ইরাকের অভ্যন্তরে পরামর্শক কিংবা নিয়মিত কোনো ধরনের মার্কিন সেনাসদস্য আর অবশিষ্ট নেই বলে আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছে বাগদাদ। একই সঙ্গে আগামী ২০২৭ সালের ৩০ জুনের মধ্যে দেশের সব ধরনের অস্ত্র কেন্দ্রীয় সরকারের নিয়ন্ত্রণে ফিরিয়ে আনার সিদ্ধান্তের কথাও জানানো হয়েছে। তুরস্কের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আনাদোলু এজেন্সির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।
ইরাকি নিউজ এজেন্সিকে (আইএনএ) দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে দেশটির প্রধানমন্ত্রী আলি ফালিহ আল-জাইদি জানান, ভূখণ্ড থেকে বিদেশি বাহিনীর বিদায় নিশ্চিত হওয়ার পর স্থানীয় সশস্ত্র দলগুলোর অস্ত্র ধরে রাখার আর কোনো যৌক্তিকতা নেই। এ লক্ষ্যে ইতিমধ্যে তিনটি প্রভাবশালী গোষ্ঠীর সঙ্গে সমঝোতা হয়েছে এবং বাকি চারটি দলের সঙ্গে আলোচনা চলছে। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, কোনো গোষ্ঠীর ছায়াতলে রাষ্ট্র চলতে পারে না, বরং রাষ্ট্রের কর্তৃত্বের ভেতরেই সবাইকে পরিচালিত হতে হবে।
সরাসরি সামরিক উপস্থিতি শেষ হলেও অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা জোরদারের লক্ষ্যে ওয়াশিংটনের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত অংশীদারিত্ব বজায় রাখার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন আল-জাইদি। তিনি জানান, মার্কিন বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলো ইতোমধ্যে দেশটিতে পুনর্গঠনমূলক কার্যক্রম শুরু করেছে। মূলত ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরের দ্বিপক্ষীয় চুক্তির ধারাবাহিকতায় গত ৩০ সেপ্টেম্বর এরবিল বিমান ঘাঁটি ছেড়ে যায় বিদেশি সেনারা, যার মধ্য দিয়ে ইসলামিক স্টেট (আইএস) বিরোধী আন্তর্জাতিক সামরিক অভিযানের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘটে।
মধ্যপ্রাচ্যের সার্বিক অস্থিতিশীলতা প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট করেন যে ইরাক কোনো প্রকার সামরিক সংঘাতে জড়াবে না। পাশাপাশি প্রতিবেশী ইরানের সঙ্গে সীমান্ত বন্ধের যেকোনো পদক্ষেপ অর্থনৈতিকভাবে আত্মঘাতী হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। হরমুজ প্রণালির সংকটের কারণে তেলের বৈশ্বিক বাজারমূল্যের সুবিধা আদায়ে তুরস্কের জেহান বন্দরের মাধ্যমে পুনরায় জ্বালানি তেল রপ্তানি চালুর সিদ্ধান্তের কথা জানান আল-জাইদি। ২০৩২ সালের মধ্যে দৈনিক তেল উৎপাদন এক কোটি ব্যারেলে উন্নীত করার মেগা পরিকল্পনা রয়েছে তাদের। এ ছাড়া আঞ্চলিক যোগাযোগের ক্ষেত্রে তুরস্কের সঙ্গে প্রস্তাবিত 'ডেভেলপমেন্ট রোড' প্রকল্পকে ইরাকের 'তৃতীয় নদী' হিসেবে আখ্যা দেন তিনি।
