হয়েছে। পাথরধসের কারণে জাতীয় মহাসড়কের একটি অংশে যান চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। উদ্ধার ও জরুরি সহায়তাকারী যানবাহনকে চলাচলের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় কর্তৃপক্ষের বরাত দিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভূমিকম্পে অন্তত ৩৩৯টি বাড়িঘর ধসে পড়েছে বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আহতদের মধ্যে ১১ জনের অবস্থা গুরুতর। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ এবং হতাহতদের উদ্ধারে কাজ করছেন উদ্ধারকর্মীরা।
উদ্ধারকাজে ফায়ার সার্ভিসের ৩৪৭ জন সদস্য, ৮২টি অগ্নিনির্বাপণ ও উদ্ধারযান এবং অনুসন্ধানী কুকুর মোতায়েন করা হয়েছে। এ ছাড়া ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় জরুরি আশ্রয়, তাঁবু, শীতবস্ত্র ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী পাঠানো হচ্ছে। দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় যোগাযোগব্যবস্থার বিঘ্ন উদ্ধার তৎপরতাকে আরও কঠিন করে তুলেছে।
উচ্চভূমির এই অঞ্চলটি ভূমিকম্পপ্রবণ হিসেবে পরিচিত। এর আগে ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে তিব্বতের ডিংরি কাউন্টিতে ৬ দশমিক ৮ মাত্রার ভূমিকম্পে অন্তত ১২৬ জন নিহত হন।
এটিভি/এসআইআর
